দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জন নিখোঁজ
jugantor
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ
দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জন নিখোঁজ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শোরগোলের মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন রোধে করণীয় নির্ধারণী সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জাহিদ মালেক বলেন, নতুন ধরন প্রতিরোধে দেশে ষাটোর্র্ধ্বদের করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমেরিকা, ইউরোপ, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশই বুস্টার ডোজ দিয়েছে।

আমাদের দেশের ষাটোর্ধ্ব ও কো-মর্বিডিটি যাদের আছে এমন ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ দিলে করোনায় মৃত্যুহার আরও অনেকটাই কমে আসবে। তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নিরুৎসাহিত করা হবে।

কেউ এলে তার ১৪ দিন বাধ্যতামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যারা এসেছেন, তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় ১৮ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট প্রথম ধরা পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই দেশ থেকে গত এক মাসে ২৪০ জন বাংলাদেশে এসেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় তাদের অধিকাংশের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তাদের কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করার চেষ্টা আমরা করছি। কিন্তু তারা সবাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকানাও ভুল দিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাধ্য হয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে তবে। তিনি আরও বলেন, সব জেলায় করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটিকে চিঠি দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে বিদেশ থেকে কেউ এলে সেসব বিষয়ও মনিটরিং করতে হবে।

তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালায়। প্রয়োজন হলে পতাকা টানিয়ে দেয়। এছাড়া আফ্রিকা মহাদেশসহ ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে, এমন দেশ থেকে কেউ এলে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিনের খরচ ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টা দেশে ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে গেছে। সেসব দেশের বিষয়ে আমরা আলাদাভাবে দেখব। তাদের পরীক্ষার বিষয়টা জোরদার করব। দক্ষিণ আফ্রিকায় উদ্ভূত ওমিক্রন ধরন পুরো বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন ঘোষণা করেছে।

ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান দেশের সব মানুষকেই টিকার আওতায় নিয়ে আসতে শিগগিরই নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস স্লোগান বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশের অন্তত ১০ কোটি মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, বাকিদেরও দেওয়া হবে। সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে।

তবে টিকা গ্রহণে অনেকেরই আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। টিকা সনদ ছাড়া কোথাও কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হবে না। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলা পর্যায় থেকে সব জায়গায় সব ধরনের সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সব কার্যক্রম পালনে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ

দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জন নিখোঁজ

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শোরগোলের মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ২৪০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। এ অবস্থায় তাদের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন রোধে করণীয় নির্ধারণী সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য জানিয়েছেন। 

জাহিদ মালেক বলেন, নতুন ধরন প্রতিরোধে দেশে ষাটোর্র্ধ্বদের করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমেরিকা, ইউরোপ, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশই বুস্টার ডোজ দিয়েছে।

আমাদের দেশের ষাটোর্ধ্ব ও কো-মর্বিডিটি যাদের আছে এমন ব্যক্তিদের বুস্টার ডোজ দিলে করোনায় মৃত্যুহার আরও অনেকটাই কমে আসবে। তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা নিরুৎসাহিত করা হবে।

কেউ এলে তার ১৪ দিন বাধ্যতামূলকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যারা এসেছেন, তাদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এদিন দুপুর পৌনে ১২টায় ১৮ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট প্রথম ধরা পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই দেশ থেকে গত এক মাসে ২৪০ জন বাংলাদেশে এসেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় তাদের অধিকাংশের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তাদের কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করার চেষ্টা আমরা করছি। কিন্তু তারা সবাই মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকানাও ভুল দিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাধ্য হয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে তবে। তিনি আরও বলেন, সব জেলায় করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটিকে চিঠি দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে বিদেশ থেকে কেউ এলে সেসব বিষয়ও মনিটরিং করতে হবে।

তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি চালায়। প্রয়োজন হলে পতাকা টানিয়ে দেয়। এছাড়া আফ্রিকা মহাদেশসহ ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে, এমন দেশ থেকে কেউ এলে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে আইসোলেশন এবং কোয়ারেন্টিনের খরচ ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০টা দেশে ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে গেছে। সেসব দেশের বিষয়ে আমরা আলাদাভাবে দেখব। তাদের পরীক্ষার বিষয়টা জোরদার করব। দক্ষিণ আফ্রিকায় উদ্ভূত ওমিক্রন ধরন পুরো বিশ্বেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

অনেক দেশ সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন ঘোষণা করেছে। 

ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান দেশের সব মানুষকেই টিকার আওতায় নিয়ে আসতে শিগগিরই নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস স্লোগান বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশের অন্তত ১০ কোটি মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, বাকিদেরও দেওয়া হবে। সরকারের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে।

তবে টিকা গ্রহণে অনেকেরই আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। টিকা সনদ ছাড়া কোথাও কোনো ধরনের সেবা দেওয়া হবে না। সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলা পর্যায় থেকে সব জায়গায় সব ধরনের সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সব কার্যক্রম পালনে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন