সপ্তম স্বর্গে মেসি
jugantor
সপ্তম স্বর্গে মেসি

  ক্রীড়া ডেস্ক  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেকর্ড ছয়টি ব্যালন ডি’অর আগে থেকেই শোভা পাচ্ছিল তার শোকেসে। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের দেওয়া বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি আবারও জিতে সংখ্যাটা সাতে নিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। সোমবার রাতে প্যারিসের থিয়েখ দু শাতেলে জমকালো ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে রবার্ট লেওয়ানডোস্কিকে হারিয়ে সপ্তম স্বর্গে পা রাখার পর আর্জেন্টাইন মহাতারকা জানান, এমন অর্জন তার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সীমারেখা মুছে দেওয়ার কাজটা অবশ্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই করে যাচ্ছেন মেসি। গত আগস্টে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার আগে বার্সেলোনায় বিদায়ি মৌসুমটা খুব ভালো কাটেনি তার। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি বরাবরের মতোই ছিলেন উজ্জ্বল। লা লিগায় সর্বোচ্চ ৩০ গোল করার পাশাপাশি জেতেন কোপা দেল রে। এরপর জুলাইয়ে কোপা আমেরিকা জেতেন আর্জেন্টিনার হয়ে। দেশের হয়ে জেতা প্রথম শিরোপাই মূলত মেসির সপ্তম ব্যালন ডি’অর জয়ের চাবিকাঠি। বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ভোটে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে নিজেকে যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবার ষষ্ঠ হয়েছেন।

বর্ষসেরার লড়াইয়ে মেসির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় রেকর্ড ৪১ গোল করা বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড লেওয়ানডোস্কি। ভোটাভুটিতে শেষ পর্যন্ত ৫৮০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। মেসি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৬১৩ পয়েন্ট। ইতালির হয়ে ইউরো ও চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা জর্জিনিও ৪৬০ পয়েন্ট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়। চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছেন দুই ফরাসি করিম বেনজেমা ও এন’গোলো কান্তে।

স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ও তিন সন্তানকে নিয়ে তারার মেলায় হাজির হওয়া মেসির হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি তুলে দেন বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ। বর্ষসেরার পুরস্কার হাতে মেসি বলেন, ‘সপ্তমবারের মতো এটি জিততে পারা অবিশ্বাস্য। দুই বছর আগেও ভেবেছিলাম এবারই শেষ। মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল কবে আমি অবসর নেব। কিন্তু আবার আমি এখানে আসতে পেরেছি এবং নিজের খেলাটা দারুণ উপভোগ করছি। আমি খুবই খুশি। কোপা আমেরিকা জয়ই এবার আমাকে ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে। পুরস্কারটা তাই সতীর্থদের উৎসর্গ করছি।’

করোনা মহামারির কারণে গত বছর ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি। সেবার পুরস্কারটির বড় দাবিদার ছিলেন লেওয়ানডোস্কি। এবার তাকে হারিয়ে মেসি বললেন, ‘রবার্ট, সবাই জানে গতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী তুমিই ছিলে। ফ্রান্স ফুটবলের উচিত, তোমাকে ২০২০ সালের ব্যালন ডি’অর দিয়ে দেওয়া। এটা তোমার প্রাপ্য।’ ব্যালন ডি’অর ভাগ্যে না জুটলেও এবারই প্রথম চালু হওয়া বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার জিতেছেন লেওয়ানডোস্কি। মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেল্লাস। সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার কোপা ট্রফি উঠেছে মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ পেদ্রির হাতে। সেরা গোলকিপারের পুরস্কার ইয়াসিন ট্রফি জিতেছেন ইতালির ইউরো জয়ের নায়ক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। এছাড়া বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কার জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী চেলসি।

সপ্তম স্বর্গে মেসি

 ক্রীড়া ডেস্ক 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রেকর্ড ছয়টি ব্যালন ডি’অর আগে থেকেই শোভা পাচ্ছিল তার শোকেসে। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের দেওয়া বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটি আবারও জিতে সংখ্যাটা সাতে নিয়ে গেলেন লিওনেল মেসি। সোমবার রাতে প্যারিসের থিয়েখ দু শাতেলে জমকালো ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে রবার্ট লেওয়ানডোস্কিকে হারিয়ে সপ্তম স্বর্গে পা রাখার পর আর্জেন্টাইন মহাতারকা জানান, এমন অর্জন তার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সীমারেখা মুছে দেওয়ার কাজটা অবশ্য ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই করে যাচ্ছেন মেসি। গত আগস্টে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার আগে বার্সেলোনায় বিদায়ি মৌসুমটা খুব ভালো কাটেনি তার। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি বরাবরের মতোই ছিলেন উজ্জ্বল। লা লিগায় সর্বোচ্চ ৩০ গোল করার পাশাপাশি জেতেন কোপা দেল রে। এরপর জুলাইয়ে কোপা আমেরিকা জেতেন আর্জেন্টিনার হয়ে। দেশের হয়ে জেতা প্রথম শিরোপাই মূলত মেসির সপ্তম ব্যালন ডি’অর জয়ের চাবিকাঠি। বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ভোটে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে নিজেকে যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবার ষষ্ঠ হয়েছেন।

বর্ষসেরার লড়াইয়ে মেসির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় রেকর্ড ৪১ গোল করা বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ ফরোয়ার্ড লেওয়ানডোস্কি। ভোটাভুটিতে শেষ পর্যন্ত ৫৮০ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাকে। মেসি পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৬১৩ পয়েন্ট। ইতালির হয়ে ইউরো ও চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা জর্জিনিও ৪৬০ পয়েন্ট পেয়ে হয়েছেন তৃতীয়। চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছেন দুই ফরাসি করিম বেনজেমা ও এন’গোলো কান্তে।

স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ও তিন সন্তানকে নিয়ে তারার মেলায় হাজির হওয়া মেসির হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি তুলে দেন বন্ধু ও সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ। বর্ষসেরার পুরস্কার হাতে মেসি বলেন, ‘সপ্তমবারের মতো এটি জিততে পারা অবিশ্বাস্য। দুই বছর আগেও ভেবেছিলাম এবারই শেষ। মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছিল কবে আমি অবসর নেব। কিন্তু আবার আমি এখানে আসতে পেরেছি এবং নিজের খেলাটা দারুণ উপভোগ করছি। আমি খুবই খুশি। কোপা আমেরিকা জয়ই এবার আমাকে ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে। পুরস্কারটা তাই সতীর্থদের উৎসর্গ করছি।’

করোনা মহামারির কারণে গত বছর ব্যালন ডি’অর দেওয়া হয়নি। সেবার পুরস্কারটির বড় দাবিদার ছিলেন লেওয়ানডোস্কি। এবার তাকে হারিয়ে মেসি বললেন, ‘রবার্ট, সবাই জানে গতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী তুমিই ছিলে। ফ্রান্স ফুটবলের উচিত, তোমাকে ২০২০ সালের ব্যালন ডি’অর দিয়ে দেওয়া। এটা তোমার প্রাপ্য।’ ব্যালন ডি’অর ভাগ্যে না জুটলেও এবারই প্রথম চালু হওয়া বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার জিতেছেন লেওয়ানডোস্কি। মেয়েদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেল্লাস। সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার কোপা ট্রফি উঠেছে মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ পেদ্রির হাতে। সেরা গোলকিপারের পুরস্কার ইয়াসিন ট্রফি জিতেছেন ইতালির ইউরো জয়ের নায়ক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। এছাড়া বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কার জিতেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী চেলসি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন