শিক্ষার্থীদের নয় দাবি পূরণে দুই দিন সময়
jugantor
শিক্ষার্থীদের নয় দাবি পূরণে দুই দিন সময়
সড়কে বিক্ষোভ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দাবি

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে ৯ দফা দাবি জানিয়ে সেসব বাস্তবায়নে দুই দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের পর লাগাতার আন্দোলন এবং বিআরটিএ অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ ছাড়া আজ ও কাল ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করারও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার দুপুরে রাজধানীর আসাদ গেট, ধানমন্ডি-২৭ ও যাত্রাবাড়ী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকাতেও বিক্ষোভ করে একদল শিক্ষার্থী। পরে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি-২৭ ও আসাদ গেটে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কে থমকে থাকা গাড়ির চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও পরীক্ষা করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এ দুই স্থানে বিক্ষোভে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ, মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিক্ষোভের খবরে আসাদ গেট এলাকায় যান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন না করার আহ্বান জানান।

দুপুর আড়াইটায় ধানমন্ডি-২৭ নম্বর মোড়ে আন্দোলনকারীরা হ্যান্ডমাইকে তাদের নয় দফা দাবি পড়ে শোনাতে শুরু করেন। একজন প্রতিনিধি পরে মাইকে জানান, এই নয় দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম আমরা। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিল। মঙ্গলবারের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ওইদিন দুপুরে রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। তাছাড়া রোববার ও সোমবার বিক্ষোভ চলবে এবং সড়কে গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স পরীক্ষা চলবে।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে যে নয় দফা দাবি ছিল, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ওই প্রতিনিধি বলেন, এবার দাবি আদায় না হলে মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা কোনো ধরনের ভাঙচুর করার জন্য সড়কে নামিনি। পরে বিকাল ৩টায় শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেন।

এদিকে ধানমন্ডি থানার ওসি মো. ইকরাম আলী জানান, শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি-২৭ এর মাথায় মিরপুর রোডে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসে অর্ধেক ভাড়া দ্রুত কার্যকর করা। এ ছাড়া নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত ময়লার গাড়ির চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভ : আমাদের দনিয়া প্রতিনিধি জানান, যাত্রাবাড়ী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, দনিয়া কলেজ, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী ক্যামব্রিয়ান কলেজ, শনির আখড়া নবারুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী শহীদ গার্লস স্কুল, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, গিয়াস উদ্দিন স্কুল ও সেন্ট্রাল

ওইমেনস কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র দেখেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত গোলচত্বর মোড় অবরোধ করে তারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-মাওয়া সড়কসহ পুরো এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।

ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দ্বীন মোহাম্মদ যুগান্তরকে জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি সরকার যেহেতু ১ তারিখের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে। তাই ওই তারিখের আগে কোনো কিছু করা ঠিক নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তাই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে চলে গেছেন।

শিক্ষার্থীদের নয় দাবি পূরণে দুই দিন সময়

সড়কে বিক্ষোভ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
দাবি
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শনিবার রাজধানীর আসাদ গেটে একজন মোটরসাইকেল চালকের লাইসেন্স দেখছেন -যুগান্তর

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে ৯ দফা দাবি জানিয়ে সেসব বাস্তবায়নে দুই দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের পর লাগাতার আন্দোলন এবং বিআরটিএ অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ ছাড়া আজ ও কাল ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করারও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার দুপুরে রাজধানীর আসাদ গেট, ধানমন্ডি-২৭ ও যাত্রাবাড়ী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকাতেও বিক্ষোভ করে একদল শিক্ষার্থী। পরে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। 

দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি-২৭ ও আসাদ গেটে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কে থমকে থাকা গাড়ির চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও পরীক্ষা করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এ দুই স্থানে বিক্ষোভে লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ, মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। 

বিক্ষোভের খবরে আসাদ গেট এলাকায় যান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন না করার আহ্বান জানান। 

দুপুর আড়াইটায় ধানমন্ডি-২৭ নম্বর মোড়ে আন্দোলনকারীরা হ্যান্ডমাইকে তাদের নয় দফা দাবি পড়ে শোনাতে শুরু করেন। একজন প্রতিনিধি পরে মাইকে জানান, এই নয় দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলাম আমরা। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিল। মঙ্গলবারের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে ওইদিন দুপুরে রাজধানীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। তাছাড়া রোববার ও সোমবার বিক্ষোভ চলবে এবং সড়কে গাড়ির ফিটনেস ও লাইসেন্স পরীক্ষা চলবে। 

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনে যে নয় দফা দাবি ছিল, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ওই প্রতিনিধি বলেন, এবার দাবি আদায় না হলে মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে। আমরা কোনো ধরনের ভাঙচুর করার জন্য সড়কে নামিনি। পরে বিকাল ৩টায় শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেন।

এদিকে ধানমন্ডি থানার ওসি মো. ইকরাম আলী জানান, শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি-২৭ এর মাথায় মিরপুর রোডে অবস্থান নিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসে অর্ধেক ভাড়া দ্রুত কার্যকর করা। এ ছাড়া নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় জড়িত ময়লার গাড়ির চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

যাত্রাবাড়ীতে বিক্ষোভ : আমাদের দনিয়া প্রতিনিধি জানান, যাত্রাবাড়ী গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ, দনিয়া কলেজ, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী ক্যামব্রিয়ান কলেজ, শনির আখড়া নবারুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যাত্রাবাড়ী শহীদ গার্লস স্কুল, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, গিয়াস উদ্দিন স্কুল ও সেন্ট্রাল

ওইমেনস কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র দেখেন। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত গোলচত্বর মোড় অবরোধ করে তারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-মাওয়া সড়কসহ পুরো এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। 

ওয়ারী জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দ্বীন মোহাম্মদ যুগান্তরকে জানান, আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি সরকার যেহেতু ১ তারিখের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে। তাই ওই তারিখের আগে কোনো কিছু করা ঠিক নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। তাই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে চলে গেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন