সবার নজর খুলনা সিটি নির্বাচনে

ভোট গ্রহণ কাল * আস্থা অর্জনের পরীক্ষায় ইসি * ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা * দু’দলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে

  কাজী জেবেল ও মোস্তফা কামাল আহমেদ, খুলনা থেকে ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কাল মঙ্গলবার। নির্বাচনের শেষ সময়ের প্রস্তুতিমূলক যাবতীয় কার্যক্রম গুছিয়ে আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী। ভোটার টানতে রোববার শেষ মুহূর্তের প্রচার চালিয়েছেন মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এখন জয় পেতে নানামুখী হিসাব-নিকাশ কষছেন তারা।

এদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের এ নির্বাচন ঘিরে খুলনায় বিরাজ করছে জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ। স্থানীয় রাজনীতিতে এর রেশ নিয়ে চিন্তিত খুলনাবাসী, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আতঙ্কিত ভোটাররা। যদিও নির্বাচন উপলক্ষে রোববার খুলনায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে নেমেছে। রাস্তায় রাস্তায় এসব বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একই দিনে গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা পিছিয়ে গেছে গাজীপুর সিটির ভোট। আগামীকাল শুধু খুলনা সিটিতে ভোট হওয়ায় সেদিকেই নজর নির্বাচন কমিশন (ইসি), রাজনৈতিক দল, পর্যবেক্ষক মহলসহ পুরো দেশবাসীর।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, চার সিটি কর্পোরেশন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে খুলনার এ নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে। আগামী দিনের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি কোন দিকে যাবে তার খানিকটা আভাসও মিলবে এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ফলাফলের ওপর। তাই ভোটের লড়াইয়ে জয় পাওয়ার ‘প্রেস্টিজ’ ইস্যুতে মরিয়া প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ভোটের জনপ্রিয়তার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সম্ভাব্য সব কৌশল অবলম্বন করছে দল দুটি। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে দু’দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং অভিযোগ জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে নানা আতঙ্ক। সবারই প্রশ্ন সুষ্ঠুভাবে এ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে কিনা? নির্বাচন কমিশন তাদের দৃঢ়তা প্রদর্শন এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে কিনা? এমন পরিস্থিতিতে প্রভাবমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। শুধু তাই নয়, সংসদ নির্বাচনের আগে সবার কাছে ইসির আস্থা অর্জনের বিষয়টিও নির্ভর করছে খুলনা সিটির এ ভোট- এমন মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

যদিও কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, এ সিটির তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধি দল ছয়বার নির্বাচন কমিশনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নানা অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া জানিয়ে গেছে। দল দুটির বক্তব্য, বিবৃতি ও বিভিন্ন মাধ্যমে উত্থাপন করা এসব দাবি-দাওয়ায় কমিশনের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে এক ধরনের চাপে আছেন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রথমবার দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন হওয়ায় এর উত্তাপ জাতীয় রাজনীতিতে পড়েছে। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রচারে অংশ নিয়ে এটিকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করেছেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচন অনেক বার্তা দেবে। নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কী আচরণ করছেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে, সেই চেহারা বেরিয়ে আসবে, যা জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এ নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর ইসি যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে জাতীয় নির্বাচনেও পারবে না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে অনেক জায়গায় প্রশাসনের ওপর ইসি নিয়ন্ত্রণ আনতে পারছে বলে বাইরে থেকে মনে হচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার বলেন, এটি নির্বাচনী বছর। ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট হবে। এরপর বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে ভোট হওয়ার কথা। ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা সিটি ভোটেই এখন জাতীয় নির্বাচনের আবহ। দলীয় প্রতীকে হওয়ায় খুলনার ভোট দেখেই মানুষের কাছে মেসেজ যাবে পরের নির্বাচনগুলো কেমন হবে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষম কিনা? রাজনৈতিক সরকারের ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে- এসব দেখার জন্যই সবার নজর এখন খুলনায়।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে যাবে। নগরীর নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাও আছেন।

সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান, কমিউনিস্ট পার্টির মিজানুর রহমান বাবু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুজ্জাম্মিল হক মেয়র পদে লড়ছেন। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। যদিও ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়কে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিগত ৫ বছরে বিএনপির মেয়র থাকায় খুলনায় উন্নয়ন হয়নি- এমন প্রচারও চালিয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে। দলটির একাধিক নেতা জানান, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সচেতনভাবেই জাতীয় ইস্যুগুলো সামনে আনেনি। এতে টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার নেতিবাচক দিকগুলো জনগণের সামনে ফুটে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য জাতীয় ইস্যুর নেতিবাচক প্রভাব খুলনা সিটি নির্বাচনে পড়েছিল। এছাড়া দলীয় কোন্দলসহ অন্য কয়েকটি কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় হয়। ওই শিক্ষা নিয়ে এবার নির্বাচনে জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে কোনো প্রচার চালায়নি আওয়ামী লীগ। এবার স্থানীয় উন্নয়ন হয়নি- সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মেয়র থাকাবস্থায় আমি কী উন্নয়ন করেছি আর বিএনপির মেয়র কী করেছে তা মানুষকে বলেছি। জনগণ এখন উন্নয়ন চান। তাই তারা নৌকায় ভোট দেবেন। অপরদিকে জাতীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে এ নির্বাচনকে সরকারের বিরুদ্ধে বার্তা হিসেবে জনগণকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার প্রচার চালিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় ১৭০ নেতাকর্মীকে আটকের বিষয়টিও প্রচারণায় তুলে আনছে দলটি। একই সঙ্গে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘লেভেল পেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা সম্ভব নয়- সে বিষয়টিও জানান দিয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমরা সরকারকে জানান দিতে চাই, দেশের মানুষ তাদের সঙ্গে নেই। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, বিএনপির এ মেয়র প্রার্থীর প্রচার ঘিরে সাদা পোশাকের বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি দেখা গেছে। রোববার দুপুরে খুলনার স্থানীয় একটি হোটেলে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন তিনি। ওই হোটেলে সাদা পোশাকের অন্তত ছয় সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একই ভাবে তার প্রচার ও নির্বাচনী এজেন্টদের প্রশিক্ষণের স্থানেও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চ্যালেঞ্জের মুখে ইসি : খুলনা সিটি নির্বাচন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এর আগেও তাদের সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল। তাদের মতে, আইনি জটিলতায় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও ঢাকার দু’সিটিতে যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে কমিশন। একই সমস্যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কয়েক দিনের জন্য স্থগিতের পর ২৬ জুন ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কমিশনকে নতুন বিতর্কে পড়তে হয়েছে। এখন খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রভাবমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষায় রূপ নিয়েছে।

এক নজরে ভোটের তথ্য : এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থী রয়েছেন। এছড়া কাউন্সিলর পদে সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে ১৪৮ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৮ জন নারী প্রার্থী আছেন। অর্থাৎ এ দুই পদে (সংরক্ষিতসহ) সব মিলিয়ে ১৯১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারের মাঝপথে তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। ৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩, যার মধ্যে পরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। নির্বাচনে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্য। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, খুলনায় জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।

তিন স্তরের নিরাপত্তা : খুলনা সিটি নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি সোনালী সেন। তিনি বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ২৩৪টি ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ২৪ জন সদস্য থাকবেন। এছাড়া সাধারণ ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ২২ জন থাকবেন। তিনি জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে আট হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। আর এক হাজার সদস্য রিজার্ভ রাখা হচ্ছে। প্রতি ৪-৫টি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। ভোট কেন্দ্রের আশপাশে বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ১২টি স্ট্যাটিক পয়েন্ট (পিকেট) চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটারদের যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব ভোট কেন্দ্রে গাড়ি যাতায়াতের পথ সুগম নয়, সেখানে মোটরসাইকেল মোবাইল টিম থাকবে।

৫ কেন্দ্র ও ওয়ার্ডে ইভিএম ও সিসি ক্যামেরা : ভোটার সচেতন এবং শিক্ষিত ও শহরকেন্দ্রিক ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে। যান্ত্রিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ যাতে বুঝে-শুনে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নগরীর ওই দুটি ওয়ার্ডকে বেছে নেয়া হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় সিটির ৩টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সহায়তায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন, যার মধ্যে বিএল কলেজ কেন্দ্র, পিটিআই কেন্দ্র এবং পাইওনিয়র কলেজ কেন্দ্র। ভোটারদের গতিবিধি ও ভোট গ্রহণ কার্যক্রম ওই ক্যামেরার সাহায্যে অবলোকন করবে কমিশন। এসব প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা প্রায় ৫ হাজার : এ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার (ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ২৮৯ জন, প্রতিটি কক্ষে ১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ১৫৬১ জন এবং প্রতিটি কক্ষে দু’জন পোলিং অফিসার হিসেবে ৩১২২ জন। ভোটার শনাক্ত এবং ব্যালট দিয়ে ভোট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এসব কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসির ৩১ নিজস্ব পর্যবেক্ষক : নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসির নিজস্ব ৩১ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ভোট কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি, ভোটার, প্রার্থী-কর্মী-সমর্থকদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter