এলাকাবাসী মনে করেছিল র‌্যাবের অভিযান
jugantor
কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা
এলাকাবাসী মনে করেছিল র‌্যাবের অভিযান
১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার ১

  কুমিল্লা ব্যুরো  

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ঘাতকদের পরনে ছিল কালো কাপড়। মাথায় ছিল কালো হেলমেট। ফিল্মি স্টাইলের অভিযান দেখে এলাকাবাসী মনে করেছিলেন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করছে।

এ কারণে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেনি। এর আগে কাউন্সিলর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ফলো করছিল ঘাতকদের একজন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘাতকরা মিশন শুরু করে।

যুগান্তরের হাতে আসা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ এবং অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। নিহত কাউন্সিলরের ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

বুধবার সকালে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজওয়ান। ইতোমধ্যে সুমন নামে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাউন্সিলর সোহেলের কার্যালয়টি ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায়। আশপাশে সব সময় বিপুলসংখ্যক লোকজন থাকে। তাই হত্যা মিশন শুরুর আগে ঘাতকরা ঘটনাস্থল দফায় দফায় রেকি করে।

ঘাতকরা আশপাশের বাসিন্দা হওয়ায় পরিচয় আড়াল করতে কালো পোশাক এবং হেলমেট পরিধান করে। ঘটনার সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘাতকরা বিভিন্ন ভবনের ছাদে এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে চলে যেতে তাদেরও লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। অর্থাৎ একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা।

তাদের ফায়ারিং স্টাইল এবং পোশাক দেখে বাসিন্দারা মনে করেন র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে। গোটা এলাকাটি ফাঁকা করে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ঘাতকরা সাটার লাগিয়ে দেয়। এরপর কাউন্সিলরকে বুকে এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ রাউন্ড গুলি করে। হত্যা নিশ্চিত করে তারা কার্যালয় থেকে বের হয়ে যায়।

জানা যায়, কাউন্সিলর সোহেলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুজানগর এলাকার বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নগরীর ১৬ এবং ১৭নং ওয়ার্ড এলাকায় মাদক, চোরাকারবার, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল শাহ আলম।

তার রয়েছে একটি বিশাল গ্যাং। এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করছিলেন কাউন্সিলর সোহেল। পথের কাঁটা পরিষ্কার করতে মাসখানেক আগে সোহেলকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে শাহ আলম গং।

এই হত্যাকাণ্ডে নিহত কাউন্সিলরের ভাই সৈয়দ রুমন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি শাহ আলম। অন্য আসামিরা হলেন-সোহেল ওরফে জেল সোহেল, সাব্বির হোসেন, সুমন, সাজন, আশিকুর রহমান রকি, আলম, জিসান মিয়া, মাসুম, সায়মন ও রনি।

মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মামলার এজাহার নামীয় আসামি সুমনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সুজানগর পূর্বপাড়া বৌবাজার এলাকার মৃত কানু মিয়ার ছেলে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকালে কার্যালয়ে ঢুকে কাউন্সিলর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার জানাজা শেষে সোহেলের লাশ পাথুরিয়াপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

রংপুর সিটি কাউন্সিলরদের মানববন্ধন : কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ সাহেল হত্যার প্রতিবাদে বুধবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। তারা হত্যার বিচার চেয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

মানববন্ধনে প্যানেল মেয়র সামসুল হক, মাহামুদুর রহমান টিটু, কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, মাহাবুবর রহমান মঞ্জু, জয়নুল আবেদিন লুতু, হারুন-অর-রশিদ, শফিকুল ইসলাম মিঠু, মাহাবুব মোর্শেদ, সিরাজুল ইসলাম, মামুনার রশিদ, রহমতুল্লা বাবলা, মিজানুর রহমান মিজু, মুনতাসীর শামীম লাইকো, রফিকুল ইসলাম, জামিলা বেগম, মালেক নিয়াজ আরজু, ফেরদৌসী বেগম, শাহেদা বেগম বেবি, মনোয়ারা সুলতানা মলি, মীর জামাল উদ্দিন প্রমুখ। পরে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন কাউন্সিলররা।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা

এলাকাবাসী মনে করেছিল র‌্যাবের অভিযান

১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার ১
 কুমিল্লা ব্যুরো 
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও হরিপদ সাহা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ঘাতকদের পরনে ছিল কালো কাপড়। মাথায় ছিল কালো হেলমেট। ফিল্মি স্টাইলের অভিযান দেখে এলাকাবাসী মনে করেছিলেন কাউন্সিলরের কার্যালয়ে র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করছে।

এ কারণে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেনি। এর আগে কাউন্সিলর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ফলো করছিল ঘাতকদের একজন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘাতকরা মিশন শুরু করে।

যুগান্তরের হাতে আসা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ এবং অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। নিহত কাউন্সিলরের ভাই বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

বুধবার সকালে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজওয়ান। ইতোমধ্যে সুমন নামে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাউন্সিলর সোহেলের কার্যালয়টি ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায়। আশপাশে সব সময় বিপুলসংখ্যক লোকজন থাকে। তাই হত্যা মিশন শুরুর আগে ঘাতকরা ঘটনাস্থল দফায় দফায় রেকি করে।

ঘাতকরা আশপাশের বাসিন্দা হওয়ায় পরিচয় আড়াল করতে কালো পোশাক এবং হেলমেট পরিধান করে। ঘটনার সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘাতকরা বিভিন্ন ভবনের ছাদে এবং বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে চলে যেতে তাদেরও লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। অর্থাৎ একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তারা।

তাদের ফায়ারিং স্টাইল এবং পোশাক দেখে বাসিন্দারা মনে করেন র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে। গোটা এলাকাটি ফাঁকা করে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে প্রবেশ করে ঘাতকরা সাটার লাগিয়ে দেয়। এরপর কাউন্সিলরকে বুকে এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ রাউন্ড গুলি করে। হত্যা নিশ্চিত করে তারা কার্যালয় থেকে বের হয়ে যায়।   

জানা যায়, কাউন্সিলর সোহেলের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সুজানগর এলাকার বাসিন্দা মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নগরীর ১৬ এবং ১৭নং ওয়ার্ড এলাকায় মাদক, চোরাকারবার, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল শাহ আলম।

তার রয়েছে একটি বিশাল গ্যাং। এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করছিলেন কাউন্সিলর সোহেল। পথের কাঁটা পরিষ্কার করতে মাসখানেক আগে সোহেলকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে শাহ আলম গং। 

এই হত্যাকাণ্ডে নিহত কাউন্সিলরের ভাই সৈয়দ রুমন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি শাহ আলম। অন্য আসামিরা হলেন-সোহেল ওরফে জেল সোহেল, সাব্বির হোসেন, সুমন, সাজন, আশিকুর রহমান রকি, আলম, জিসান মিয়া, মাসুম, সায়মন ও রনি।

মামলায় আরও ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মামলার এজাহার নামীয় আসামি সুমনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে সুজানগর পূর্বপাড়া বৌবাজার এলাকার মৃত কানু মিয়ার ছেলে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকালে কার্যালয়ে ঢুকে কাউন্সিলর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার জানাজা শেষে সোহেলের লাশ পাথুরিয়াপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

রংপুর সিটি কাউন্সিলরদের মানববন্ধন : কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সৈয়দ সাহেল হত্যার প্রতিবাদে বুধবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। তারা হত্যার বিচার চেয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন। 

মানববন্ধনে প্যানেল মেয়র সামসুল হক, মাহামুদুর রহমান টিটু, কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, মাহাবুবর রহমান মঞ্জু, জয়নুল আবেদিন লুতু, হারুন-অর-রশিদ, শফিকুল ইসলাম মিঠু, মাহাবুব মোর্শেদ, সিরাজুল ইসলাম, মামুনার রশিদ, রহমতুল্লা বাবলা, মিজানুর রহমান মিজু, মুনতাসীর শামীম লাইকো, রফিকুল ইসলাম, জামিলা বেগম, মালেক নিয়াজ আরজু, ফেরদৌসী বেগম, শাহেদা বেগম বেবি, মনোয়ারা সুলতানা মলি, মীর জামাল উদ্দিন প্রমুখ। পরে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন কাউন্সিলররা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন