খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল
jugantor
খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠিয়ে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে হত্যা করা হচ্ছে-এ কথা আমরা বারবার বলছি। পৃথিবীর সব দেশ এটা জানে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন, বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন, দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসার করার সুযোগ দিন। তার (খালেদা জিয়া) যে রোগ হয়েছে-লিভার সিরোসিস। এ রোগ মারাত্মক রোগ। এ রোগের চিকিৎসা দেশে সেভাবে নেই। একমাত্র আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতে এ রোগের চিকিৎসা হয়।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এ মানববন্ধন হয়। সহস্রাধিক নেতাকর্মী দলের চেয়ারপারসনের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে মুক্তি ও প্রতিষ্ঠা করেছেন, দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। প্রথম ক্ষমতায় এসেই তিনি কৃষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল করেছিলেন। আর তারই ওপর এখনো বাংলাদেশ চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া অবিচ্ছেদ্য। তিনি এখনো কারাগারে আছেন, হাসপাতালে আছেন। এটি হচ্ছে তার এ দেশের গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম। তিনি কখনো মাথা নোয়াননি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীকে সরকার যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে না দেয়, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের হৃদয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া আছেন। সেখান থেকে কেউ তাকে কেড়ে নিতে পারবে না। দেশের কৃষকদের ঘর থেকে বের করে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এসব করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ জেগে উঠতে শুরু করেছে। জেগে উঠবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অববাহিকায় উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের তখতে তাউস ভেঙে ছারখার হয়ে যাবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তা হলে তিনি বাঁচবেন না।

নেতাকর্মীদের জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একবার ভাবেন, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি ৮ হাজার মাইল দূরে আছেন। তার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, যুদ্ধ করছেন-এই একটা অবস্থার মধ্যে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, আমাদের দায়িত্বই হচ্ছে প্রধান। আজকে জেগে উঠতে হবে। এ দুরাত্মা, দুঃশাসনকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে আমাদের ন্যায়-সত্য-মুক্ত-সুন্দর গণতন্ত্রের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ বলেছিল, ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে, চাল আজ ৭০ টাকা। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে। চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে, চাকরি তো দূরের কথা, ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ করে জায়গা দখল করছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। আর তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা নিরাপদ সরকারব্যবস্থা, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারবে। তারা চায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভোট হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনো সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। স্থানীয় নির্বাচনে কত প্রাণ চলে গেল। কুমিল্লার কাউন্সিলর হত্যার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের তিনজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। ক্রসফায়ার সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। তারা চেয়েছিল যেন আসল অপরাধীর পরিচয় প্রকাশ না পায়।

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের গৌতম চক্রবর্তী, মোশাররফ হোসেন, গোলাম হাফিজ কেনেডি প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ২৫ নভেম্বর থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সমাবেশ, মানববন্ধনের ধারাবাহিক কর্মসূচি করছে। আজ ছাত্রদলের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ৮ দিনের এ কর্মসূচি শেষ হবে।

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কৃষক দলের মানববন্ধনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -যুগান্তর

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠিয়ে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সচেতনভাবে হত্যা করা হচ্ছে-এ কথা আমরা বারবার বলছি। পৃথিবীর সব দেশ এটা জানে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন, বুদ্ধিজীবী সবাই বলেছেন, দেশনেত্রীকে বাইরে চিকিৎসার করার সুযোগ দিন। তার (খালেদা জিয়া) যে রোগ হয়েছে-লিভার সিরোসিস। এ রোগ মারাত্মক রোগ। এ রোগের চিকিৎসা দেশে সেভাবে নেই। একমাত্র আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতে এ রোগের চিকিৎসা হয়।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে এ মানববন্ধন হয়। সহস্রাধিক নেতাকর্মী দলের চেয়ারপারসনের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে মুক্তি ও প্রতিষ্ঠা করেছেন, দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। প্রথম ক্ষমতায় এসেই তিনি কৃষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল করেছিলেন। আর তারই ওপর এখনো বাংলাদেশ চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া অবিচ্ছেদ্য। তিনি এখনো কারাগারে আছেন, হাসপাতালে আছেন। এটি হচ্ছে তার এ দেশের গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম। তিনি কখনো মাথা নোয়াননি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীকে সরকার যদি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে না দেয়, তবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের হৃদয়ের মধ্যে খালেদা জিয়া আছেন। সেখান থেকে কেউ তাকে কেড়ে নিতে পারবে না। দেশের কৃষকদের ঘর থেকে বের করে আনতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এসব করে কোনো লাভ হবে না। জনগণ জেগে উঠতে শুরু করেছে। জেগে উঠবে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার অববাহিকায় উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে এবং তোমাদের তখতে তাউস ভেঙে ছারখার হয়ে যাবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার (খালেদা জিয়া) রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ রক্তক্ষরণ যদি বেশিদিন চলে তা হলে তিনি বাঁচবেন না।

নেতাকর্মীদের জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একবার ভাবেন, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিনি ৮ হাজার মাইল দূরে আছেন। তার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, যুদ্ধ করছেন-এই একটা অবস্থার মধ্যে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, আমাদের দায়িত্বই হচ্ছে প্রধান। আজকে জেগে উঠতে হবে। এ দুরাত্মা, দুঃশাসনকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে আমাদের ন্যায়-সত্য-মুক্ত-সুন্দর গণতন্ত্রের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, মুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ বলেছিল, ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে, চাল আজ ৭০ টাকা। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে। চাকরি দেওয়ার কথা বলেছে, চাকরি তো দূরের কথা, ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ করে জায়গা দখল করছে। গরিব আরও গরিব হচ্ছে। আর তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটা নিরাপদ সরকারব্যবস্থা, যেখানে মানুষ ভোট দিতে পারবে। তারা চায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভোট হবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কখনো সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। স্থানীয় নির্বাচনে কত প্রাণ চলে গেল। কুমিল্লার কাউন্সিলর হত্যার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের তিনজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। ক্রসফায়ার সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। তারা চেয়েছিল যেন আসল অপরাধীর পরিচয় প্রকাশ না পায়।

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের গৌতম চক্রবর্তী, মোশাররফ হোসেন, গোলাম হাফিজ কেনেডি প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে ২৫ নভেম্বর থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সমাবেশ, মানববন্ধনের ধারাবাহিক কর্মসূচি করছে। আজ ছাত্রদলের সমাবেশের মধ্য দিয়ে ৮ দিনের এ কর্মসূচি শেষ হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন