এগারো দিনেই ৪০ দেশে ওমিক্রন
jugantor
এগারো দিনেই ৪০ দেশে ওমিক্রন

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে। ধরনটি প্রথম শনাক্তের ১১তম দিনে গতকাল পর্যন্ত ৪০ দেশে ছড়িয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩টির বেশি দেশের ছড়াচ্ছে ওমিক্রন। তবে এ পর্যন্ত এই ধরনে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এসব তথ্য জানিয়েছে।

কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক গবেষকরা জানিয়েছেন, ওমিক্রনে ‘সাধারণ ঠান্ডার ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্যও’ আছে। আর নতুন ধরনটি সবচেয়ে সংক্রামক হতে পারে উল্লেখ করে এটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচও।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, ডেল্টার মতো নতুন এ ধরনেও বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতি কমবে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয়ভাবে ওমিক্রনে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ওমিক্রনের প্রকোপে দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট আক্রান্ত ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, গতকাল পর্যন্ত ওমিক্রন সংক্রমণে এখনো কোনো মৃত্যুর কথা তারা জানতে পারেনি।

তবে নতুন এই ধরন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে মোট কোভিড সংক্রমণের অর্ধেকই হতে পারে ওমিক্রনের কারণে। গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম নতুন ধরনটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে রিপোর্ট করেছিল।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে ১২ থেকে ৩০টি দেশে সংক্রমিত হয়েছে ওমিক্রন। ইসিডিসির দাবি, আফ্রিকার বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন পাওয়া গিয়েছিল। এরপর তা দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়ায়।

সাধারণ ঠান্ডার ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য : ডাটা অ্যানালেটিক্স ফার্মের ভেঙ্কি সৌনদরারাজন ও সহযোগীরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সম্ভবত সাধারণ ঠান্ডার জন্য দায়ী অন্য একটি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের অংশকে সঙ্গে নিয়ে অন্তত একবার নিজের জিন বিন্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

কোনো দেহের আক্রান্ত কোষে দুটি ভাইরাসের সংমিশ্রণের ফলে এটা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। গবেষকদের ভাষ্য, ওমিক্রনের যে জেনেটিক বিন্যাস, তা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত সার্স-সিওভি-২-র আগের সংস্করণগুলোতে দেখা যায়নি; কিন্তু এই বৈশিষ্ট্য অন্য অনেক ভাইরাসেই দেখা যায়, যেসব ভাইরাসের কারণে সাধারণ ঠান্ডা জ্বর দেখা যায়।

সুনির্দিষ্ট এই জেনেটিক উপাদান নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে ওমিক্রন সম্ভবত নিজেকে আরও বেশি মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলেছে, যা তাকে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঁকি দিতেও সাহায্য করছে। জিন বিন্যাসে সাধারণ ঠাণ্ডার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য থাকার ফলেই হয়তো ওমিক্রন মৃদু উপসর্গ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ ছাড়াই সহজে ছড়াতে পারছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ : ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান। তিনি বলেন, ওমিক্রনই হতে পারে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ধরন। কারণ এটি সবচেয়ে সংক্রামক।

এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ওমিক্রন ধরনে করোনার টিকা কাজ করবে কিনা, সেটি নিয়ে কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। ওমিক্রন সবচেয়ে প্রভাবশালী ধরন বা সবচেয়ে সংক্রামক হতে হলে ডেল্টা ধরনকে পেছনে ফেলতে হবে।

বর্তমানে সারাবিশ্বের ৯৯ শতাংশ নতুন রোগী এই ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত। তিনি আরও বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সব সময় প্রস্তুত এবং সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গত বছরের চেয়ে আমাদের পরিস্থিতি ভিন্ন।’

ভারতে আরও একজনের ওমিক্রন শনাক্ত : ভারতে আরও একজনের মধ্যে ওমক্রিন শনাক্ত হয়েছে। এর আগে দেশটিতে দুজনের মধ্যে এ ধরন শনাক্ত হয়েছিল। দেশটি যখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কড়াকড়ি জারি করছে তখনই এ তৃতীয় ব্যক্তির ওমিক্রন ধরা পড়ল। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরেছেন।

তিনি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গুজরাটের জামনগরের বাসিন্দা। প্রদেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭২ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির ওমিক্রন সংক্রমণের খবর শনিবার নিশ্চিত করেছে। আগে আক্রান্ত দুজনই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কর্নাটকের বাসিন্দা। এরমধ্যে একজন কোনো ধরনের বিদেশ ভ্রমণ ছাড়াই আক্রান্ত হন।

যৌথভাবে টিকা উৎপাদন করছে ফাইজার ও বায়োএনটেক : যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনার টিকা উৎপাদন করছে। নতুন ধরন নিয়ে বায়োএনটেকের সিইও উগুর সাহিন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী নতুন ধরনের উপযোগী টিকাও তুলনামূলক দ্রুততম সময়ের মধ্য নিয়ে আসা সম্ভব।

এগারো দিনেই ৪০ দেশে ওমিক্রন

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়ছে। ধরনটি প্রথম শনাক্তের ১১তম দিনে গতকাল পর্যন্ত ৪০ দেশে ছড়িয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩টির বেশি দেশের ছড়াচ্ছে ওমিক্রন। তবে এ পর্যন্ত এই ধরনে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এসব তথ্য জানিয়েছে। 

কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক গবেষকরা জানিয়েছেন, ওমিক্রনে ‘সাধারণ ঠান্ডার ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্যও’ আছে। আর নতুন ধরনটি সবচেয়ে সংক্রামক হতে পারে উল্লেখ করে এটি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচও।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, ডেল্টার মতো নতুন এ ধরনেও বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের গতি কমবে। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয়ভাবে ওমিক্রনে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরও ছয়টি অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ওমিক্রনের প্রকোপে দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট আক্রান্ত ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। ডব্লিউএইচও বলছে, গতকাল পর্যন্ত ওমিক্রন সংক্রমণে এখনো কোনো মৃত্যুর কথা তারা জানতে পারেনি।

তবে নতুন এই ধরন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে মোট কোভিড সংক্রমণের অর্ধেকই হতে পারে ওমিক্রনের কারণে। গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম নতুন ধরনটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে রিপোর্ট করেছিল।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে ১২ থেকে ৩০টি দেশে সংক্রমিত হয়েছে ওমিক্রন। ইসিডিসির দাবি, আফ্রিকার বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম ওমিক্রন পাওয়া গিয়েছিল। এরপর তা দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়ায়। 

সাধারণ ঠান্ডার ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য : ডাটা অ্যানালেটিক্স ফার্মের ভেঙ্কি সৌনদরারাজন ও সহযোগীরা জানিয়েছেন, কোভিড-১৯ এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সম্ভবত সাধারণ ঠান্ডার জন্য দায়ী অন্য একটি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানের অংশকে সঙ্গে নিয়ে অন্তত একবার নিজের জিন বিন্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

কোনো দেহের আক্রান্ত কোষে দুটি ভাইরাসের সংমিশ্রণের ফলে এটা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। গবেষকদের ভাষ্য, ওমিক্রনের যে জেনেটিক বিন্যাস, তা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত সার্স-সিওভি-২-র আগের সংস্করণগুলোতে দেখা যায়নি; কিন্তু এই বৈশিষ্ট্য অন্য অনেক ভাইরাসেই দেখা যায়, যেসব ভাইরাসের কারণে সাধারণ ঠান্ডা জ্বর দেখা যায়।

সুনির্দিষ্ট এই জেনেটিক উপাদান নিজের মধ্যে ঢুকিয়ে ওমিক্রন সম্ভবত নিজেকে আরও বেশি মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলেছে, যা তাকে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ফাঁকি দিতেও সাহায্য করছে। জিন বিন্যাসে সাধারণ ঠাণ্ডার ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য থাকার ফলেই হয়তো ওমিক্রন মৃদু উপসর্গ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ ছাড়াই সহজে ছড়াতে পারছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ : ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র মুখ্য বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান। তিনি বলেন, ওমিক্রনই হতে পারে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী ধরন। কারণ এটি সবচেয়ে সংক্রামক।

এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ওমিক্রন ধরনে করোনার টিকা কাজ করবে কিনা, সেটি নিয়ে কথা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। ওমিক্রন সবচেয়ে প্রভাবশালী ধরন বা সবচেয়ে সংক্রামক হতে হলে ডেল্টা ধরনকে পেছনে ফেলতে হবে।

বর্তমানে সারাবিশ্বের ৯৯ শতাংশ নতুন রোগী এই ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত। তিনি আরও বলেন, ‘করোনার নতুন ধরন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সব সময় প্রস্তুত এবং সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গত বছরের চেয়ে আমাদের পরিস্থিতি ভিন্ন।’

ভারতে আরও একজনের ওমিক্রন শনাক্ত : ভারতে আরও একজনের মধ্যে ওমক্রিন শনাক্ত হয়েছে। এর আগে দেশটিতে দুজনের মধ্যে এ ধরন শনাক্ত হয়েছিল। দেশটি যখন আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কড়াকড়ি জারি করছে তখনই এ তৃতীয় ব্যক্তির ওমিক্রন ধরা পড়ল। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরেছেন।

তিনি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ গুজরাটের জামনগরের বাসিন্দা। প্রদেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৭২ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির ওমিক্রন সংক্রমণের খবর শনিবার নিশ্চিত করেছে। আগে আক্রান্ত দুজনই দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কর্নাটকের বাসিন্দা। এরমধ্যে একজন কোনো ধরনের বিদেশ ভ্রমণ ছাড়াই আক্রান্ত হন। 

যৌথভাবে টিকা উৎপাদন করছে ফাইজার ও বায়োএনটেক : যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও জার্মানির বায়োএনটেক যৌথভাবে করোনার টিকা উৎপাদন করছে। নতুন ধরন নিয়ে বায়োএনটেকের সিইও উগুর সাহিন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী নতুন ধরনের উপযোগী টিকাও তুলনামূলক দ্রুততম সময়ের মধ্য নিয়ে আসা সম্ভব।
 

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন