নাগরপুর ও দৌলতখানে গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ দুজন নিহত
jugantor
ইউপি নির্বাচন : বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় আহত ২৫
নাগরপুর ও দৌলতখানে গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ দুজন নিহত

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নিহত

টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও ভোলার দৌলতখানে শুক্রবার নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটু (৩২) নিহত হন। তিনি উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কানাই নগর গ্রামের তছির আহম্মেদের ছেলে এবং ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নাগরপুরের দপ্তিয়র ইউনিয়নে নিহত হয়েছেন তোতা শেখ (৪০)। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাইসহ দুজন। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। নিহত তোতা শেখ ওই ইউনিয়নের রেহাই পাইকাইল গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্কেল মেম্বারের ছেলে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা সংঘর্ষে আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্যুরো ও প্রতিনিধির খবর-

ভোলা : প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য হেলাল মাস্টার ও নিহতের চাচাতো ভাই জিসান জানান, শুক্রবার সকালে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু তার কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য মদনপুরে যান। তার সঙ্গে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলমও মদনপুরে যান। দুপুরে খাওয়ার পর তারা যাত্রীবাহী ট্রলারে করে ভোলায় ফিরছিলেন। ট্রলারটি ভোলা সদর উপজেলার নাছির মাঝি ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছলে একটি স্পিডবোটে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় ট্রলারের মাঝি ট্রলারটি জোরে চালিয়ে স্পিডবোটে ধাক্কা দিলে তা উলটে যায়। সন্ত্রাসীরা নদীতে পড়ে গেলেও গুলি চালাতে থাকে। এতে ট্রলারে থাকা খোরশেদ আলম টিটুর মাথায় গুলি লাগে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় মদনপুর ইউনিয়নের পরাজিত প্রার্থী জামাল উদ্দিন সকেট দায়ী।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, টিটুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যুবলীগ নেতা টিটু হত্যার বিচার ও ঘাতকদের গ্রেফতারের দাবিতে রাতেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : নিহত তোতা শেখের ভাই গুলিবিদ্ধ রফিক শেখ জানান, তারা উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেমের পক্ষে কাজ করছিলেন। শুক্রবার বিকালে তারা পাইকেল বটতলা মোড়ে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় দপ্তিয়র ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দীনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। সাইফুদ্দীন অভিযোগ করেন, তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করছেন। পরে সন্ধ্যায় সাইফুদ্দীন, সুমন, খাজা ও জাহাঙ্গীর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তাদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন তোতা শেখ, তার বোন জামাই বাচ্চু মণ্ডল ও রফিক শেখ। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তোতা শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নাগরপুর থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাগঞ্জ ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুই সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আলী খান ও কবির জোমাদ্দারের সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের সুবিদখালী বাজারসংলগ্ন স্টিল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ফারুক জোমাদ্দার, জালাল জোমাদ্দার ও ইব্রাহিমকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থী এরশাদ মিয়া ও শফিকুল ইসলাম তকছিরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটি শৈলজুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং বর্তমান ইউপি মেম্বার শফিকুল ইসলাম তকছিরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নে নৌকার কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ভাটারা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপি নির্বাচন : বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় আহত ২৫

নাগরপুর ও দৌলতখানে গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ দুজন নিহত

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
নিহত
ভোলায় শুক্রবার সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ধনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ আলম টিটুর স্বজনের আহাজারি -যুগান্তর

টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও ভোলার দৌলতখানে শুক্রবার নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিতে যুবলীগ নেতাসহ দুজন নিহত হয়েছেন। দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটু (৩২) নিহত হন। তিনি উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের কানাই নগর গ্রামের তছির আহম্মেদের ছেলে এবং ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নাগরপুরের দপ্তিয়র ইউনিয়নে নিহত হয়েছেন তোতা শেখ (৪০)। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাইসহ দুজন। বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। নিহত তোতা শেখ ওই ইউনিয়নের রেহাই পাইকাইল গ্রামের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্কেল মেম্বারের ছেলে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হামলা সংঘর্ষে আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্যুরো ও প্রতিনিধির খবর-

ভোলা : প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য হেলাল মাস্টার ও নিহতের চাচাতো ভাই জিসান জানান, শুক্রবার সকালে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু তার কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য মদনপুরে যান। তার সঙ্গে যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলমও মদনপুরে যান। দুপুরে খাওয়ার পর তারা যাত্রীবাহী ট্রলারে করে ভোলায় ফিরছিলেন। ট্রলারটি ভোলা সদর উপজেলার নাছির মাঝি ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছলে একটি স্পিডবোটে ৮-১০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসময় ট্রলারের মাঝি ট্রলারটি জোরে চালিয়ে স্পিডবোটে ধাক্কা দিলে তা উলটে যায়। সন্ত্রাসীরা নদীতে পড়ে গেলেও গুলি চালাতে থাকে। এতে ট্রলারে থাকা খোরশেদ আলম টিটুর মাথায় গুলি লাগে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় মদনপুর ইউনিয়নের পরাজিত প্রার্থী জামাল উদ্দিন সকেট দায়ী।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, টিটুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে যুবলীগ নেতা টিটু হত্যার বিচার ও ঘাতকদের গ্রেফতারের দাবিতে রাতেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : নিহত তোতা শেখের ভাই গুলিবিদ্ধ রফিক শেখ জানান, তারা উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল হাসেমের পক্ষে কাজ করছিলেন। শুক্রবার বিকালে তারা পাইকেল বটতলা মোড়ে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় দপ্তিয়র ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দীনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। সাইফুদ্দীন অভিযোগ করেন, তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করছেন। পরে সন্ধ্যায় সাইফুদ্দীন, সুমন, খাজা ও জাহাঙ্গীর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তাদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন তোতা শেখ, তার বোন জামাই বাচ্চু মণ্ডল ও রফিক শেখ। পরে তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তোতা শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নাগরপুর থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মির্জাগঞ্জ ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) : দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নে দুই সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আলী খান ও কবির জোমাদ্দারের সমর্থকদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা সদরের সুবিদখালী বাজারসংলগ্ন স্টিল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ফারুক জোমাদ্দার, জালাল জোমাদ্দার ও ইব্রাহিমকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নে দুই মেম্বার প্রার্থী এরশাদ মিয়া ও শফিকুল ইসলাম তকছিরের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটি শৈলজুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে সদর আধুনিক হাসপাতাল এবং বর্তমান ইউপি মেম্বার শফিকুল ইসলাম তকছিরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নে নৌকার কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ভাটারা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন