গাড়ি ভাঙা নয় ছাত্রদের কাজ লেখাপড়া করা: প্রধানমন্ত্রী
jugantor
গাড়ি ভাঙা নয় ছাত্রদের কাজ লেখাপড়া করা: প্রধানমন্ত্রী

  বাসস  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়। এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। লেখাপড়া করেন। যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। সেটা আমরা করব।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন বুধবার সকালে শিশু একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘জয়িতা টাওয়ার’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ৪মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক। অপরাধীদের খুঁজে বের করা হয়েছে। তা ছাড়া সবকিছুর ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তাই যে কোনো সময় যে কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তাদের ধরে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেই সেটা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেওয়া হবে। কেননা, গাড়িতে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে মানুষ মারা যেতে পারে। একথা মাথায় রাখতে হবে।’

এ সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এটুকুই চাই আমাদের দেশের যে উন্নয়ন আমরা করে দিচ্ছি সেটাকে ধরে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজকের শিশুরা আগামী দিনের সোনার বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হবে।’

সোমবার রাতে রামপুরায় গাড়িচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে ২৪ নভেম্বর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানও গাড়িচাপায় নিহত হয়।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারপারসন লাকী ইনাম এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

আজকের শিশুরাই হবে ৪১-এর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কর্ণধার উল্লেখ করে তাদের লেখাপড়া করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্য প্রযোজ্য যে রাস্তাঘাটে চলার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তার যে কোনো স্থান থেকে পারাপার হওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট পারাপারের স্থান দিয়ে পার হতে হবে।

কেননা, একটা চলমান গাড়ি ব্রেক করলে তার থামতে সময়ের প্রয়োজন হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, হঠাৎ দৌড় দেবে আর দুর্ঘটনা ঘটবে, দুর্ঘটনা ঘটলেই রাস্তায় লোক নেমে গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া, গাড়ি পোড়ানো- এটা কি ধরনের কথা। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে, তার সেবা না করে লাঠিসোটা নিয়ে নেমে পড়ল গাড়ি ভাঙা এবং আগুন দেওয়ার কাজে।

সরকার প্রধান বলেন, আমার এখানে একটা প্রশ্ন এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র জাতির কাছেই-এই যে দুর্ঘটনার পর আগুন দেওয়া শুরু হলো। এ গাড়িতে কি নারী-শিশু বা ছাত্রছাত্রী নেই? ওই আগুনে যারা পুড়বে, আহত হবে বা মারাও যেতে পারে তার দায়িত্ব কে নেবে? খুব স্বাভাবিক বিষয় হচ্ছে, যারা আগুন দেবে তাদের ওপরই দায় বর্তায়। তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সেভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে একজন মারা গেল বলে সেখানে আরও ২৫টি গাড়ি ভাঙা এবং আগুন দেওয়া এটা কোন ধরনের কথা। আমি বলব, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আর গাড়ি চালকদেরও আমি বলব সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।’

জনবহুল এ দেশে গাড়ি চালানোর জন্য সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনে বলেন, ‘সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে।’

দেশে করোনার বিস্তার বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ হবে বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সময়কে কাজে লাগানোর এবং আগামীতে নিজেদের গড়ে তুলে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, করোনাভাইরাস কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি, এখন শিক্ষার্থীদেরও দিচ্ছি। বর্তমানে আবার নতুন আরেকটা ঢেউ আসছে। কাজেই এটা মাথায় রাখতে হবে যদি করোনা বিস্তার লাভ করে তা হলে যে কোনো সময় আবার কিন্তু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমি আরেকটা কথা বলব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল। এখন সব স্কুল-কলেজগুলো খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র মৃত্যুর পরদিনই উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেকটি ময়লার গাড়িচাপায় প্রেস কর্মী মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কী রহস্য? দক্ষিণে মারা গেল, পরদিন উত্তরে মারা গেল, এর কারণটা কী? এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।’ ময়লার গাড়ি যারা চালায় তাদের গাড়ি চালানোর মতো দক্ষতা আছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবনে আমি যেমন গাড়িতেও চড়েছি, বাসেও চড়েছি। শুধু বাস কেন আমি রিকশা, ভ্যান, নৌকায় সব বাহনে চড়েছি। সাম্পানে, মাছের ট্রলারে সাগর পাড়ি দিয়েছি। আমি মাইলের পর মাইল কাদামাটি ভেঙে হেঁটেছি, ধান খেতের আল বেয়ে হেঁটেছি।

আমি বাংলাদেশটাকে চেনার এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে যাইনি। তখন সব ধরনের যানবাহনেই চড়েছি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে চিনতে না পারলে এত দ্রুত বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারতাম না।’

নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীদের স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নারীরা যেন সব সময় এটা মনে রাখেন যে, অধিকার অধিকার করে চিৎকার করলে অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। নিজেদের কাজ নিজেরা করতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। আজকে আন্তর্জাতিক ভাবেও আমাদের এটা স্বীকৃত যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে টানা সপ্তমবারের মতো জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

গাড়ি ভাঙা নয় ছাত্রদের কাজ লেখাপড়া করা: প্রধানমন্ত্রী

 বাসস 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাঙা ছাত্রদের কাজ নয়। এটা কেউ করবেন না। দয়া করে যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। লেখাপড়া করেন। যারা দোষী তাদের খুঁজে বের করে অবশ্যই শাস্তি দেওয়া হবে। সেটা আমরা করব।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন বুধবার সকালে শিশু একাডেমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘জয়িতা টাওয়ার’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ৪মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, অপরাধীদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক। অপরাধীদের খুঁজে বের করা হয়েছে। তা ছাড়া সবকিছুর ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। তাই যে কোনো সময় যে কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তাদের ধরে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেই সেটা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ গাড়ি ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের খুঁজে বের করা হবে, শাস্তি দেওয়া হবে। কেননা, গাড়িতে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে মানুষ মারা যেতে পারে। একথা মাথায় রাখতে হবে।’

এ সময় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি এটুকুই চাই আমাদের দেশের যে উন্নয়ন আমরা করে দিচ্ছি সেটাকে ধরে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজকের শিশুরা আগামী দিনের সোনার বাংলাদেশ গড়ার সৈনিক হবে।’

সোমবার রাতে রামপুরায় গাড়িচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগে ২৪ নভেম্বর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানও গাড়িচাপায় নিহত হয়।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারপারসন লাকী ইনাম এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

আজকের শিশুরাই হবে ৪১-এর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কর্ণধার উল্লেখ করে তাদের লেখাপড়া করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্য প্রযোজ্য যে রাস্তাঘাটে চলার সময় সতর্ক থাকতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। রাস্তার যে কোনো স্থান থেকে পারাপার হওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট পারাপারের স্থান দিয়ে পার হতে হবে।

কেননা, একটা চলমান গাড়ি ব্রেক করলে তার থামতে সময়ের প্রয়োজন হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, হঠাৎ দৌড় দেবে আর দুর্ঘটনা ঘটবে, দুর্ঘটনা ঘটলেই রাস্তায় লোক নেমে গাড়ি ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া, গাড়ি পোড়ানো- এটা কি ধরনের কথা। একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, তখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে, তার সেবা না করে লাঠিসোটা নিয়ে নেমে পড়ল গাড়ি ভাঙা এবং আগুন দেওয়ার কাজে।

সরকার প্রধান বলেন, আমার এখানে একটা প্রশ্ন এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র জাতির কাছেই-এই যে দুর্ঘটনার পর আগুন দেওয়া শুরু হলো। এ গাড়িতে কি নারী-শিশু বা ছাত্রছাত্রী নেই? ওই আগুনে যারা পুড়বে, আহত হবে বা মারাও যেতে পারে তার দায়িত্ব কে নেবে? খুব স্বাভাবিক বিষয় হচ্ছে, যারা আগুন দেবে তাদের ওপরই দায় বর্তায়। তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সেভাবেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা গাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটে একজন মারা গেল বলে সেখানে আরও ২৫টি গাড়ি ভাঙা এবং আগুন দেওয়া এটা কোন ধরনের কথা। আমি বলব, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। আর গাড়ি চালকদেরও আমি বলব সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।’

জনবহুল এ দেশে গাড়ি চালানোর জন্য সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনে বলেন, ‘সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে।’

দেশে করোনার বিস্তার বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও বন্ধ হবে বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের সময়কে কাজে লাগানোর এবং আগামীতে নিজেদের গড়ে তুলে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, করোনাভাইরাস কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি, এখন শিক্ষার্থীদেরও দিচ্ছি। বর্তমানে আবার নতুন আরেকটা ঢেউ আসছে। কাজেই এটা মাথায় রাখতে হবে যদি করোনা বিস্তার লাভ করে তা হলে যে কোনো সময় আবার কিন্তু সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমি আরেকটা কথা বলব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন করোনার জন্য বন্ধ ছিল। এখন সব স্কুল-কলেজগুলো খুলে গেছে। সবাইকে এখন পড়াশোনা করতে হবে। যার যার স্কুলে ফিরে যেতে হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র মৃত্যুর পরদিনই উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেকটি ময়লার গাড়িচাপায় প্রেস কর্মী মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কী রহস্য? দক্ষিণে মারা গেল, পরদিন উত্তরে মারা গেল, এর কারণটা কী? এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।’ ময়লার গাড়ি যারা চালায় তাদের গাড়ি চালানোর মতো দক্ষতা আছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবনে আমি যেমন গাড়িতেও চড়েছি, বাসেও চড়েছি। শুধু বাস কেন আমি রিকশা, ভ্যান, নৌকায় সব বাহনে চড়েছি। সাম্পানে, মাছের ট্রলারে সাগর পাড়ি দিয়েছি। আমি মাইলের পর মাইল কাদামাটি ভেঙে হেঁটেছি, ধান খেতের আল বেয়ে হেঁটেছি।

আমি বাংলাদেশটাকে চেনার এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে যাইনি। তখন সব ধরনের যানবাহনেই চড়েছি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে চিনতে না পারলে এত দ্রুত বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারতাম না।’

নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীদের স্বাবলম্বী হিসাবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নারীরা যেন সব সময় এটা মনে রাখেন যে, অধিকার অধিকার করে চিৎকার করলে অধিকার কেউ দিয়ে দেবে না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। নিজেদের কাজ নিজেরা করতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে। আজকে আন্তর্জাতিক ভাবেও আমাদের এটা স্বীকৃত যে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে টানা সপ্তমবারের মতো জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন