প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও আজ
jugantor
‘হাফ ভাড়া’ : বিক্ষোভ অব্যাহত
প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও আজ
ছাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার অভিযোগ

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঘেরাও

বাসে হাফ (অর্ধেক) ভাড়া কার্যকরের দাবিতে সোমবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে আজ সকালে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে।

সোমবার রাজধানীর নীলক্ষেত, শান্তিনগর ও শাহবাগ এলাকায় অবস্থান এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিকে, রামপুরায় ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের এক ছাত্রীকে বাসের হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

পরে রাইদা পরিবহণের ৪০টি বাস আটক করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে বাসগুলো আটক করেন ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিকাল ৪টার পর বাস ছেড়ে দেওয়া হয়।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে ৯ দফা দাবিতে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন-২০২১’-এর ব্যানারে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এদিন কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করেন তারা। এদিন ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাদের আধা ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২০২১-এর মুখপাত্র মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সব সময় অর্ধেক ভাড়ায় গণপরিবহণে চলাচল করে আসছে। এটা ছাত্রদের অধিকার। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও এই দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। তাহলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে গড়িমসি কেন করছে?

আমরা সব গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়া দাবি করেছি। সরকার ঘোষণা দিল বিআরটিসি বাসে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে। আমরা তা মানি না, আজকের মধ্যে (সোমবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামীকাল (আজ) সকালে বিআরটিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেব আমরা।

মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, আজ (সোমবার) বেশ কিছু নিয়োগ পরীক্ষা আছে। পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা কোথাও সড়ক অবরোধ করব না। আমরা আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব। বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ের কর্মসূচি শেষ করেন।

সোমবার দুপুরে শাহবাগে বাম ধারার আট ছাত্র সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১২টার দিকে আট ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত একটি মিছিল ঢাবির টিএসসিতে শুরু হয়ে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশ শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে তারা সমাবেশ শেষ করেন।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু নয়। রাস্তায় মিছিলে হামলা করে প্রমাণ করেছে, তারা নিরাপদ সড়ক চায় না। তারা এর আগেও আমাদের ওপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। সড়কে মানুষ মরে, সরকার কী করে?’ সড়কে হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাশ কার্যকর করতে হবে। বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। যতদিন আমাদের দাবি মানা না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মিছিল দেখে তারা ভয় পেয়েছে। আমাদের অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলন চলবে।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন অফিস ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মমিন বলেন, ‘আজ নাঈম হত্যার পর মেয়র এসে মুলা ঝুলিয়ে দায় এড়াতে চান। ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিকদের একটা বিরোধ লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সব জায়গায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে।’

কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাহবাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দুই পাশে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। এই মোড় অবরোধ করলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা তাদের শাহবাগ মোড় অবরোধ না করার অনুরোধ করি। এর পরও সামনে এগোতে চাইলে তাদের বাধা দিই।

সোমবার দুপুরের দিকে শান্তিনগরের সড়কে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন।

পল্টন থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন মিয়া জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিনগর মোড়ে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ আগে সেখান থেকে সরে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসের ভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়।

এরপর ১৮ নভেম্বর অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মাঝেই গত বুধবার সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন।

সেদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে, ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরের দিকে এক ছাত্রীকে রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে নামার সময় রাইদা বাসের হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন এবং রাইদা পরিবহণের ৪০টি বাস আটকে দেন।

রাইদা পরিবহণের পরিচালকের কাছে শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। রাইদা পরিবহণের পরিচালক মকবুল পাটুয়ারী এসব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল ঘটনায় দায়ী হেলপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কোনো যাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা যাবে না, সবার কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে হবে।

রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ইম্পিরিয়াল কলেজের এক ছাত্রী বেলা ১১টার দিকে টিকা দিয়ে মুগদা এলাকা থেকে রাইদা বাসে রামপুরা ট্রাফিক বক্সের পশ্চিম পাশে ইউলুপের কোনায় নামছিলেন।

এ সময় চালকের সহকারী তাকে অশোভনভাবে গায়ে ধাক্কা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। ঘটনার সময় ওই ছাত্রী কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন না। নামার সময় তাকে ধাক্কা দেয়।

‘হাফ ভাড়া’ : বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রজ্ঞাপন না হলে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও আজ

ছাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার অভিযোগ
 যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঘেরাও
বাস ও লঞ্চের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার এবং গণপরিবহণে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে আট ছাত্র সংগঠনের সড়ক অবরোধে সোমবার শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি -যুগান্তর

বাসে হাফ (অর্ধেক) ভাড়া কার্যকরের দাবিতে সোমবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রজ্ঞাপন জারি না করা হলে আজ সকালে বিআরটিএ ভবন ঘেরাও হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে।

সোমবার রাজধানীর নীলক্ষেত, শান্তিনগর ও শাহবাগ এলাকায় অবস্থান এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিকে, রামপুরায় ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের এক ছাত্রীকে বাসের হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।

পরে রাইদা পরিবহণের ৪০টি বাস আটক করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর আড়াইটার দিকে বাসগুলো আটক করেন ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিকাল ৪টার পর বাস ছেড়ে দেওয়া হয়। 

বেলা সোয়া ১২টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে ৯ দফা দাবিতে ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন-২০২১’-এর ব্যানারে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এদিন কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা থাকায় সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি পালন করেন তারা। এদিন ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাদের আধা ঘণ্টার কর্মসূচি পালন করেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ২০২১-এর মুখপাত্র মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সব সময় অর্ধেক ভাড়ায় গণপরিবহণে চলাচল করে আসছে। এটা ছাত্রদের অধিকার। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও এই দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। তাহলে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে গড়িমসি কেন করছে?

আমরা সব গণপরিবহণে অর্ধেক ভাড়া দাবি করেছি। সরকার ঘোষণা দিল বিআরটিসি বাসে অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে। আমরা তা মানি না, আজকের মধ্যে (সোমবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আগামীকাল (আজ) সকালে বিআরটিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেব আমরা।

মহিদুল ইসলাম দাউদ বলেন, আজ (সোমবার) বেশ কিছু নিয়োগ পরীক্ষা আছে। পরীক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা কোথাও সড়ক অবরোধ করব না। আমরা আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেব। বেলা পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ের কর্মসূচি শেষ করেন। 

সোমবার দুপুরে শাহবাগে বাম ধারার আট ছাত্র সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১২টার দিকে আট ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত একটি মিছিল ঢাবির টিএসসিতে শুরু হয়ে শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশ শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে তারা সমাবেশ শেষ করেন।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু নয়। রাস্তায় মিছিলে হামলা করে প্রমাণ করেছে, তারা নিরাপদ সড়ক চায় না। তারা এর আগেও আমাদের ওপর হামলা করেছে।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। সড়কে মানুষ মরে, সরকার কী করে?’ সড়কে হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাশ কার্যকর করতে হবে। বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। যতদিন আমাদের দাবি মানা না হবে, ততদিন আন্দোলন চলবে।’

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মিছিল দেখে তারা ভয় পেয়েছে। আমাদের অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলন চলবে।

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন অফিস ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মমিন বলেন, ‘আজ নাঈম হত্যার পর মেয়র এসে মুলা ঝুলিয়ে দায় এড়াতে চান। ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিকদের একটা বিরোধ লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সব জায়গায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে।’

কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাহবাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দুই পাশে দুটি হাসপাতাল রয়েছে। এই মোড় অবরোধ করলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমরা তাদের শাহবাগ মোড় অবরোধ না করার অনুরোধ করি। এর পরও সামনে এগোতে চাইলে তাদের বাধা দিই।

সোমবার দুপুরের দিকে শান্তিনগরের সড়কে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। 

পল্টন থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন মিয়া জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিনগর মোড়ে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ আগে সেখান থেকে সরে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে বাসের ভাড়া ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়।

এরপর ১৮ নভেম্বর অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মাঝেই গত বুধবার সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন।

সেদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে, ঢাকা ইম্পিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরের দিকে এক ছাত্রীকে রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে নামার সময় রাইদা বাসের হেলপার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে রামপুরা বিটিভি ভবনের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন এবং রাইদা পরিবহণের ৪০টি বাস আটকে দেন।

রাইদা পরিবহণের পরিচালকের কাছে শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। রাইদা পরিবহণের পরিচালক মকবুল পাটুয়ারী এসব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল ঘটনায় দায়ী হেলপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কোনো যাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা যাবে না, সবার কাছ থেকে ন্যায্য ভাড়া নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে হবে।

রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ইম্পিরিয়াল কলেজের এক ছাত্রী বেলা ১১টার দিকে টিকা দিয়ে মুগদা এলাকা থেকে রাইদা বাসে রামপুরা ট্রাফিক বক্সের পশ্চিম পাশে ইউলুপের কোনায় নামছিলেন।

এ সময় চালকের সহকারী তাকে অশোভনভাবে গায়ে ধাক্কা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। ঘটনার সময় ওই ছাত্রী কলেজের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন না। নামার সময় তাকে ধাক্কা দেয়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন