ডিএনসিসির ময়লার গাড়িচালক আটক
jugantor
সড়কে গণমাধ্যমকর্মীকে চাপা
ডিএনসিসির ময়লার গাড়িচালক আটক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আটক

সড়কে এক গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির চালক হানিফ ওরফে ফটিককে (২৩) আটক করা হয়েছে। চাঁদপুরে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খোন্দকার আল মঈন বলেন, হানিফ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) তালিকাভুক্ত চালক নন। তেল চুরির টাকার বিনিময়ে ময়লার গাড়ি চালাতেন তিনি।

রাজধানীর পান্থপথে বৃহস্পতিবার ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান সংবাদকর্মী আহসান কবীর খান। তিনি একজনের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়েন।

এরপর গাড়িটি তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করে তার স্ত্রী নাদিরা পারভীন কলাবাগান থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খোন্দকার আল মঈন বলেন, ময়লার সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন হানিফ। তার সহকারী ছিল ১০ বছরের এক শিশু। পান্থপথ হয়ে গাবতলীতে ময়লা ফেলার কথা ছিল তাদের। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও তিন থেকে চারবার এ পথে যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির।

তৃতীয়বার ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে তারা ভয়ে পালিয়ে যান। প্রথমে গাবতলীতে এবং পরে চাঁদপুরে নানাবাড়িতে আত্মগোপন করেন হানিফ। হানিফ কাগজে-কলমে করপোরেশনের কেউ নন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ির ওয়ার্কশপে সহকারী হিসাবে ৭-৮ বছর কাজ করতেন তিনি। এ সুবাদে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

তারা হানিফের হাতে ছেড়ে দিতে থাকেন করপোরেশনের গাড়ি। ২০১৯ সালে হানিফ হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্স পান। প্রথমে ছোট ট্রাক চালাতেন, এরপর ময়লার ট্রাক (ভারী যান) হাতে পান।

এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, হানিফ কিছু নাম বলেছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে এ সম্পর্কিত তথ্য আমরা সিটি করপোরেশনকে জানাব। তবে গাড়িটি কার নামে বরাদ্দ তা এখনো জানা যায়নি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ জানিয়েছেন, ময়লার গাড়ি চালানোর বিনিময়ে কোনো টাকা পেতেন না তিনি। প্রতিদিন গাড়ির জন্য যে তেল বরাদ্দ থাকত, সেই তেলের ১৮ থেকে ২০ লিটার বেচে দিতেন। এ থেকে পাওয়া টাকাই ছিল তার অলিখিত মজুরি। তবে কাউকে এর ভাগ দিতেন কিনা, তা এখনো জানতে পারেনি র‌্যাব।

সড়কে গণমাধ্যমকর্মীকে চাপা

ডিএনসিসির ময়লার গাড়িচালক আটক

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আটক
গাড়ির চাপায় আহসান কবির নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ট্রাকচালক হানিফ -যুগান্তর

সড়কে এক গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির চালক হানিফ ওরফে ফটিককে (২৩) আটক করা হয়েছে। চাঁদপুরে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খোন্দকার আল মঈন বলেন, হানিফ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) তালিকাভুক্ত চালক নন। তেল চুরির টাকার বিনিময়ে ময়লার গাড়ি চালাতেন তিনি। 

রাজধানীর পান্থপথে বৃহস্পতিবার ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান সংবাদকর্মী আহসান কবীর খান। তিনি একজনের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়েন।

এরপর গাড়িটি তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা চালককে আসামি করে তার স্ত্রী নাদিরা পারভীন কলাবাগান থানায় মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খোন্দকার আল মঈন বলেন, ময়লার সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন হানিফ। তার সহকারী ছিল ১০ বছরের এক শিশু। পান্থপথ হয়ে গাবতলীতে ময়লা ফেলার কথা ছিল তাদের। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও তিন থেকে চারবার এ পথে যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির।

তৃতীয়বার ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে তারা ভয়ে পালিয়ে যান। প্রথমে গাবতলীতে এবং পরে চাঁদপুরে নানাবাড়িতে আত্মগোপন করেন হানিফ। হানিফ কাগজে-কলমে করপোরেশনের কেউ নন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ির ওয়ার্কশপে সহকারী হিসাবে ৭-৮ বছর কাজ করতেন তিনি। এ সুবাদে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে কর্মরত কয়েকজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

তারা হানিফের হাতে ছেড়ে দিতে থাকেন করপোরেশনের গাড়ি। ২০১৯ সালে হানিফ হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্স পান। প্রথমে ছোট ট্রাক চালাতেন, এরপর ময়লার ট্রাক (ভারী যান) হাতে পান।

এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, হানিফ কিছু নাম বলেছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে এ সম্পর্কিত তথ্য আমরা সিটি করপোরেশনকে জানাব। তবে গাড়িটি কার নামে বরাদ্দ তা এখনো জানা যায়নি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ জানিয়েছেন, ময়লার গাড়ি চালানোর বিনিময়ে কোনো টাকা পেতেন না তিনি। প্রতিদিন গাড়ির জন্য যে তেল বরাদ্দ থাকত, সেই তেলের ১৮ থেকে ২০ লিটার বেচে দিতেন। এ থেকে পাওয়া টাকাই ছিল তার অলিখিত মজুরি। তবে কাউকে এর ভাগ দিতেন কিনা, তা এখনো জানতে পারেনি র‌্যাব।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন