লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বিক্রির চিন্তা
jugantor
লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বিক্রির চিন্তা

  কাজী জেবেল  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াটার বাস

অব্যাহত লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলা হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এসব ওয়াটার বাস বিক্রির জন্য নিলাম বা টেন্ডার করা হবে। যাত্রীসেবার যে উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া, আয়ের কয়েকগুণ বেশি লোকসান হওয়া এবং সামনের দিনগুলোয় এসব ওয়াটার বাস কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ না থাকায় এগুলো বিক্রির আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। আরও জানা যায়, বর্তমানে ১২টি ওয়াটার বাসের ৭টি সচল রয়েছে। বাকি ৫টি অচল। সচল সাতটি ওয়াটার বাসের মধ্যে চারটিতে বুড়িগঙ্গা নদীতে এ পার থেকে ও পারে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। একটিতে চট্টগ্রামে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবহার করছেন। একটি ডকইয়ার্ডে মেরামতাধীন রয়েছে। বাকিগুলো পড়ে আছে।

ওয়াটার বাস বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিক্রির প্রস্তাব আছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ওয়াটার বাসগুলো টেকসই নয়। এগুলোয় লোকসানের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে। এছাড়া নদীতে ছোট নৌযান ও বালুবাহী জাহাজ চলাচল অসুবিধা হওয়ায় ওয়াটার বাস পুরো গতিতে চালানো যাচ্ছে না। ফলে গন্তব্যে যেতে সময় বেশি লাগছে। মানুষ এত সময় নিয়ে ওয়াটার বাসে চড়তে চায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোনো ধরনের সমীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করেই এসব ওয়াটার বাস কেনা হয়। এ কারণেই এসব ওয়াটার বাস চালুর শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। ঘাটগুলোর সঙ্গে ওয়াটার বাসের উচ্চতার মিল ছিল না। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর বাঁকের সঙ্গে এ আকারের ওয়াটার বাস চলাচল সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। গাবতলী থেকে সদরঘাট ওয়াটার বাসে আসতে যে পরিমাণ সময় লাগত, এর চেয়ে কম সময়ে বাসে যাতায়াত করা যায়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসে। এসব বিষয় বিবেচনা ছাড়াই ওয়াটার বাসগুলো কেনা হয়। তারা বলেন, সংস্থার নিজস্ব আয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। ওয়াটার বাসের কারণে বছরে দুই কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জানা যায়, সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসির একাধিক বোর্ড সভায় এসব ওয়াটার বাস বিক্রির জন্য প্রস্তাব তোলা হয়। ওই প্রস্তাবে ওয়াটার বাস ক্রমাগত লোকসানের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, সামনের দিনগুলোয় এ লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। যাত্রীসেবার উদ্দেশ্যে কেনা হলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। এছাড়া পদ্মা সেতুতে আগামী জুনে যান চলাচল শুরু হলে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি রুটের আয় অনেক কমে যাবে।

এ দুটি রুটই সংস্থার প্রধান আয়ের উৎস। আরও জানা যায়, ৭ থেকে ১১ বছর বয়সি এসব ওয়াটার বাস বিক্রির আগে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চায় সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌসচিব মো. মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সম্মতি পেলেই বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চার বছরে তিন ধাপে ১২টি ওয়াটার বাস সংগ্রহ করে বিআইডব্লিউটিসি। ২০১০ সালের আগস্টে ১ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দুটি ওয়াটার বাস কেনে সংস্থাটি। ওই দুটি ওয়াটার বাস ওই সময়ে বাদামতলী-গাবতলী রুটে চালু করা হয়। ওই সময়ে ওয়াটার বাস দুটি লোকসান গুনতে শুরু করে।

কিন্তু রাজধানীর ওপর যানজট কমানো এবং নৌপথে যাত্রীসেবার নামে ২০১৩ সালের জুনে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার টাকায় আরও চারটি ওয়াটার বাস সংগ্রহ করা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ৫ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করা হয় আরও ছয়টি। বহরে ওয়াটার বাস বাড়তে থাকায় টঙ্গী থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটও চালু করে বিআইডব্লিউটিসি। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে এ রুট বন্ধ হয়ে যায়। বাদামতলী-গাবতলী রুট বন্ধ হয় ২০২০ সালের মার্চে।

সূত্র আরও জানায়, বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস চালানোর পর লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বসিয়ে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো চালানো হয়। পরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান গুনে তা বিআইডব্লিউটিসিকে ফিরিয়ে দেয়। বর্তমানে চারটি ওয়াটার বাস (ওয়াটার বাস-৮, ওয়াটার বাস-৯, ওয়াটার বাস-১০ ও ওয়াটার বাস-১১) বুড়িগঙ্গা নদীতে ডিঙ্গি নৌকার পাশাপাশি যাত্রী এ পাড় থেকে ও পাড়ে পার করছে। বিনিময়ে সংস্থাটি মাসে প্রতিটি ওয়াটার বাস থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া পাচ্ছে।

অপরদিকে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা পথের ওয়াটার বাস অকেজো অবস্থায় ঢাকা ঘাট ও নারায়ণগঞ্জে পড়ে আছে। ওয়াটার বাস-৩ ও ওয়াটার বাস-১২ সচল হলেও সেগুলো কোনো কাজে না লাগায় ঢাকা ঘাটে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়াটার বাস-৭ চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি কোম্পানির জনবল পারাপারের জন্য ভাড়া দেওয়া হলেও সেই প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এটিকে বিআইডব্লিউটিসির কাছে ফেরত দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ওয়াটার বাস-৪ ও ওয়াটার বাস-৬ নারায়ণগঞ্জে মেরামতাধীন রয়েছে।

সংস্থাটির একটি নথিতে দেখা যায়, প্রতিমাসেই ওয়াটার বাসের জন্য লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। ওয়াটার বাসের মেরামত, এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন, অবচয় মিলে প্রতিটি ওয়াটার বাসে মাসে দুই লাখ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীতে যে চারটি ওয়াটার বাস চার্টারে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় হলেও প্রতিটিতে সংস্থাটির দুজন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন দিতে হচ্ছে সংস্থা থেকে। ফলে সচল থাকা এসব ওয়াটার বাস থেকেও লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।

লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বিক্রির চিন্তা

 কাজী জেবেল 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ওয়াটার বাস
বুড়িগঙ্গায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ওয়াটার বাস। ছবি-যুগান্তর

অব্যাহত লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলা হয়েছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এসব ওয়াটার বাস বিক্রির জন্য নিলাম বা টেন্ডার করা হবে। যাত্রীসেবার যে উদ্দেশে নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া, আয়ের কয়েকগুণ বেশি লোকসান হওয়া এবং সামনের দিনগুলোয় এসব ওয়াটার বাস কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ না থাকায় এগুলো বিক্রির আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। আরও জানা যায়, বর্তমানে ১২টি ওয়াটার বাসের ৭টি সচল রয়েছে। বাকি ৫টি অচল। সচল সাতটি ওয়াটার বাসের মধ্যে চারটিতে বুড়িগঙ্গা নদীতে এ পার থেকে ও পারে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। একটিতে চট্টগ্রামে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবহার করছেন। একটি ডকইয়ার্ডে মেরামতাধীন রয়েছে। বাকিগুলো পড়ে আছে।

ওয়াটার বাস বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিক্রির প্রস্তাব আছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ওয়াটার বাসগুলো টেকসই নয়। এগুলোয় লোকসানের পরিমাণ দিনদিন বাড়ছে। এছাড়া নদীতে ছোট নৌযান ও বালুবাহী জাহাজ চলাচল অসুবিধা হওয়ায় ওয়াটার বাস পুরো গতিতে চালানো যাচ্ছে না। ফলে গন্তব্যে যেতে সময় বেশি লাগছে। মানুষ এত সময় নিয়ে ওয়াটার বাসে চড়তে চায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কোনো ধরনের সমীক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করেই এসব ওয়াটার বাস কেনা হয়। এ কারণেই এসব ওয়াটার বাস চালুর শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। ঘাটগুলোর সঙ্গে ওয়াটার বাসের উচ্চতার মিল ছিল না। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর বাঁকের সঙ্গে এ আকারের ওয়াটার বাস চলাচল সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। গাবতলী থেকে সদরঘাট ওয়াটার বাসে আসতে যে পরিমাণ সময় লাগত, এর চেয়ে কম সময়ে বাসে যাতায়াত করা যায়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীর পানি থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ আসে। এসব বিষয় বিবেচনা ছাড়াই ওয়াটার বাসগুলো কেনা হয়। তারা বলেন, সংস্থার নিজস্ব আয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। ওয়াটার বাসের কারণে বছরে দুই কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জানা যায়, সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিসির একাধিক বোর্ড সভায় এসব ওয়াটার বাস বিক্রির জন্য প্রস্তাব তোলা হয়। ওই প্রস্তাবে ওয়াটার বাস ক্রমাগত লোকসানের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, সামনের দিনগুলোয় এ লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে। যাত্রীসেবার উদ্দেশ্যে কেনা হলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। এছাড়া পদ্মা সেতুতে আগামী জুনে যান চলাচল শুরু হলে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি রুটের আয় অনেক কমে যাবে।

এ দুটি রুটই সংস্থার প্রধান আয়ের উৎস। আরও জানা যায়, ৭ থেকে ১১ বছর বয়সি এসব ওয়াটার বাস বিক্রির আগে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চায় সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌসচিব মো. মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সম্মতি পেলেই বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালের আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চার বছরে তিন ধাপে ১২টি ওয়াটার বাস সংগ্রহ করে বিআইডব্লিউটিসি। ২০১০ সালের আগস্টে ১ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দুটি ওয়াটার বাস কেনে সংস্থাটি। ওই দুটি ওয়াটার বাস ওই সময়ে বাদামতলী-গাবতলী রুটে চালু করা হয়। ওই সময়ে ওয়াটার বাস দুটি লোকসান গুনতে শুরু করে।

কিন্তু রাজধানীর ওপর যানজট কমানো এবং নৌপথে যাত্রীসেবার নামে ২০১৩ সালের জুনে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার টাকায় আরও চারটি ওয়াটার বাস সংগ্রহ করা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ৫ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় সংগ্রহ করা হয় আরও ছয়টি। বহরে ওয়াটার বাস বাড়তে থাকায় টঙ্গী থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটও চালু করে বিআইডব্লিউটিসি। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে এ রুট বন্ধ হয়ে যায়। বাদামতলী-গাবতলী রুট বন্ধ হয় ২০২০ সালের মার্চে।

সূত্র আরও জানায়, বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস চালানোর পর লোকসানের মুখে ওয়াটার বাস বসিয়ে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো চালানো হয়। পরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান গুনে তা বিআইডব্লিউটিসিকে ফিরিয়ে দেয়। বর্তমানে চারটি ওয়াটার বাস (ওয়াটার বাস-৮, ওয়াটার বাস-৯, ওয়াটার বাস-১০ ও ওয়াটার বাস-১১) বুড়িগঙ্গা নদীতে ডিঙ্গি নৌকার পাশাপাশি যাত্রী এ পাড় থেকে ও পাড়ে পার করছে। বিনিময়ে সংস্থাটি মাসে প্রতিটি ওয়াটার বাস থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া পাচ্ছে।

অপরদিকে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা পথের ওয়াটার বাস অকেজো অবস্থায় ঢাকা ঘাট ও নারায়ণগঞ্জে পড়ে আছে। ওয়াটার বাস-৩ ও ওয়াটার বাস-১২ সচল হলেও সেগুলো কোনো কাজে না লাগায় ঢাকা ঘাটে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ওয়াটার বাস-৭ চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি কোম্পানির জনবল পারাপারের জন্য ভাড়া দেওয়া হলেও সেই প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এটিকে বিআইডব্লিউটিসির কাছে ফেরত দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ওয়াটার বাস-৪ ও ওয়াটার বাস-৬ নারায়ণগঞ্জে মেরামতাধীন রয়েছে।

সংস্থাটির একটি নথিতে দেখা যায়, প্রতিমাসেই ওয়াটার বাসের জন্য লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। ওয়াটার বাসের মেরামত, এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন, অবচয় মিলে প্রতিটি ওয়াটার বাসে মাসে দুই লাখ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীতে যে চারটি ওয়াটার বাস চার্টারে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটি থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় হলেও প্রতিটিতে সংস্থাটির দুজন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন দিতে হচ্ছে সংস্থা থেকে। ফলে সচল থাকা এসব ওয়াটার বাস থেকেও লোকসান গুনতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন