খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় জেগে উঠতে হবে
jugantor
বিশাল সমাবেশে বিএনপি নেতারা
খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় জেগে উঠতে হবে
কিছু হলে সরকারকে জনগণ রেহাই দেবে না

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় দেশবাসীকে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তারা বলেন, দেশে তার আর কোনো চিকিৎসা নেই বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিদেশের উন্নত হাসপাতালে তাকে পাঠানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা সরকার। তাই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে হলে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এজন্য রাজপথ দখল করতে হবে। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি নেতারা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে রেহাই দেবে না। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। চারটি ছোট ট্রাকের ওপর অস্থায়ী সভামঞ্চে খালেদা জিয়ার বিশাল আকৃতির ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়। এতে লেখা ছিল- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে সমাবেশ।’ কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ থেকে ফকিরাপুল সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেন। সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে রেহাই দেবে না। হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বলেন-আইনের কারণে খালেদা জিয়াকে বাইরে যেতে দিতে পারছি না। কেন মিথ্যা কথা বলেন? ৪০১ ধারাতে বলা আছে-‘একমাত্র সরকার, সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে।’ তিনি বলেন, এখন দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের, শেখ হাসিনা সরকারের। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না হলে, তার কোনো ক্ষতি হলে এ দেশের মানুষ কোনোদিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদের বহন করতে হবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সোমবারও তার রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে তা বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সোমবার রাত ১২টায় ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের টেলিফোন পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ১০ জন চিকিৎসক, সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন-চিন্তিত। আবারও খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সোমবার রাতের রক্তক্ষরণও বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এই ভালো, আবার ভালো নন বলে চিকিৎসকরা জানান। কারণ তারা পরিষ্কার করে বলছেন-তার যে অসুখ সেই অসুখের চিকিৎসা এ দেশে নেই। এ চিকিৎসা করতে হলে তাকে অবশ্যই বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-‘আমরা বেগম জিয়ার কাগজপত্র বিদেশে পাঠিয়েছি।’ কাদের সামনে বলেছেন? কূটনীতিকদের সামনে, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সামনে। কেন বলেছেন? বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, রাষ্ট্রদূতরা ইতোমধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছেন সরকারের ওপরে যে-খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠাও চিকিৎসার জন্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সম্পর্কে এক মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কী দুর্ভাগ্য আমাদের, কি জাতি আমরা, আমরা এমন একটা সরকার পেয়েছি, যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি যা বলতে বলছে-চিকিৎসকরা তাই বলছেন। ধিক্কার দেই, ধিক্কার দেই আমি সেই মন্ত্রীকে।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ চান খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা হোক। তিনি বলেন, ‘লোকজন রোজা রাখছেন, নামাজ পড়ছেন। আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দাও তিনি যেন আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন এজন্য দোয়া করছেন। কোটি কোটি মানুষের আহাজারি, কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদ আল্লাহ কাছে নিশ্চয় পৌঁছেছে। তিনি নিশ্চয়ই খালেদা জিয়াকে সুস্থ করবেন আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বিশেষ করে আমার তরুণ-ছাত্র-যুবক ভাইদের কাছে আহ্বান করতে চাই-এ দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া। তোমাদের জেগে উঠতে হবে, তোমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলন, আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এ সরকারকে সরাব এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। তিনি বলেন, এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ হেরে গেছে। দেখেন আওয়ামী লীগের পতন শুরু হয়েছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, শাহিদা রফিক, আফরোজা খানম রিতা, আব্দুল হাই, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সালাউদ্দিন আহমেদ, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর ১টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হতে থাকেন। বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বাইরে সাংগঠনিক জেলা ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, গাজীপুর জেলা ও মহানগর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে বাস ও ট্রেনে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশ নয়াপল্টন ছাড়িয়ে মালিবাগ, মতিঝিল শাপলা চত্বর, পুরানা পল্টন এবং মৎস্য ভবন পর্যন্ত যায়।

সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা আহ্বান করেছিলাম সমাবেশ। হয়ে গেছে মহাসমাবেশ। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেসারুল হকের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত ধরে অনেককে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ পাঠানোর দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লায় সমাবেশ হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খুলনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিলেটে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রংপুরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান, ফরিদপুরে মির্জা আব্বাস এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে রাজশাহীতে আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুমিল্লায় শামসুজ্জামান দুদু প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন।

বিশাল সমাবেশে বিএনপি নেতারা

খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় জেগে উঠতে হবে

কিছু হলে সরকারকে জনগণ রেহাই দেবে না
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল। ইনসেটে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -যুগান্তর

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষায় দেশবাসীকে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তারা বলেন, দেশে তার আর কোনো চিকিৎসা নেই বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিদেশের উন্নত হাসপাতালে তাকে পাঠানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা সরকার। তাই খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে হলে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। এজন্য রাজপথ দখল করতে হবে। সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি নেতারা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে রেহাই দেবে না। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। চারটি ছোট ট্রাকের ওপর অস্থায়ী সভামঞ্চে খালেদা জিয়ার বিশাল আকৃতির ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়। এতে লেখা ছিল- ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণের দাবিতে সমাবেশ।’ কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ থেকে ফকিরাপুল সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী অবস্থান নেন। সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে রেহাই দেবে না। হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বলেন-আইনের কারণে খালেদা জিয়াকে বাইরে যেতে দিতে পারছি না। কেন মিথ্যা কথা বলেন? ৪০১ ধারাতে বলা আছে-‘একমাত্র সরকার, সরকারই পারে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে।’ তিনি বলেন, এখন দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ সরকারের, শেখ হাসিনা সরকারের। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা না হলে, তার কোনো ক্ষতি হলে এ দেশের মানুষ কোনোদিন আপনাদের রেহাই দেবে না। দায় সব আপনাদের বহন করতে হবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সোমবারও তার রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে তা বন্ধ করতে সমর্থ হয়েছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সোমবার রাত ১২টায় ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের টেলিফোন পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ১০ জন চিকিৎসক, সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন-চিন্তিত। আবারও খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সোমবার রাতের রক্তক্ষরণও বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এই ভালো, আবার ভালো নন বলে চিকিৎসকরা জানান। কারণ তারা পরিষ্কার করে বলছেন-তার যে অসুখ সেই অসুখের চিকিৎসা এ দেশে নেই। এ চিকিৎসা করতে হলে তাকে অবশ্যই বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-‘আমরা বেগম জিয়ার কাগজপত্র বিদেশে পাঠিয়েছি।’ কাদের সামনে বলেছেন? কূটনীতিকদের সামনে, বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সামনে। কেন বলেছেন? বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা, রাষ্ট্রদূতরা ইতোমধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছেন সরকারের ওপরে যে-খালেদা জিয়াকে বাইরে পাঠাও চিকিৎসার জন্য।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের সম্পর্কে এক মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কী দুর্ভাগ্য আমাদের, কি জাতি আমরা, আমরা এমন একটা সরকার পেয়েছি, যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি যা বলতে বলছে-চিকিৎসকরা তাই বলছেন। ধিক্কার দেই, ধিক্কার দেই আমি সেই মন্ত্রীকে।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ চান খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা হোক। তিনি বলেন, ‘লোকজন রোজা রাখছেন, নামাজ পড়ছেন। আল্লাহ তার হায়াত বাড়িয়ে দাও তিনি যেন আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন এজন্য দোয়া করছেন। কোটি কোটি মানুষের আহাজারি, কোটি কোটি মানুষের ফরিয়াদ আল্লাহ কাছে নিশ্চয় পৌঁছেছে। তিনি নিশ্চয়ই খালেদা জিয়াকে সুস্থ করবেন আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনবেন।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বিশেষ করে আমার তরুণ-ছাত্র-যুবক ভাইদের কাছে আহ্বান করতে চাই-এ দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া। তোমাদের জেগে উঠতে হবে, তোমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আন্দোলন, আন্দোলনের মধ্যদিয়ে এ সরকারকে সরাব এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। তিনি বলেন, এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। অর্ধেকের বেশি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ হেরে গেছে। দেখেন আওয়ামী লীগের পতন শুরু হয়েছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, শাহিদা রফিক, আফরোজা খানম রিতা, আব্দুল হাই, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সালাউদ্দিন আহমেদ, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ, তাবিথ আউয়াল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর ১টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হতে থাকেন। বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বাইরে সাংগঠনিক জেলা ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, গাজীপুর জেলা ও মহানগর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে বাস ও ট্রেনে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মহাসমাবেশ নয়াপল্টন ছাড়িয়ে মালিবাগ, মতিঝিল শাপলা চত্বর, পুরানা পল্টন এবং মৎস্য ভবন পর্যন্ত যায়।

সভাপতির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমরা আহ্বান করেছিলাম সমাবেশ। হয়ে গেছে মহাসমাবেশ। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেসারুল হকের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত ধরে অনেককে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ পাঠানোর দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লায় সমাবেশ হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খুলনায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিলেটে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রংপুরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান, ফরিদপুরে মির্জা আব্বাস এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে রাজশাহীতে আব্দুল্লাহ আল নোমান, কুমিল্লায় শামসুজ্জামান দুদু প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন