গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর বরখাস্ত
jugantor
গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর বরখাস্ত
৩ সদস্যের প্যানেল মেয়র

  যুগান্তর প্রতিবেদন   

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া বেশ কিছু অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে বলা হয়, ভুয়া দরপত্রে কাজ দেওয়া, অযৌক্তিক জনবল নিয়োগ, ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে জমি দখল এবং নাগরিকদের নানাভাবে হয়রানি ও কষ্ট দেওয়ার অনেক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতিবছর হাটবাজার ইজারার অর্থ নির্ধারিত খাতে জমা না দেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে জমি দখল ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া সড়ক প্রশ্বস্তকরণ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব চাওয়া হলেও তার জবাব দেননি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের শামিল।

এটা সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ১৩(১)(ঘ) ধারা অনুযায়ী অপসারণযোগ্য অপরাধ। এ অভিযোগগুলোর তদন্তকাজ শুরু করার মাধ্যমে একই আইনের ১৩ ধারা মোতাবেক তার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

তার মেয়রপদ শূন্য হলে সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী এ আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে বরখাস্তকৃত মেয়র : প্যানেল মেয়রের ক্রমানুসারে জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

এর আগে ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলমকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

ওইদিন রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন না, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারেন না। বাংলাদেশের নাগরিকরা অবশ্যই মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসবেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার ধৃষ্টতা দেখান, তাদের আমি ঘৃণা করি।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দেওয়া বক্তব্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়। দল থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর স্থানীয় সরকার বিভাগ তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এখানে আমরা দেখব অভিযোগকারী এবং মেয়র কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

আইনের সঠিক প্রয়োগ করে অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি করব। তদন্তে মেয়র জাহাঙ্গীর দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হবে।

তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র : বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত পৃথক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করা হয়।

ওই তালিকায় রয়েছেন-আসাদুর রহমান কিরন, সাধারণ ওয়ার্ড-৪৩, আব্দুল আলীম মোল্লা, সাধারণ ওয়ার্ড-৫২ এবং আয়শা আক্তার, সংরক্ষিত ওয়ার্ড-১০।

২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় এখন তিনি মেয়র পদে থাকতে পারেন কিনা, সেই আলোচনা চলছিল কয়েকদিন ধরে। এর মধ্যেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজবাড়ী ও মাদারীপুরে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর বরখাস্ত

৩ সদস্যের প্যানেল মেয়র
 যুগান্তর প্রতিবেদন  
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া বেশ কিছু অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। 

বৃহস্পতিবার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে বলা হয়, ভুয়া দরপত্রে কাজ দেওয়া, অযৌক্তিক জনবল নিয়োগ, ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে জমি দখল এবং নাগরিকদের নানাভাবে হয়রানি ও কষ্ট দেওয়ার অনেক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতিবছর হাটবাজার ইজারার অর্থ নির্ধারিত খাতে জমা না দেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে জমি দখল ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া সড়ক প্রশ্বস্তকরণ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব চাওয়া হলেও তার জবাব দেননি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। আর তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগগুলো ক্ষমতার অপব্যবহার, বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অপশাসনের শামিল।

এটা সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ১৩(১)(ঘ) ধারা অনুযায়ী অপসারণযোগ্য অপরাধ। এ অভিযোগগুলোর তদন্তকাজ শুরু করার মাধ্যমে একই আইনের ১৩ ধারা মোতাবেক তার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এছাড়া সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯ এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

তার মেয়রপদ শূন্য হলে সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী এ আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে বরখাস্তকৃত মেয়র : প্যানেল মেয়রের ক্রমানুসারে জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

এর আগে ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলমকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলসহ আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

ওইদিন রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন না, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হতে পারেন না। বাংলাদেশের নাগরিকরা অবশ্যই মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসবেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার ধৃষ্টতা দেখান, তাদের আমি ঘৃণা করি।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের দেওয়া বক্তব্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়। দল থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর স্থানীয় সরকার বিভাগ তার বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এখানে আমরা দেখব অভিযোগকারী এবং মেয়র কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

আইনের সঠিক প্রয়োগ করে অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি করব। তদন্তে মেয়র জাহাঙ্গীর দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হবে। 

তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র : বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত পৃথক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জন্য তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র গঠন করা হয়।

ওই তালিকায় রয়েছেন-আসাদুর রহমান কিরন, সাধারণ ওয়ার্ড-৪৩, আব্দুল আলীম মোল্লা, সাধারণ ওয়ার্ড-৫২ এবং আয়শা আক্তার, সংরক্ষিত ওয়ার্ড-১০।

২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় এখন তিনি মেয়র পদে থাকতে পারেন কিনা, সেই আলোচনা চলছিল কয়েকদিন ধরে। এর মধ্যেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজবাড়ী ও মাদারীপুরে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন