চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
jugantor
এবার উত্তর সিটির ময়লার গাড়ি
চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির বেপরোয়া গতিতে এবার প্রাণ গেল আহসান কবির খান (৪৮) নামের এক ব্যবসায়ীর। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির উলটো দিকে গাড়িটি তাকে চাপা দেয়।

এর আগে বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির চাপায় প্রাণ হারান নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সিটি করপোরেশনের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনায় প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ নগরবাসী। তারা বলছেন, ময়লার গাড়িগুলোর দীর্ঘদিনের বেপরোয়া গতির ফলাফলই এই দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার আগে অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে সিগন্যালে আটকে ছিল ডিএনসিসির ময়লার গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল। সিগন্যাল ছাড়া বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় সিটি করপোরেশনের গাড়িটি। এতে মোটরসাইকেলের পেছনের যাত্রী আহসান কবীর ছিটকে পড়েন।

তখন গাড়ির চাকা চলে যায় তার মাথার ওপর দিয়ে। এরপর আশপাশের লোকজন ডিএনসিসির গাড়িটি ধাওয়া করে। গ্রিনরোড সিগন্যালে গিয়ে চালক ও সহযোগী গাড়িটি রেখে পালিয়ে যায়। আহসান কবীর খানকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে দু’জন ছিলেন। গাড়িটির ধাক্কায় নিহত ব্যক্তি এক দিকে এবং মোটরসাইকেল চালক আরেক দিকে পড়ে যান। তার মাথায় হেলমেট থাকা সত্ত্বেও তা চেপ্টা হয়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তার মাথা এমনভাবে থেঁতলে যায় যে, দেখে চেনার কোনো উপায় ছিল না। এ ঘটনায় আরেকজন আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ও মোটরসাইকেলটি খুঁজে পায়নি। তিনি স্থানীয় কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।

কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রাব্বানী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচপত্রের সূত্র ধরে তার পরিচয় পাওয়া যায়।

সেখানে দেখা যায়, তিনি ঝালকাঠির সদর উপজেলার শিরজু গ্রামের আব্দুল মান্নান খানের ছেলে। অভিযুক্ত গাড়িটির চালক ও সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়লার গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

নিহতের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত আহসান কবির প্রেসের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি প্রথম আলোর প্রেসে চাকরি করেছেন। বর্তমানে সংবাদে কাজ করছেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস এক্সেসরিসের ব্যবসা রয়েছে তার।

বর্তমানে মগবাজার চান বেকারি গলিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। নিহত কবির খান এক ছেলে এক মেয়ের জনক। ছেলে সাদমান (১৪) শাহরিয়ার আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ও মেয়ে সাফ্রিন ফারিয়া একই স্কুলের (১০) চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের স্ত্রীর নাম নাদিরা পারভিন রেখা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, তার স্বামী মোটরসাইকেল চালাতে পারেন না। হয়তো কারও সঙ্গে যাচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে কাজে বের হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ডিএসসিসি ময়লার গাড়ির চাপায় মৃত্যু হয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে বের হয়ে আরামবাগের কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি।

ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নিহত হওয়ার পরদিন ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে নগরবাসী। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভেও এই মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।

রাজধানীর বনশ্রীর এক বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, রাস্তায় বেপরোয়া গাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি। বেশির ভাগ সময়ই তারা উলটো রাস্তা দিয়ে চলে।

এমনকি ইউলুপ দিয়েও প্রায়ই উলটোপথে সিটি করপোরেশনের গাড়ি চলতে দেখা যায়। গতিসীমা মানার ধার ধারে না তারা। ঢাকার গাড়ি চালকদের কাছে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো এক ধরনের আতঙ্কের নাম।

তদন্ত কমিটি : রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএনসিসি। এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এসএম শরিফ-উল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মহাব্যবস্থাপক (পরিবহণ) মো. মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল আলমকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এবার উত্তর সিটির ময়লার গাড়ি

চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির বেপরোয়া গতিতে এবার প্রাণ গেল আহসান কবির খান (৪৮) নামের এক ব্যবসায়ীর। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির উলটো দিকে গাড়িটি তাকে চাপা দেয়।

এর আগে বুধবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির ময়লার গাড়ির চাপায় প্রাণ হারান নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সিটি করপোরেশনের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনায় প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ নগরবাসী। তারা বলছেন, ময়লার গাড়িগুলোর দীর্ঘদিনের বেপরোয়া গতির ফলাফলই এই দুর্ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার আগে অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে সিগন্যালে আটকে ছিল ডিএনসিসির ময়লার গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল। সিগন্যাল ছাড়া বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় সিটি করপোরেশনের গাড়িটি। এতে মোটরসাইকেলের পেছনের যাত্রী আহসান কবীর ছিটকে পড়েন।

তখন গাড়ির চাকা চলে যায় তার মাথার ওপর দিয়ে। এরপর আশপাশের লোকজন ডিএনসিসির গাড়িটি ধাওয়া করে। গ্রিনরোড সিগন্যালে গিয়ে চালক ও সহযোগী গাড়িটি রেখে পালিয়ে যায়। আহসান কবীর খানকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে দু’জন ছিলেন। গাড়িটির ধাক্কায় নিহত ব্যক্তি এক দিকে এবং মোটরসাইকেল চালক আরেক দিকে পড়ে যান। তার মাথায় হেলমেট থাকা সত্ত্বেও তা চেপ্টা হয়ে যায়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তার মাথা এমনভাবে থেঁতলে যায় যে, দেখে চেনার কোনো উপায় ছিল না। এ ঘটনায় আরেকজন আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ও মোটরসাইকেলটি খুঁজে পায়নি। তিনি স্থানীয় কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।

কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম রাব্বানী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির জাতীয় পরিচপত্রের সূত্র ধরে তার পরিচয় পাওয়া যায়।

সেখানে দেখা যায়, তিনি ঝালকাঠির সদর উপজেলার শিরজু গ্রামের আব্দুল মান্নান খানের ছেলে। অভিযুক্ত গাড়িটির চালক ও সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়লার গাড়িটি আটক করা হয়েছে।

নিহতের ফুফাতো ভাই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত আহসান কবির প্রেসের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি প্রথম আলোর প্রেসে চাকরি করেছেন। বর্তমানে সংবাদে কাজ করছেন। এ ছাড়া গার্মেন্টস এক্সেসরিসের ব্যবসা রয়েছে তার।

বর্তমানে মগবাজার চান বেকারি গলিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। নিহত কবির খান এক ছেলে এক মেয়ের জনক। ছেলে সাদমান (১৪) শাহরিয়ার আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ও মেয়ে সাফ্রিন ফারিয়া একই স্কুলের (১০) চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের স্ত্রীর নাম নাদিরা পারভিন রেখা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিলাপ করে তিনি বলছিলেন, তার স্বামী মোটরসাইকেল চালাতে পারেন না। হয়তো কারও সঙ্গে যাচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে কাজে বের হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ডিএসসিসি ময়লার গাড়ির চাপায় মৃত্যু হয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের বাসা থেকে বের হয়ে আরামবাগের কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি।

ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নিহত হওয়ার পরদিন ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে নগরবাসী। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভেও এই মৃত্যুর বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।

রাজধানীর বনশ্রীর এক বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, রাস্তায় বেপরোয়া গাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি। বেশির ভাগ সময়ই তারা উলটো রাস্তা দিয়ে চলে।

এমনকি ইউলুপ দিয়েও প্রায়ই উলটোপথে সিটি করপোরেশনের গাড়ি চলতে দেখা যায়। গতিসীমা মানার ধার ধারে না তারা। ঢাকার গাড়ি চালকদের কাছে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো এক ধরনের আতঙ্কের নাম।

তদন্ত কমিটি : রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএনসিসি। এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এসএম শরিফ-উল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মহাব্যবস্থাপক (পরিবহণ) মো. মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল আলমকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন