বিভাজনের পথ পরিহার করে শান্তির পথে চলুন
jugantor
বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি
বিভাজনের পথ পরিহার করে শান্তির পথে চলুন

  বাসস  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভাজনের পথ পরিহার করে, হাতে হাত রেখে শান্তির পথে এক সঙ্গে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স-২০২১’ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি এ সময় শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত, অধিকারভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বাংলাদেশের ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টা’র কথা তুলে ধরেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসাবে দুদিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’র আয়োজন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টি দেশের থিংকট্যাংক প্রতিনিধি, লেখক, কবি, সংগীতশিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভার্চুয়ালি ও সশরীরে যোগ দিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শান্তি সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন, পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেল বিজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা, ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ, রেলওয়ে, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু, মিসরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী তান সি দাতো সেরি সৈয়দ হামিদ আলবার এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু এনদেরিতুও, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখতে অত্যন্ত আন্তরিক এবং যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা ও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় থাকাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা। আর শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতে সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

বর্তমানে বিশ্ব প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারি ও সংঘাতের মতো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত আমরা একতাবদ্ধ হতে এবং পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে না পারব, তত দিন আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করতে পারব না। এ বিশ্ব ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি জাতি, বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একই বিশ্বের বাসিন্দা হিসাবে সব মানুষেরই অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং বিশ্বের সব মানুষের জন্য একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জরুরি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিশ্বের সর্বত্রই শান্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকা আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজন। শান্তি সহিংসতা বা ভীতি থেকে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।’

৫০ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতার পরপরই, শান্তির প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান প্রবর্তন করেন যা দেশের সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়, আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির প্রচার নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়।’

টিকার বৈষম্য দূর করতেই হবে-বান কি মুন : জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, পরাশক্তির উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত বাড়তে থাকায় চরম প্রয়োজনের মুহূর্তেও বিশ্ব সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কোভিড মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য হবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, টিকার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ে পুনর্নির্মাণের জন্য শুধু আগের অবস্থায় ফিরে আসা নয়, এর সঙ্গে দরকার পরিবেশসম্মত, টেকসই ও সমন্বিতভাবে ফিরে আসা।

এজন্য টিকার বৈষম্য আমাদের দূর করতেই হবে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও ভাষণে তিনি একথা বলেন।

বৈষম্যহীনভাবে কোভিড মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের উদ্যোগ কামনা করে বান কি মুন বলেন, বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং মহামারি থেকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিতে হবে।

বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি

বিভাজনের পথ পরিহার করে শান্তির পথে চলুন

 বাসস 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভাজনের পথ পরিহার করে, হাতে হাত রেখে শান্তির পথে এক সঙ্গে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স-২০২১’ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি এ সময় শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত, অধিকারভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বাংলাদেশের ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টা’র কথা তুলে ধরেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসাবে দুদিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’র আয়োজন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টি দেশের থিংকট্যাংক প্রতিনিধি, লেখক, কবি, সংগীতশিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভার্চুয়ালি ও সশরীরে যোগ দিচ্ছেন। 

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শান্তি সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন, পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেল বিজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা, ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহণ, রেলওয়ে, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু, মিসরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী তান সি দাতো সেরি সৈয়দ হামিদ আলবার এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু এনদেরিতুও, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখতে অত্যন্ত আন্তরিক এবং যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা ও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় থাকাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা। আর শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতে সমাধান এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।’

বর্তমানে বিশ্ব প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারি ও সংঘাতের মতো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত আমরা একতাবদ্ধ হতে এবং পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে না পারব, তত দিন আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করতে পারব না। এ বিশ্ব ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

রাষ্ট্রপতি জাতি, বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একই বিশ্বের বাসিন্দা হিসাবে সব মানুষেরই অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং বিশ্বের সব মানুষের জন্য একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জরুরি। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিশ্বের সর্বত্রই শান্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকা আমাদের জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজন। শান্তি সহিংসতা বা ভীতি থেকে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়।’ 

৫০ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতার পরপরই, শান্তির প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান প্রবর্তন করেন যা দেশের সব নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়, আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির প্রচার নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়।’

টিকার বৈষম্য দূর করতেই হবে-বান কি মুন : জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, পরাশক্তির উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাত বাড়তে থাকায় চরম প্রয়োজনের মুহূর্তেও বিশ্ব সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কোভিড মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার দীর্ঘ ও পরিশ্রমসাধ্য হবে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, টিকার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ে পুনর্নির্মাণের জন্য শুধু আগের অবস্থায় ফিরে আসা নয়, এর সঙ্গে দরকার পরিবেশসম্মত, টেকসই ও সমন্বিতভাবে ফিরে আসা।

এজন্য টিকার বৈষম্য আমাদের দূর করতেই হবে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও ভাষণে তিনি একথা বলেন।

বৈষম্যহীনভাবে কোভিড মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের উদ্যোগ কামনা করে বান কি মুন বলেন, বৈশ্বিক টিকাদান কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদের উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং মহামারি থেকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিতে হবে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন