নৌকার হার অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে
jugantor
তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন
নৌকার হার অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে
স্বতন্ত্র ৪৪৫ ও আ.লীগের প্রার্থী ৪২৬টিতে জয়ী * তৃণমূলের মত উপেক্ষা, মনোনয়নে ত্রুটি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ফল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের দিক থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্ররা এগিয়ে রয়েছেন। রোববারের ভোটে ফল ঘোষিত হওয়া ৯০১ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে তারা জয় পেয়েছেন ৪৪৫টিতে।

জয়ের হার ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪২৬টিতে। হার ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নেই হেরেছে নৌকা। অবশ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় যোগ করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

এ ধাপে আওয়ামী লীগের ৯৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। তাদেরসহ আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৫২৫টিতে। আর একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। তাকে নিয়ে স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছেন ৪৪৬টিতে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জমিয়তে উলামায়ে একটি করে ইউপিতে বিজয়ী হয়। সংঘাতসহ নানা কারণে ৯টির ফল ঘোষণা করা হয়নি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তৃতীয় ধাপে রোববার ৯৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এ ধাপে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশ করেন।

এ কারণে সেখানে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এগুলোসহ এ ধাপে ১০০ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য ১৩২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান।

ইসি সূত্র জানায়, এবারই প্রথম দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্ররা বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেল। আগের দুই ধাপে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে জয় পেয়েছিলেন।

কয়েক জেলায় বিপর্যয় নেমেছে নৌকায়। এর মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, যশোর, রংপুর, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা। এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের পরাজিতদের বড় অংশই হেরেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কক্সবাজারে দুজনসহ কয়েক স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন না করায় কয়েক স্থানে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। আর পরাজয়ের কারণ হিসাবে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা, কম জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতিকে দায়ী করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৭ ইউপির ১৫টিতেই নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে সদরের ৯ ইউপির কোনোটিতেই জিততে পারেনি আওয়ামী লীগ। পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

এ ছাড়া বিএনপির পাঁচজন, জাতীয় পার্টি থেকে দুজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে একজন এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী জয় পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের একটিতেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হননি।

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র আটটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দুই উপজেলায় পাঁচটিতে বিএনপি নেতা, পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

দিনাজপুরের ২৩ ইউপির ১৬টিতেই পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন মাত্র একটিতে। স্বতন্ত্র হিসাবে জয় পাওয়া আটজনের তিনজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

কক্সবাজারের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, তিনটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও ছয়টিতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জান্নাতুল বকেয়া রেখা ভোট পেয়েছেন ৯৯টি আর পেকুয়ার মগনামা ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজেম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৫টি ভোট। এ দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

রংপুরের তিন উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রাথী জয় পেয়েছেন চারটিতে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আটটি ও জাসদের প্রার্থী একটিতে জয়লাভ করেছেন। হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র আটটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

বগুড়া সদর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী। ছয়টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন। যশোরের তিন উপজেলার ৩৫ ইউনিয়ন পরিষদের ১৪টিতে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এসব ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১২ ইউনিয়ন পরিষদের ছয়টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বাকি ছয়টির চারটিতে নৌকার বিদ্রোহী ও একটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। সাতক্ষীরার দুই উপজেলায় ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই হার মেনেছে নৌকা।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হতাশ আওয়ামী লীগ। এখানকার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে নৌকা পরাজিত হয়েছে। ওই ১১টিতে বর্তমান এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মাত্র একটিতে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী।

নওগাঁর মান্দায় ১৪টি ইউপির মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ১১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র হিসাবে বিজয়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চারজন। বাকি সাতজনের মধ্যে চারজন বিএনপি ও তিনজন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় ২২ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। সরাইল উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পেয়েছেন মাত্র দুটিতে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ ইউনিয়নের পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ ও আটটিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের ৯ কেন্দ্রের একটিতেও জিততে পারেননি নৌকার প্রার্থী।

তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন

নৌকার হার অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে

স্বতন্ত্র ৪৪৫ ও আ.লীগের প্রার্থী ৪২৬টিতে জয়ী * তৃণমূলের মত উপেক্ষা, মনোনয়নে ত্রুটি, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ ফল
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের দিক থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্ররা এগিয়ে রয়েছেন। রোববারের ভোটে ফল ঘোষিত হওয়া ৯০১ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে তারা জয় পেয়েছেন ৪৪৫টিতে।

জয়ের হার ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪২৬টিতে। হার ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নেই হেরেছে নৌকা। অবশ্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় যোগ করলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

এ ধাপে আওয়ামী লীগের ৯৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। তাদেরসহ আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৫২৫টিতে। আর একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। তাকে নিয়ে স্বতন্ত্ররা জয়ী হয়েছেন ৪৪৬টিতে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জমিয়তে উলামায়ে একটি করে ইউপিতে বিজয়ী হয়। সংঘাতসহ নানা কারণে ৯টির ফল ঘোষণা করা হয়নি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তৃতীয় ধাপে রোববার ৯৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এ ধাপে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশ করেন।

এ কারণে সেখানে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এগুলোসহ এ ধাপে ১০০ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ৩৩৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য ১৩২ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পান। 

ইসি সূত্র জানায়, এবারই প্রথম দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্ররা বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেল। আগের দুই ধাপে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা বেশি সংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে জয় পেয়েছিলেন। 

কয়েক জেলায় বিপর্যয় নেমেছে নৌকায়। এর মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, যশোর, রংপুর, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরা। এসব এলাকায় আওয়ামী লীগের পরাজিতদের বড় অংশই হেরেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। কক্সবাজারে দুজনসহ কয়েক স্থানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন না করায় কয়েক স্থানে নৌকার ভরাডুবি হয়েছে। আর পরাজয়ের কারণ হিসাবে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা, কম জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতিকে দায়ী করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের ১৭ ইউপির ১৫টিতেই নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এর মধ্যে সদরের ৯ ইউপির কোনোটিতেই জিততে পারেনি আওয়ামী লীগ। পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

এ ছাড়া বিএনপির পাঁচজন, জাতীয় পার্টি থেকে দুজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে একজন এবং স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী জয় পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের একটিতেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হননি।

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র আটটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দুই উপজেলায় পাঁচটিতে বিএনপি নেতা, পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

দিনাজপুরের ২৩ ইউপির ১৬টিতেই পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এর মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন মাত্র একটিতে। স্বতন্ত্র হিসাবে জয় পাওয়া আটজনের তিনজনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। 

কক্সবাজারের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, তিনটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও ছয়টিতে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জান্নাতুল বকেয়া রেখা ভোট পেয়েছেন ৯৯টি আর পেকুয়ার মগনামা ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজেম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪৫টি ভোট। এ দুই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। 

রংপুরের তিন উপজেলায় ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রাথী জয় পেয়েছেন চারটিতে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আটটি ও জাসদের প্রার্থী একটিতে জয়লাভ করেছেন। হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র আটটিতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। 

বগুড়া সদর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র দুটিতে বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী। ছয়টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন। যশোরের তিন উপজেলার ৩৫ ইউনিয়ন পরিষদের ১৪টিতে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এসব ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। 

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১২ ইউনিয়ন পরিষদের ছয়টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বাকি ছয়টির চারটিতে নৌকার বিদ্রোহী ও একটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। সাতক্ষীরার দুই উপজেলায় ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই হার মেনেছে নৌকা।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হতাশ আওয়ামী লীগ। এখানকার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে নৌকা পরাজিত হয়েছে। ওই ১১টিতে বর্তমান এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। মাত্র একটিতে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী। 

নওগাঁর মান্দায় ১৪টি ইউপির মধ্যে তিনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ১১টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র হিসাবে বিজয়ীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চারজন। বাকি সাতজনের মধ্যে চারজন বিএনপি ও তিনজন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। একটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই উপজেলায় ২২ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। সরাইল উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয় পেয়েছেন মাত্র দুটিতে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ১৩ ইউনিয়নের পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ ও আটটিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের ৯ কেন্দ্রের একটিতেও জিততে পারেননি নৌকার প্রার্থী।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন