বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থান মোমবাতি প্রজ্বালন
jugantor
অনড় শিক্ষার্থীরা
বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থান মোমবাতি প্রজ্বালন

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রজ্বালন

নিরাপদ সড়ক ও সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শর্তহীন’ হাফ পাশের দাবিতে সোমবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে আধাঘণ্টা সেখানে তারা অবস্থান করেন। সড়কে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী মাঈনউদ্দিন ও নাঈম হাসানের সহপাঠীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা বলেন, বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে নিহত মাঈনউদ্দিনের স্কুল রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নাঈম হাসানের কলেজ নটর ডেম পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রা এবং ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করা হবে। একই দাবিতে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে একদল শিক্ষার্থী। তারা জানান, সড়ক ব্যবস্থাপনায় আলোর পথ দেখাতেই তাদের এই মোমবাতি প্রজ্বালন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দুপুর ১২টার দিকে রামপুরায় আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টিতে ভিজে, ছাতা মাথায় দিয়ে জড়ো হন তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কে নিহতদের স্মরণে শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজও ধারণ করেন। তাদের হাতে ‘মাঈনুল হত্যার বিচার চাই, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমি মরলেও ক্ষতি নাই, নাঈম-মাঈনুদ্দিন হত্যার বিচার চাই’, ‘গণপরিবহণে হাফ পাশ চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় পরিবহণ সন্ত্রাসের ঠাঁই নাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’- ইত্যাদি স্লোগান লেখা পোস্টার ছিল।

ব্রিজে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী খিলগাঁও সরকারি মডেল কলেজের ছাত্রী সোহাগী সামিয়া বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃষ্টির মধ্যেও আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছি। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে আছি এবং থাকব।

মুখে কালো কাপড় বাঁধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সড়কে নিহত শিক্ষার্থীসহ অন্যদের স্মরণে শোক জানাতে আমরা মুখে কালো কাপড় বেঁধেছি। এতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটল, কিন্তু প্রশাসন নীরব। এই নীরবতার প্রতিবাদও এর মাধ্যমে করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সামিয়া আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা মঙ্গলবার কোনো কর্মসূচি রাখছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি আরও কয়েক দিন এরকম বৈরী আবহাওয়া থাকবে। তাই যত দিন পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকবে তত দিন আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবার কর্মসূচি দেব। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। একটি হচ্ছে মাঈনউদ্দিনের স্কুল থেকে নাঈম হাসানের কলেজ পর্যন্ত সাইকেল র‌্যালি। ওই কলেজে গিয়ে আমরা মোমবাতি প্রজ্বালন করব। এ ছাড়া নিরাপদ সড়কসহ অন্যান্য দাবিতে একটি ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করব। সেই সমাবেশের দিনক্ষণ পরে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, সরকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর পরই শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। প্রথম দিকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যেই ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আর ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় নিহত হন মাঈনুদ্দিন ইসলাম নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তখন থেকেই ১১ দফা দাবিতে রামপুরা এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে রোববার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন : পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিকালে শহিদ মিনার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যা ৬টায় তারা মোববাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সড়ক হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আইন করে হাফপাশ, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘প্রজ্ঞাপন করে হাফ পাশ দিতে হবে দিয়ে দাও’- ইত্যাদি স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে প্রতিবাদী গান গাওয়া হয়। মোমবাতি প্রজ্বালন শেষে আগামী শুক্রবার বিকালে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইনজামুল হক রামিম বলেন, ৮ নভেম্বর থেকে যে হাফ পাশের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ২৩ তারিখে তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে রূপ নেয়। আমরা ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে প্রয়োজনে অনশনে যেতে বাধ্য হব। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আজ আমাদের বন্ধুরা ঢাকায় রামপুরা, বরিশাল ও চট্টাগ্রামে আন্দোলন করেছেন।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, সড়ক, নৌ এবং রেলপথে আমরা হাফ পাশ দাবি করেছি। তবে সড়কে শর্তসাপেক্ষে যে হাফ পাশ দেওয়া হয়েছে তা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের দাবি গণপরিবহণে ‘শর্তহীন’ হাফ পাশ দিতে হবে। নৌ এবং রেলপথে হাফ পাশের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। এর পরও যদি হাফ পাশ না পাই রেল ও নৌ-পথ মন্ত্রণালয় অবরোধ কর্মসূচি দেব।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হলো- ১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না। ৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। ৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে। ৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে। ৯. শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

অনড় শিক্ষার্থীরা

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কে অবস্থান মোমবাতি প্রজ্বালন

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রজ্বালন
নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোমবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি জ্বালিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমাবেশ -যুগান্তর

নিরাপদ সড়ক ও সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শর্তহীন’ হাফ পাশের দাবিতে সোমবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল। প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে আধাঘণ্টা সেখানে তারা অবস্থান করেন। সড়কে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী মাঈনউদ্দিন ও নাঈম হাসানের সহপাঠীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা বলেন, বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে নিহত মাঈনউদ্দিনের স্কুল রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নাঈম হাসানের কলেজ নটর ডেম পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রা এবং ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করা হবে। একই দাবিতে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে একদল শিক্ষার্থী। তারা জানান, সড়ক ব্যবস্থাপনায় আলোর পথ দেখাতেই তাদের এই মোমবাতি প্রজ্বালন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দুপুর ১২টার দিকে রামপুরায় আসতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বৃষ্টিতে ভিজে, ছাতা মাথায় দিয়ে জড়ো হন তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। সড়কে নিহতদের স্মরণে শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজও ধারণ করেন। তাদের হাতে ‘মাঈনুল হত্যার বিচার চাই, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমি মরলেও ক্ষতি নাই, নাঈম-মাঈনুদ্দিন হত্যার বিচার চাই’, ‘গণপরিবহণে হাফ পাশ চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় পরিবহণ সন্ত্রাসের ঠাঁই নাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?’- ইত্যাদি স্লোগান লেখা পোস্টার ছিল।

ব্রিজে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী খিলগাঁও সরকারি মডেল কলেজের ছাত্রী সোহাগী সামিয়া বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃষ্টির মধ্যেও আমরা সড়কে অবস্থান নিয়েছি। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থন রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে আছি এবং থাকব।

মুখে কালো কাপড় বাঁধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সড়কে নিহত শিক্ষার্থীসহ অন্যদের স্মরণে শোক জানাতে আমরা মুখে কালো কাপড় বেঁধেছি। এতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটল, কিন্তু প্রশাসন নীরব। এই নীরবতার প্রতিবাদও এর মাধ্যমে করছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সামিয়া আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমরা মঙ্গলবার কোনো কর্মসূচি রাখছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি আরও কয়েক দিন এরকম বৈরী আবহাওয়া থাকবে। তাই যত দিন পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকবে তত দিন আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে। তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবার কর্মসূচি দেব। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। একটি হচ্ছে মাঈনউদ্দিনের স্কুল থেকে নাঈম হাসানের কলেজ পর্যন্ত সাইকেল র‌্যালি। ওই কলেজে গিয়ে আমরা মোমবাতি প্রজ্বালন করব। এ ছাড়া নিরাপদ সড়কসহ অন্যান্য দাবিতে একটি ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করব। সেই সমাবেশের দিনক্ষণ পরে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, সরকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর পরই শিক্ষার্থীরা অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। প্রথম দিকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর মধ্যেই ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হন। এ ঘটনার জেরে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আর ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় নিহত হন মাঈনুদ্দিন ইসলাম নামে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তখন থেকেই ১১ দফা দাবিতে রামপুরা এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে রোববার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন : পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিকালে শহিদ মিনার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যা ৬টায় তারা মোববাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সড়ক হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আইন করে হাফপাশ, দিতে হবে দিয়ে দাও’, ‘প্রজ্ঞাপন করে হাফ পাশ দিতে হবে দিয়ে দাও’- ইত্যাদি স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে প্রতিবাদী গান গাওয়া হয়। মোমবাতি প্রজ্বালন শেষে আগামী শুক্রবার বিকালে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ইনজামুল হক রামিম বলেন, ৮ নভেম্বর থেকে যে হাফ পাশের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ২৩ তারিখে তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে রূপ নেয়। আমরা ৯ দফা দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হলে প্রয়োজনে অনশনে যেতে বাধ্য হব। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আজ আমাদের বন্ধুরা ঢাকায় রামপুরা, বরিশাল ও চট্টাগ্রামে আন্দোলন করেছেন।

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, সড়ক, নৌ এবং রেলপথে আমরা হাফ পাশ দাবি করেছি। তবে সড়কে শর্তসাপেক্ষে যে হাফ পাশ দেওয়া হয়েছে তা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের দাবি গণপরিবহণে ‘শর্তহীন’ হাফ পাশ দিতে হবে। নৌ এবং রেলপথে হাফ পাশের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি। এর পরও যদি হাফ পাশ না পাই রেল ও নৌ-পথ মন্ত্রণালয় অবরোধ কর্মসূচি দেব।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি হলো- ১. বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই বিধান সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। ২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ৩. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবেন না। ৪. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না। ৫. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. প্রত্যেক সড়কে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিডব্রেকার দিতে হবে। ৭. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। ৮. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের নিতে হবে। ৯. শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন