অলৌকিক কিছুর আশায় বাংলাদেশ
jugantor
অলৌকিক কিছুর আশায় বাংলাদেশ

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে  

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম টেস্টে সুযোগ পেলেই শাহিন শাহ আফ্রিদি শরীর বরাবর বল করে ফায়দা তুলছেন। সোমবার সকালের পানিপান বিরতির তখন এক ওভার বাকি। আফ্রিদির বল লাগে ইয়াসির আলীর মাথায়। ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে মাথায়-মুখে পানি দিয়ে ইয়াসির চালিয়ে যান খেলা।

ওভার শেষ হতেই ইয়াসিরের মধ্যে উলটাপালটা কিছু লক্ষ করা যায়। সময় নেননি ফিজিও, মধ্যাহ্ন বিরতিতে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির। স্ক্যান করাতে তাকে যেতে হয় হাসপাতালে। আফ্রিদি যে শুধু অভিষিক্ত এই ক্রিকেটারকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ক্ষান্ত হননি, বাংলাদেশের সম্ভাবনাও ওই ১৪৪ কিলোমিটারের বলটায় ড্রেসিংরুমে চলে গেছে। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে সাগরিকায় প্রথম চার দিনই চরম নাটকীয়তা। শেষ দৃশ্যে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে। চতুর্থ দিনের সকালে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ ছয় আফ্রিদির।

২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান ১০৯/০। প্রথম তিন দিন দোলাচল, চতুর্থ দিন শেষে জয়ের দুয়ারে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন সকালে তাইজুল যে ঝলক দেখিয়েছিলেন, তেমনই কোনো জাদুর পরশই শুধু জাগিয়ে তুলতে পারে স্বাগতিকদের সম্ভাবনা। অলৌকিক কিছুর আশায় আজ শেষদিনে মাঠে নামবেন মুমিনুলরা। শেষদিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯৩ রান। বাংলাদেশের দরকার ১০ উইকেট।

প্রথম ওভারেই দারুণ বাউন্ডারি মারার পর হাসান আলীর একটি বল ঠিকঠাক পড়তে না পারায় ব্যাট উঁচিয়ে ধরে বোল্ড হয়ে যান মুশফিক। শুরুতেই ধাক্কা। মাথায় আঘাত লাগার পর হাসপাতালে রয়েছেন ইয়াসির। তাকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইয়াসির হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগেই ম্যাচের ফল হয়ে যাবে। ইয়াসির ও লিটন যখন ব্যাট করছিলেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর আড়াইশ ছাড়ানোর সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল। ৭২ বল খেলে ইয়াসির করেন ৩৬ রান। রানের থেকে তার খেলার ধরন ও শটগুলো ছিল নিখুঁত। এমন দিনে আশা করাটাই স্বাভাবিক। আফ্রিদি বডিলাইনে বোলিং করে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যাটারের গায়ে বল লাগিয়েছেন। শেষবেলায় বল থেকে চোখ সরিয়ে ইয়াসির আঘাত পান হেলমেটের পেছনের অংশে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো খেলতে খেলতেই সাজিদ খানের স্পিনে এলবিডব্লু হয়েছেন। কনকাশন বদলি হিসাবে ইয়াসিরের পরিবর্তে মাঠে নামেন নুরুল হাসান সোহান। তিনবার আউটের সম্ভাবনা থেকে বেঁচে যাওয়া লিটন খুঁজে পান চেনা ছন্দ। সোহানও তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন আস্থা নিয়ে। তাদের জুটি আশা দেখাচ্ছিল বড় লিডের। হঠাৎ চিরাচরিত রোগের কবলে নিজেকে সঁপে দেন সোহান। সুযোগ পেয়েও অপ্রয়োজনীয় শটে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সাজিদ খানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দুজনের জুটি ৩৮ রানের। বাংলাদেশের রান তখন ১৫৩। সেখান থেকে চার রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে শেষ বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি (৫৯) করা লিটনকে ফেরান আফ্রিদি। একই ওভারে আবু জায়েদকে তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবার আফ্রিদি পেয়ে যান পাঁচ উইকেট। সাজিদের ওভারে শেষ ব্যাটার হিসাবে নিজেকে সঁপে দেন তাইজুল। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট ১৫৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড। পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রান।

প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের রয়েছে মিল। প্রথম ইনিংসে প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও এক সেশনের বেশি ব্যাট করে তারা তুলেছে ১০৯/০ রান। তবে পরের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে যে টর্নেডো হয়েছিল, সেটারই পুনরাবৃত্তি আজ বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে পারে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আবিদ ৫৬ এবং হাফ সেঞ্চুরিয়ান শফিক ৫৩ রানে অপরাজিত। সাগরিকার সকালে থাকা সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে যে তাদের ৯৩ রানের মধ্যে অলআউট করা অসম্ভব নয়, বুঝতে পারছে স্বাগতিকরা। তবে কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে বিশেষ কিছু করতে হবে, সেটা জেনেই কাল ঘুমাতে যান মুমিনুলরা। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

অলৌকিক কিছুর আশায় বাংলাদেশ

 জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে 
৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম টেস্টে সুযোগ পেলেই শাহিন শাহ আফ্রিদি শরীর বরাবর বল করে ফায়দা তুলছেন। সোমবার সকালের পানিপান বিরতির তখন এক ওভার বাকি। আফ্রিদির বল লাগে ইয়াসির আলীর মাথায়। ফিজিওর সঙ্গে কথা বলে মাথায়-মুখে পানি দিয়ে ইয়াসির চালিয়ে যান খেলা।

ওভার শেষ হতেই ইয়াসিরের মধ্যে উলটাপালটা কিছু লক্ষ করা যায়। সময় নেননি ফিজিও, মধ্যাহ্ন বিরতিতে মাঠ ছাড়েন ইয়াসির। স্ক্যান করাতে তাকে যেতে হয় হাসপাতালে। আফ্রিদি যে শুধু অভিষিক্ত এই ক্রিকেটারকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ক্ষান্ত হননি, বাংলাদেশের সম্ভাবনাও ওই ১৪৪ কিলোমিটারের বলটায় ড্রেসিংরুমে চলে গেছে। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে সাগরিকায় প্রথম চার দিনই চরম নাটকীয়তা। শেষ দৃশ্যে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে। চতুর্থ দিনের সকালে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ ছয় আফ্রিদির।

২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান ১০৯/০। প্রথম তিন দিন দোলাচল, চতুর্থ দিন শেষে জয়ের দুয়ারে পাকিস্তান। তৃতীয় দিন সকালে তাইজুল যে ঝলক দেখিয়েছিলেন, তেমনই কোনো জাদুর পরশই শুধু জাগিয়ে তুলতে পারে স্বাগতিকদের সম্ভাবনা। অলৌকিক কিছুর আশায় আজ শেষদিনে মাঠে নামবেন মুমিনুলরা। শেষদিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯৩ রান। বাংলাদেশের দরকার ১০ উইকেট।

প্রথম ওভারেই দারুণ বাউন্ডারি মারার পর হাসান আলীর একটি বল ঠিকঠাক পড়তে না পারায় ব্যাট উঁচিয়ে ধরে বোল্ড হয়ে যান মুশফিক। শুরুতেই ধাক্কা। মাথায় আঘাত লাগার পর হাসপাতালে রয়েছেন ইয়াসির। তাকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইয়াসির হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগেই ম্যাচের ফল হয়ে যাবে। ইয়াসির ও লিটন যখন ব্যাট করছিলেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর আড়াইশ ছাড়ানোর সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল। ৭২ বল খেলে ইয়াসির করেন ৩৬ রান। রানের থেকে তার খেলার ধরন ও শটগুলো ছিল নিখুঁত। এমন দিনে আশা করাটাই স্বাভাবিক। আফ্রিদি বডিলাইনে বোলিং করে বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যাটারের গায়ে বল লাগিয়েছেন। শেষবেলায় বল থেকে চোখ সরিয়ে ইয়াসির আঘাত পান হেলমেটের পেছনের অংশে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো খেলতে খেলতেই সাজিদ খানের স্পিনে এলবিডব্লু হয়েছেন। কনকাশন বদলি হিসাবে ইয়াসিরের পরিবর্তে মাঠে নামেন নুরুল হাসান সোহান। তিনবার আউটের সম্ভাবনা থেকে বেঁচে যাওয়া লিটন খুঁজে পান চেনা ছন্দ। সোহানও তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন আস্থা নিয়ে। তাদের জুটি আশা দেখাচ্ছিল বড় লিডের। হঠাৎ চিরাচরিত রোগের কবলে নিজেকে সঁপে দেন সোহান। সুযোগ পেয়েও অপ্রয়োজনীয় শটে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সাজিদ খানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দুজনের জুটি ৩৮ রানের। বাংলাদেশের রান তখন ১৫৩। সেখান থেকে চার রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে শেষ বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি (৫৯) করা লিটনকে ফেরান আফ্রিদি। একই ওভারে আবু জায়েদকে তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবার আফ্রিদি পেয়ে যান পাঁচ উইকেট। সাজিদের ওভারে শেষ ব্যাটার হিসাবে নিজেকে সঁপে দেন তাইজুল। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট ১৫৭ রানে। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানের লিড। পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০২ রান।

প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের রয়েছে মিল। প্রথম ইনিংসে প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৪৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসেও এক সেশনের বেশি ব্যাট করে তারা তুলেছে ১০৯/০ রান। তবে পরের দিন পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে যে টর্নেডো হয়েছিল, সেটারই পুনরাবৃত্তি আজ বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে পারে।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আবিদ ৫৬ এবং হাফ সেঞ্চুরিয়ান শফিক ৫৩ রানে অপরাজিত। সাগরিকার সকালে থাকা সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে যে তাদের ৯৩ রানের মধ্যে অলআউট করা অসম্ভব নয়, বুঝতে পারছে স্বাগতিকরা। তবে কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে যে বিশেষ কিছু করতে হবে, সেটা জেনেই কাল ঘুমাতে যান মুমিনুলরা। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ ঢাকা ২০২১