খালেদা জিয়া ‘বিপদমুক্ত’
jugantor
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল
খালেদা জিয়া ‘বিপদমুক্ত’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া। দলের চেয়ারপারসনের সবশেষ অবস্থা জানাতে সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একদম সুস্থ আছেন। তার সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার (খালেদা জিয়া) ভাই শামীম এস্কান্দার কথা বলেছেন। চিকিৎসকরা আমাকে নিশ্চিত করেছেন, তিনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। তিনি বিপদমুক্ত। শি ইজ আউট অব এভরি থিং। অর্থাৎ কোনো রকম বিপদের সম্ভাবনা নেই বলে তারা (চিকিৎসকরা) মনে করেন।’

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া। খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা যদি না পায় তার জন্য সরকারকেই ‘একশ ভাগ’ দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বায়োপসি হয়েছে এবং তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। উনার শরীরের এক জায়গায় ছোট একটা লাম্প আছে। এই লাম্পের নেচার অব অরিজিন জানতে হলে বায়োপসি করা প্রয়োজন। সেজন্য আজকে (সোমবার) উনাকে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে সেটি করা হয়েছে।’

বায়োপসির পর উনি সুস্থ আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বায়োপসি পরবর্তীতে উনার প্যারামিটারসগুলো এই মুহূর্তে স্টেবল আছে। উনি সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ বলেন, বায়োপসি মানে চিকিৎসা না। বায়োপসি মানে হচ্ছে একটা ডায়াগনস্টিক প্রসেসের পার্ট এবং এই প্রসেসটা পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে সেই পরীক্ষার ওপর বেজ করে নির্ধারিত হবে। উনার বয়স ৭৬ বছর। উনার আরও যেসব জটিলতা আছে সেগুলো মাথায় রেখে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য একটা ডেডিকেটেড ডেভেলপড সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন বলে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড মত দিয়েছে। লাম্প কী জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, লাম্প শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট চাকা। এটা ১.২ সেন্টিমিটারের মতো হবে। শরীরের কোথায় লাম্প জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রত্যেক রোগীর তার প্রাইভেসি বলে লিগ্যালাইজ বিষয় আছে। আশা করি এ ব্যাপারে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। বায়োপসির প্রতিবেদন কবে নাগাদ হাতে আসে জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, বায়োপসির ফল পেতে সায়েন্টিফিক্যালি ৭২ ঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিন থেকে ২১ দিন সময় লাগে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, অপারেশনের আগে খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। লাম্পে ক্যানসারের জীবাণু আছে কি-না তা নির্ণয় করতে এফএনএসিও করা হয়েছে। কিন্তু তাতে খারাপ কিছু ছিল না। ক্যানসারের জীবাণু না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার অপারেশন করা হয়। নিয়মানুযায়ী তা বায়োপসি করতে দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব খারাপ বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। গণমাধ্যম কেন এত দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে। নিশ্চিত হয়েই তাদের খবর প্রকাশ করা উচিত। মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসক এমনকি মেডিকেল বোর্ড বারবার বলে আসছেন যে, তার যে মাল্টিডিসিপ্লিনারি ডিজিস আছে এগুলোর পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। এজন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারটুকু পাচ্ছেন না। সরকার তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে আইনগত কোনো বাধা আছে বলে আমরা মনে করি না। সরকার এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাছাড়া তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুদিন আগে থেকে তার শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর গত দুই সপ্তাহে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

খালেদা জিয়া ‘বিপদমুক্ত’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন সুস্থ আছেন খালেদা জিয়া। দলের চেয়ারপারসনের সবশেষ অবস্থা জানাতে সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একদম সুস্থ আছেন। তার সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার (খালেদা জিয়া) ভাই শামীম এস্কান্দার কথা বলেছেন। চিকিৎসকরা আমাকে নিশ্চিত করেছেন, তিনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। তিনি বিপদমুক্ত। শি ইজ আউট অব এভরি থিং। অর্থাৎ কোনো রকম বিপদের সম্ভাবনা নেই বলে তারা (চিকিৎসকরা) মনে করেন।’

উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া। খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসা যদি না পায় তার জন্য সরকারকেই ‘একশ ভাগ’ দায়-দায়িত্ব বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বায়োপসি হয়েছে এবং তাতে কোনো সমস্যা হয়নি। উনার শরীরের এক জায়গায় ছোট একটা লাম্প আছে। এই লাম্পের নেচার অব অরিজিন জানতে হলে বায়োপসি করা প্রয়োজন। সেজন্য আজকে (সোমবার) উনাকে ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) নিয়ে সেটি করা হয়েছে।’

বায়োপসির পর উনি সুস্থ আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বায়োপসি পরবর্তীতে উনার প্যারামিটারসগুলো এই মুহূর্তে স্টেবল আছে। উনি সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ বলেন, বায়োপসি মানে চিকিৎসা না। বায়োপসি মানে হচ্ছে একটা ডায়াগনস্টিক প্রসেসের পার্ট এবং এই প্রসেসটা পরবর্তী চিকিৎসা কী হবে সেই পরীক্ষার ওপর বেজ করে নির্ধারিত হবে। উনার বয়স ৭৬ বছর। উনার আরও যেসব জটিলতা আছে সেগুলো মাথায় রেখে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য একটা ডেডিকেটেড ডেভেলপড সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন বলে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড মত দিয়েছে। লাম্প কী জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, লাম্প শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট চাকা। এটা ১.২ সেন্টিমিটারের মতো হবে। শরীরের কোথায় লাম্প জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রত্যেক রোগীর তার প্রাইভেসি বলে লিগ্যালাইজ বিষয় আছে। আশা করি এ ব্যাপারে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। বায়োপসির প্রতিবেদন কবে নাগাদ হাতে আসে জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, বায়োপসির ফল পেতে সায়েন্টিফিক্যালি ৭২ ঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ দিন থেকে ২১ দিন সময় লাগে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, অপারেশনের আগে খালেদা জিয়ার বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। লাম্পে ক্যানসারের জীবাণু আছে কি-না তা নির্ণয় করতে এফএনএসিও করা হয়েছে। কিন্তু তাতে খারাপ কিছু ছিল না। ক্যানসারের জীবাণু না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার অপারেশন করা হয়। নিয়মানুযায়ী তা বায়োপসি করতে দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব খারাপ বলে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। গণমাধ্যম কেন এত দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে। নিশ্চিত হয়েই তাদের খবর প্রকাশ করা উচিত। মির্জা ফখরুল বলেন, চিকিৎসক এমনকি মেডিকেল বোর্ড বারবার বলে আসছেন যে, তার যে মাল্টিডিসিপ্লিনারি ডিজিস আছে এগুলোর পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। এজন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারটুকু পাচ্ছেন না। সরকার তাকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে আইনগত কোনো বাধা আছে বলে আমরা মনে করি না। সরকার এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। তাছাড়া তার জামিন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুদিন আগে থেকে তার শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর গত দুই সপ্তাহে তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে সেরে উঠলেও শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন তিনি বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান।

১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন খালেদা জিয়া।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলে খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত তিন দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন