তাইজুলময় দিনেও ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি
jugantor
তাইজুলময় দিনেও ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে উইকেটে পাকিস্তানের পেসাররা আগুন ঝরিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের কোনো স্পিনার যে এভাবে ছড়ি ঘোরাবেন-সেটা কেইবা ভেবেছিলেন। দ্বিতীয়দিন শেষে লিটন দাস বলেছিলেন, এক সেশনেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। যা অনেকের কাছে স্বপ্ন মনে হয়েছিল। রোববার চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনে তাইজুল দিলেন সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। প্রথম দুদিনের চেয়ে সাগরিকায় কাল সকালটা শুরু হয়েছিল অপেক্ষাকৃত কম প্রত্যাশা নিয়ে। অনেক সাংবাদিক তখনও প্রেসবক্সেই আসেননি। বল হাতেই শুরুতেই জাদুকরী এক ওভারে তাইজুল ইসলাম দেখিয়ে দিলেন তিন কাঠির খেলায় কত দ্রুত রং বদলে যায়। রংধনুর সাত রঙে পাকিস্তানকে বাঁধলেন তাইজুল। প্রথম সেশনে করেছেন টানা ১৬ ওভার। মাঝে একটু বিরতি। শেষ দৃশ্যেও তাইজুল। তার ঘূর্ণিজাদুতে নাকাল হয়ে বিনা উইকেটে ১৪৬ থেকে ২৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান। ১১৬ রানে সাত উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪৪ রানের লিড এনে দেন এই স্পিনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটাই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। শেষ উইকেটে ২৯ রানের জুটি না হলে লিডটা আরও বড় হতো স্বাগতিকদের। তাইজুলময় দিনের শেষটা অবশ্য অস্বস্তিতেই শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে স্বাগতিকরা। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে চার উইকেটে ৩৯ রানে। ছয় উইকেট হাতে রেখে লিড ৮৩ রানের। লিড বাড়ানোর দায়িত্ব এখন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম (১২*) ও সবচেয়ে তরুণ ইয়াসির আলীর (৮*) কাঁধে।

শুরুর ধাক্কা সামলে প্রথম ইনিংসের মতো আরেকটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি করতে পারলেই চট্টগ্রাম টেস্টের লাগাম বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে। দুদলের প্রথম ইনিংসে দারুণ বৈপরীত্য রয়ে গেল। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে চার উইকেট হারানোর পর গড়েছে বড় সংগ্রহের ভিত। পাকিস্তান ওপেনিং জুটিতে ১৪৬ রান তুলেও স্কোরটা নিতে পারেনি তিনশর ঘরে।

কাল ৫৮.৪ ব্যাট করেছে পাকিস্তান। যার ২৫.৪ ওভারই তাইজুলের। এত বিশ্বস্ত হাত যে মুমিনুলের কাছে এদিন আর কেউই ছিলেন না। শুরুতে তাইজুলের সঙ্গে ইবাদত হোসেনকে বোলিংয়ে আনা নিয়ে অনেকেরই দ্বিমত ছিল। পরে সেই ইবাদতই তাইজুলকে ভালো সঙ্গ দিয়ে তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ওপেনিংয়ে ১৪৬ রানের জুটির পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় বড় জুটি দশম উইকেটে। ৯৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে সময় নেননি ওপেনার আবিদ আলী। তবে অন্য প্রান্তে দেখেছেন আজাহার, বাবরদের আসা-যাওয়া। আবিদ হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের গলার কাঁটা। যখন ফেরেন তখন তার রান ১৩৩। আরেক ওপেনার শফিককেও ৫২ রানে থামান তাইজুল। শেষ উইকেটে স্বাগতিকদের অস্বস্তিতে রেখে ফাহিম আশরাফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি তুলে ফেলেন ২৯ রান। এবারও স্বস্তি ফেরান তাইজুল। তার সাত উইকেটের চারটিই ছিল এলবিডব্ল–। সব মিলে ক্যারিয়ারে নবমবার পেলেন পাঁচ বা তার বেশি উইকেট।

লিড পাওয়ার পরও যে ভয়টা উঁকি দিয়েছিল, সেটাই বাস্তবে রূপ দেন শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলী। নিজের তৃতীয় ওভারেই জোড়া আঘাতে আফ্রিদি ফেরান সাদমান ইসলাম (১) ও নাজমুল হোসেন শান্তকে (০)। পরের ওভারেই হাসান আলীকে উইকেট ছুড়ে দিয়ে ফিরলেন চট্টগ্রামের রাজা মুমিনুল হক। অধিনায়ক ব্যর্থ দুই ইনিংসেই। সাইফ হাসানের গল্পটা প্রথম ইনিংসের মতোই। দারুণ তিন শটে চার হাকিয়ে আফ্রিদির এক বাউন্সারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ধরলেন সাজঘরের পথ। ২৫ রানে চার উইকেট হারানো দলকে পথ দেখাচ্ছেন মুশফিক ও ইয়াসির। বাকি ছয় উইকেটে বাংলাদেশ কতটা পথ পাড়ি দিতে পারে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

তাইজুলময় দিনেও ব্যাটিংয়ে অস্বস্তি

 জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যে উইকেটে পাকিস্তানের পেসাররা আগুন ঝরিয়েছেন, সেখানে বাংলাদেশের কোনো স্পিনার যে এভাবে ছড়ি ঘোরাবেন-সেটা কেইবা ভেবেছিলেন। দ্বিতীয়দিন শেষে লিটন দাস বলেছিলেন, এক সেশনেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। যা অনেকের কাছে স্বপ্ন মনে হয়েছিল। রোববার চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনে তাইজুল দিলেন সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। প্রথম দুদিনের চেয়ে সাগরিকায় কাল সকালটা শুরু হয়েছিল অপেক্ষাকৃত কম প্রত্যাশা নিয়ে। অনেক সাংবাদিক তখনও প্রেসবক্সেই আসেননি। বল হাতেই শুরুতেই জাদুকরী এক ওভারে তাইজুল ইসলাম দেখিয়ে দিলেন তিন কাঠির খেলায় কত দ্রুত রং বদলে যায়। রংধনুর সাত রঙে পাকিস্তানকে বাঁধলেন তাইজুল। প্রথম সেশনে করেছেন টানা ১৬ ওভার। মাঝে একটু বিরতি। শেষ দৃশ্যেও তাইজুল। তার ঘূর্ণিজাদুতে নাকাল হয়ে বিনা উইকেটে ১৪৬ থেকে ২৮৬ রানে অলআউট পাকিস্তান। ১১৬ রানে সাত উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৪৪ রানের লিড এনে দেন এই স্পিনার। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটাই বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। শেষ উইকেটে ২৯ রানের জুটি না হলে লিডটা আরও বড় হতো স্বাগতিকদের। তাইজুলময় দিনের শেষটা অবশ্য অস্বস্তিতেই শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে স্বাগতিকরা। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে চার উইকেটে ৩৯ রানে। ছয় উইকেট হাতে রেখে লিড ৮৩ রানের। লিড বাড়ানোর দায়িত্ব এখন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম (১২*) ও সবচেয়ে তরুণ ইয়াসির আলীর (৮*) কাঁধে।

শুরুর ধাক্কা সামলে প্রথম ইনিংসের মতো আরেকটি দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি করতে পারলেই চট্টগ্রাম টেস্টের লাগাম বাংলাদেশের হাতে চলে আসবে। দুদলের প্রথম ইনিংসে দারুণ বৈপরীত্য রয়ে গেল। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে ৪৯ রানে চার উইকেট হারানোর পর গড়েছে বড় সংগ্রহের ভিত। পাকিস্তান ওপেনিং জুটিতে ১৪৬ রান তুলেও স্কোরটা নিতে পারেনি তিনশর ঘরে।

কাল ৫৮.৪ ব্যাট করেছে পাকিস্তান। যার ২৫.৪ ওভারই তাইজুলের। এত বিশ্বস্ত হাত যে মুমিনুলের কাছে এদিন আর কেউই ছিলেন না। শুরুতে তাইজুলের সঙ্গে ইবাদত হোসেনকে বোলিংয়ে আনা নিয়ে অনেকেরই দ্বিমত ছিল। পরে সেই ইবাদতই তাইজুলকে ভালো সঙ্গ দিয়ে তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। ওপেনিংয়ে ১৪৬ রানের জুটির পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় বড় জুটি দশম উইকেটে। ৯৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে সময় নেননি ওপেনার আবিদ আলী। তবে অন্য প্রান্তে দেখেছেন আজাহার, বাবরদের আসা-যাওয়া। আবিদ হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের গলার কাঁটা। যখন ফেরেন তখন তার রান ১৩৩। আরেক ওপেনার শফিককেও ৫২ রানে থামান তাইজুল। শেষ উইকেটে স্বাগতিকদের অস্বস্তিতে রেখে ফাহিম আশরাফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি তুলে ফেলেন ২৯ রান। এবারও স্বস্তি ফেরান তাইজুল। তার সাত উইকেটের চারটিই ছিল এলবিডব্ল–। সব মিলে ক্যারিয়ারে নবমবার পেলেন পাঁচ বা তার বেশি উইকেট।

লিড পাওয়ার পরও যে ভয়টা উঁকি দিয়েছিল, সেটাই বাস্তবে রূপ দেন শাহিন আফ্রিদি ও হাসান আলী। নিজের তৃতীয় ওভারেই জোড়া আঘাতে আফ্রিদি ফেরান সাদমান ইসলাম (১) ও নাজমুল হোসেন শান্তকে (০)। পরের ওভারেই হাসান আলীকে উইকেট ছুড়ে দিয়ে ফিরলেন চট্টগ্রামের রাজা মুমিনুল হক। অধিনায়ক ব্যর্থ দুই ইনিংসেই। সাইফ হাসানের গল্পটা প্রথম ইনিংসের মতোই। দারুণ তিন শটে চার হাকিয়ে আফ্রিদির এক বাউন্সারে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ধরলেন সাজঘরের পথ। ২৫ রানে চার উইকেট হারানো দলকে পথ দেখাচ্ছেন মুশফিক ও ইয়াসির। বাকি ছয় উইকেটে বাংলাদেশ কতটা পথ পাড়ি দিতে পারে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন