খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত
jugantor
দ্রুত বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ মেডিকেল বোর্ডের
খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আক্রান্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। রোববার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার ভাড়াবাসা ফিরোজার আঙ্গিনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা বিএনপি নেত্রীকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার সুপারিশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফএম সিদ্দিকী) ডা. একিউএম মহসীন, ডা. শামসুল আরেফিন, ডা. মোহাম্মদ নুরুদ্দীন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. আল মামুন। বিএনপি নেত্রীর যকৃত বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, একবার এ রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, দ্বিতীয়বার সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়ার কারিগরি সুযোগও নেই। চিকিৎসকরা তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকী ব্রিফিংয়ে তার রোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে। একবার রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু এ ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়। আবার ব্লিডিং হলে বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ডা. ফখরুদ্দিন মো. সিদ্দিকী জানান, দ্বিতীয় বার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া বাসায় ফেরার কয়েকদিন পর আমরা দেখেছি তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। কয়েক কদম হাঁটার পর তিনি হাঁপিয়ে উঠতেন। তার চেহারা ফ্যাকাশে ও দুর্বল হয়ে পড়ছিল। এরপর তার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করলে দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আগের তুলনায় কমে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মনে হয় উনাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।

১৯ জুনের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী জটিলতায় উনার কিছু ডায়াগনসিস হয়নি, সেগুলো এখন করা হয়েছে। তার লিভারের সমস্যার বিষয়টি মাথায় রেখে ১৩ নভেম্বর তৃতীয়বারের মতো জরুরিভিত্তিতে বিকাল ৪টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে উনার ম্যাসিভ রক্তবমি হয়। আমরা বুঝতে পারি উনার খাদ্যনালিতে ম্যাসিভ রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। আমরা তার লাইফ সেইভ করতে দ্রুত ফ্লুয়েড দেই। দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করি। এরপর দুই ব্যাগ পিআরভিসি এবং আরও দুই ব্যাগ ফ্রেস ফ্রোজেন প্লাজমা আইভি ফ্লুয়েড দেওয়া হয়। এরপর ডিপসিডিয়েশন করে দ্রুত এন্ডোসকপি করা হয়। রক্তক্ষরণের উৎস বের করা ছিল উদ্দেশ্য। উনার পালস নেমে গিয়েছিল। সেদিন রাত ২টার দিকে উনার পালস স্বাভাবিক হয়ে আসে। আলট্রাসনো করা হয়। লিভার সিরোসিস পরিপূর্ণ অর্থাৎ আগে লিভার যেটা ধরে রাখতে পেরেছিল এখন তা পারছে না। সেখানে ম্যাসিভ রক্তক্ষরণে তিনি গভীরভাবে শকে চলে যান। রক্তের উৎস শনাক্ত করে ছয়টা ব্যান্ডিং করা হয়। এটা করে সাময়িকভাবে রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উনি ডায়বেটিক ও হার্ট ফেইলিওরের রোগী।

প্রাথমিকভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধের পর ২৪ ঘণ্টা উনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। নতুন কিছু মেডিসিন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এরপর উনার স্টুলের সঙ্গে এক-দুদিন ব্লাড যাচ্ছিল। আবার ১৭ নভেম্বর উনার ব্লিডিং শুরু হয়। এটা আমরা বুঝতে পারি যখন উনার স্টুল দিয়ে ব্লিডিং আসছিল। উনার আবার হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করি। তখন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।

লিভারে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরে ডা. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। বাংলাদেশে টিআইপিএস করা কোনো রোগী আমরা দেখি না যার দুই থেকে তিনবার এটা করা হয়েছে। তাহলে কোথায় এ চিকিৎসা করা যায়-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আমেরিকা বা ইউরোপ বেজড, বিশেষ করে ইউকে, জার্মানি ইউএসএতে কিছু সেন্টার আছে। সেটাও দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নেই দু-একটি সেন্টার আছে।

১৭, ১৮ নভেম্বরের পর আবারও তৃতীয় দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘শেষ ২৪ ঘণ্টায় তার ব্লিডিং হয়নি। আবার এমন অবস্থা হলে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে স্ট্যাবল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা দরকার। এসব রোগীর লাইফ সেভ কীভাবে করা হয়, তার চিকিৎসা সেখানে সম্ভব।’ খালেদা জিয়ার মনোবল অনেক দৃঢ় উল্লেখ করেন তিনি। ডা. জাহিদ হোসেন জানান, ‘বর্তমানে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১৭ থেকে ২৩ জনের মেডিকেল টিম কাজ করছে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা বোর্ডে।’

দ্রুত বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ মেডিকেল বোর্ডের

খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আক্রান্ত
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে -ফাইল ফটো

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা। রোববার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার ভাড়াবাসা ফিরোজার আঙ্গিনায় এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা বিএনপি নেত্রীকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার সুপারিশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফএম সিদ্দিকী) ডা. একিউএম মহসীন, ডা. শামসুল আরেফিন, ডা. মোহাম্মদ নুরুদ্দীন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও ডা. আল মামুন। বিএনপি নেত্রীর যকৃত বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, একবার এ রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, দ্বিতীয়বার সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়ার কারিগরি সুযোগও নেই। চিকিৎসকরা তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকী ব্রিফিংয়ে তার রোগের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে। একবার রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু এ ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়। আবার ব্লিডিং হলে বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ডা. ফখরুদ্দিন মো. সিদ্দিকী জানান, দ্বিতীয় বার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়া বাসায় ফেরার কয়েকদিন পর আমরা দেখেছি তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। কয়েক কদম হাঁটার পর তিনি হাঁপিয়ে উঠতেন। তার চেহারা ফ্যাকাশে ও দুর্বল হয়ে পড়ছিল। এরপর তার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করলে দেখা যায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আগের তুলনায় কমে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের মনে হয় উনাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।

১৯ জুনের সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী জটিলতায় উনার কিছু ডায়াগনসিস হয়নি, সেগুলো এখন করা হয়েছে। তার লিভারের সমস্যার বিষয়টি মাথায় রেখে ১৩ নভেম্বর তৃতীয়বারের মতো জরুরিভিত্তিতে বিকাল ৪টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টা ২০ মিনিটে উনার ম্যাসিভ রক্তবমি হয়। আমরা বুঝতে পারি উনার খাদ্যনালিতে ম্যাসিভ রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। আমরা তার লাইফ সেইভ করতে দ্রুত ফ্লুয়েড দেই। দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করি। এরপর দুই ব্যাগ পিআরভিসি এবং আরও দুই ব্যাগ ফ্রেস ফ্রোজেন প্লাজমা আইভি ফ্লুয়েড দেওয়া হয়। এরপর ডিপসিডিয়েশন করে দ্রুত এন্ডোসকপি করা হয়। রক্তক্ষরণের উৎস বের করা ছিল উদ্দেশ্য। উনার পালস নেমে গিয়েছিল। সেদিন রাত ২টার দিকে উনার পালস স্বাভাবিক হয়ে আসে। আলট্রাসনো করা হয়। লিভার সিরোসিস পরিপূর্ণ অর্থাৎ আগে লিভার যেটা ধরে রাখতে পেরেছিল এখন তা পারছে না। সেখানে ম্যাসিভ রক্তক্ষরণে তিনি গভীরভাবে শকে চলে যান। রক্তের উৎস শনাক্ত করে ছয়টা ব্যান্ডিং করা হয়। এটা করে সাময়িকভাবে রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, উনি ডায়বেটিক ও হার্ট ফেইলিওরের রোগী।

প্রাথমিকভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধের পর ২৪ ঘণ্টা উনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। নতুন কিছু মেডিসিন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এরপর উনার স্টুলের সঙ্গে এক-দুদিন ব্লাড যাচ্ছিল। আবার ১৭ নভেম্বর উনার ব্লিডিং শুরু হয়। এটা আমরা বুঝতে পারি যখন উনার স্টুল দিয়ে ব্লিডিং আসছিল। উনার আবার হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করি। তখন হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫।

লিভারে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরে ডা. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এটা একটা হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। বাংলাদেশে টিআইপিএস করা কোনো রোগী আমরা দেখি না যার দুই থেকে তিনবার এটা করা হয়েছে। তাহলে কোথায় এ চিকিৎসা করা যায়-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আমেরিকা বা ইউরোপ বেজড, বিশেষ করে ইউকে, জার্মানি ইউএসএতে কিছু সেন্টার আছে। সেটাও দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে নেই দু-একটি সেন্টার আছে।

১৭, ১৮ নভেম্বরের পর আবারও তৃতীয় দফায় রক্তক্ষরণ হয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘শেষ ২৪ ঘণ্টায় তার ব্লিডিং হয়নি। আবার এমন অবস্থা হলে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে স্ট্যাবল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে উন্নত চিকিৎসা দরকার। এসব রোগীর লাইফ সেভ কীভাবে করা হয়, তার চিকিৎসা সেখানে সম্ভব।’ খালেদা জিয়ার মনোবল অনেক দৃঢ় উল্লেখ করেন তিনি। ডা. জাহিদ হোসেন জানান, ‘বর্তমানে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য মিলিয়ে অন্তত ১৭ থেকে ২৩ জনের মেডিকেল টিম কাজ করছে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা বোর্ডে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন