আইনি জটিলতার জন্য আ.লীগ দায়ী নয়: সেতুমন্ত্রী
jugantor
আইনি জটিলতার জন্য আ.লীগ দায়ী নয়: সেতুমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে যে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেওয়া মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে। সুতরাং আইন তো তাকে মানতে হবে। মানবিকতা যা করার সেটি করা হয়েছে। তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে যে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী নয়।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর ঢাকা মহানগরের (উত্তর-দক্ষিণ) সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হাওয়া ভবনের নির্দেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো তাদের নেতার পৃষ্ঠপোষকতায়। জিয়ার সম্মতি ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না। অথচ আওয়ামী লীগ তো ষড়যন্ত্র করেনি।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল বিএনপি সৃষ্টি করেছে। বরং বেগম জিয়াকে দণ্ড স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলের বাইরে এনে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাকে সর্বোচ্চ মানবিকতা দিয়ে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা চাইলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাতে পারেন। এতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর ভর করে মারামারি, হানাহানি সৃষ্টি করেছে বিএনপি। তারা ঘোমটা পরে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের আশ্রয় করে মারামারি করছে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ছিল। একজন কমিশনার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনে পার্টিসিপেশন মূল কথা। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড পার্টিসিপেশন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ দেশে কখনো শান্তিপূর্ণ হয়নি। তবে শেখ হাসিনা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেউ অপরাধ করলে পার পাবে না।

সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন, গণপরিবহণে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া আগে থেকেই কার্যকর ছিল। মাঝে শিথিলতা দেখা গেছে। সরকার বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার মহান ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ। বিজয় দিবসে আমাদের জাতীয় আয়োজন আছে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের রাজা যোগ দেবেন। সেই জাতীয় অনুষ্ঠানটি ১৭ ডিসেম্বর হবে।

তিনি জানান, এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জাসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি থাকবে। সহযোগী সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে মিলে নিজস্ব কর্মসূচি নেবে। ব্যানার ফেস্টুন যাতে শুধু আত্মপ্রচারের জন্য না হয়। সবাই যেন দলের নামে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড করেন-সেই আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া সভায় আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনি জটিলতার জন্য আ.লীগ দায়ী নয়: সেতুমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে যে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেওয়া মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে। সুতরাং আইন তো তাকে মানতে হবে। মানবিকতা যা করার সেটি করা হয়েছে। তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে যে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে, সে জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী নয়।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর ঢাকা মহানগরের (উত্তর-দক্ষিণ) সভাপতি সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, হাওয়া ভবনের নির্দেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হলো তাদের নেতার পৃষ্ঠপোষকতায়। জিয়ার সম্মতি ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না। অথচ আওয়ামী লীগ তো ষড়যন্ত্র করেনি।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল বিএনপি সৃষ্টি করেছে। বরং বেগম জিয়াকে দণ্ড স্থগিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলের বাইরে এনে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছেন। শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাকে সর্বোচ্চ মানবিকতা দিয়ে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা চাইলে বিদেশ থেকে চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাতে পারেন। এতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ওপর ভর করে মারামারি, হানাহানি সৃষ্টি করেছে বিএনপি। তারা ঘোমটা পরে প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের আশ্রয় করে মারামারি করছে। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে উপস্থিতি সর্বোচ্চ ছিল। একজন কমিশনার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনে পার্টিসিপেশন মূল কথা। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড পার্টিসিপেশন হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ দেশে কখনো শান্তিপূর্ণ হয়নি। তবে শেখ হাসিনা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেউ অপরাধ করলে পার পাবে না।

সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন, গণপরিবহণে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া আগে থেকেই কার্যকর ছিল। মাঝে শিথিলতা দেখা গেছে। সরকার বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার মহান ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় র‌্যালি করবে আওয়ামী লীগ। বিজয় দিবসে আমাদের জাতীয় আয়োজন আছে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের রাজা যোগ দেবেন। সেই জাতীয় অনুষ্ঠানটি ১৭ ডিসেম্বর হবে।

তিনি জানান, এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, আলোকসজ্জাসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি থাকবে। সহযোগী সংগঠন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সঙ্গে মিলে নিজস্ব কর্মসূচি নেবে। ব্যানার ফেস্টুন যাতে শুধু আত্মপ্রচারের জন্য না হয়। সবাই যেন দলের নামে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড করেন-সেই আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- মাহবুবউল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন ও আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া সভায় আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন