দুপুরেই নেমে এলো ‘সন্ধ্যা’
jugantor
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব
দুপুরেই নেমে এলো ‘সন্ধ্যা’

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সন্ধ্যা

অঝোর ধারায় রোববার রাত থেকে বইছে বৃষ্টি। সামান্য বিরতি ছিল সোমবার বেলা ১১টায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বলতে গেলে অনেকটাই একটানা বৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের পরিবর্তিত রূপ ‘নিুচাপ’র কারণে এই অবস্থা হয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই শ্রাবণ মেঘের দিনের মতো ছিল। দুপুর বেলায় সন্ধ্যার গোধূলি নেমে আসে। ঢাকার রাজপথে জ্বলে উঠেছিল সড়কবাতি আর গাড়িগুলোর হেডলাইট ছড়িয়েছিল আলোর দ্যুতি। তবে বড় কষ্ট দিয়েছিল জলজট। এর মধ্যেই নাকাল নগরবাসীকে অফিসসহ কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। আজও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমবেশি বর্ষণ থাকবে। আর এই বারিপাতের ধারাবাহিকতায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও লঘুচাপের পর্যায় পেরিয়ে ‘গুরুত্বহীন’ হয়ে যাবে জাওয়াদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেবল ঢাকায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা আর সিলেট বিভাগে হয়েছে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি। দেশের অন্য অঞ্চলও বৃষ্টির মুখ দেখেছে। এসবের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ফরিদপুর; ১৮ ঘণ্টায় ১শ’ মিলিমিটার। অসময়ের এই বৃষ্টি আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আধা পাকা ধান ক্ষেতের মাটিতে শুইয়ে পড়েছে। এতে এবার ধানে চিটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়াবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় না। গত ৪৮ বছরে এটি চতুর্থ। এবারের এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণ পূবালী বায়ু, যা প্রশান্ত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে আসে। ওই পূবালী বাতাসের লঘুচাপের বর্ধিতাংশ যখন বঙ্গোপসাগরে আসে, তখন বায়ুতাড়িত সুপ্ত তাপের জোগান বেশি পায়। এ কারণে বঙ্গোপসাগরে আগে থেকে তৈরি পরিস্থিতি (পানির তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি থাকা) নতুন ‘সিস্টেম’ (পরিস্থিতি) তৈরি করে। এতে তা প্রথমে লঘুচাপ ও পরে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাতাসের গতি যখন বাড়তে থাকে তা নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপরই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়। তবে ভাগ্য ভালো যে, এই সময়ে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যে কারণে অনেক সময়ে তা সাগরেই বিলীন হয়ে যায়। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মাদির এই পরিণতি হয়েছিল। এবারে জাওয়াদেরও সেই পরিণত হয়। কিন্তু গভীর নিম্নচাপ উপকূলে পৌঁছায়। এতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যে।

বিএমডি বলছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে সাগরে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপুকলীয় এলকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রলার বা নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএমডি সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি (২২-৪৩ মি.মি) থেকে ভারি (৪৪-৮৮ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়। পাশাপাশি এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।

এর আগে জাওয়াদ ওড়িশার ভূবনেশ্বরে গভীর নিম্নচাপ আকারে পৌঁছায় রোববার বিকালে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড় বা এ সংক্রান্ত সিস্টেম ঘড়ির উল্টোদিকের হিসাবে চলে। সেই হিসাবে এটি ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ধরে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বা এর শেষরূপ লঘুচাপের পরিণতি ‘গুরুত্বহীন’ পর্যায় যাওয়ার একটিই পথ-বর্ষণ। সেটিই ঘটছে এখন। তিনি আরও জানান, সোমবার (আজ) সকালের দিকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর আকাশ পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। দুপুরের পর রাজধানীতে রোদ দেখা দিতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে, তবে কাল (আজ) দুপুরে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে পৌঁছার আগে দমকা বাতাসসহ ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে। হবে থেমে থেমে বৃষ্টি।

আর আবহাওয়াবিদ ড. কালাম মল্লিক বলেন, এই অবস্থার কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত দেখা দিতে পারে, যার তীব্রতা তূলনামূলক বেশি থাকবে। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বরিশাল : বরিশালে সকাল থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকে। তবে রাতভর মুষল ধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, সকাল ছয়টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত এবং স্থানীয় নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। অন্যদিকে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ব স্ব জেলার প্রশাসকরা।

নোয়াখালী : সকাল ৬টা থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌচলাচল বন্ধ থাকায় দেশের অন্য কোথাও থেকে লোকজন হাতিয়ায় আসতে পারছেন না। হাতিয়া থেকে কেউ দ্বীপের বাইরেও যেতে পারছেন না। নোয়াখালী জেলায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ভোলা ও মনপুরা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে বিশেষ করে সোমবারের বৃষ্টিতে আমন ধানসহ শীতের রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এবার জেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফসল কাটার মুখে এমন বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও বাতাসের বেগ কম থাকায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ও ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে তিনটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। অপরদিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ১০ লঞ্চ ও ভোলা-বরিশাল রুটে ১৬টি লঞ্চ যাতায়াত করলেও যাত্রী সংখ্যা কম ছিল বলে জানান লঞ্চ স্টাফরা। মনপুরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হঠাৎ ভারী বর্ষণে বৃষ্টির পানি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত।

কাউখালী (পিরোজপুর) : কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ৩ দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাওয়াদের প্রভাবে হালকা বাতাসে উপজেলার শত শত হেক্টর জমির আমন ধান এখন পানির নিচে।

রাঙ্গাবালী, দুমকি ও কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মুষল ধারে অতিবর্ষণ হয়েছে। এরই মাঝে দুপুরের জোয়ারে নদ-নদীর পানি বাড়ে দুই থেকে আড়াই ফুট। বৃষ্টি থামলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলে কৃষকদের ক্ষতি কমবে। তবে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। উপকূলে তিন দিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের, তবে বাতাসের চাপ নেই। রোববার সন্ধ্যা থেকে উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে শীত। বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় আমন ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে লেপ্টে গেছে। এতে ক্ষেতের পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিশস্যসহ তরমুজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষক।

বেতাগী ও দক্ষিণ (বরগুনা) : বরগুনার বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে জমির কচি ধানের শীষ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জমির ধান গাছ একেবারে মাটিতে মিশে গেছে। পাশাপাশি রবিশস্য ও বীজতলা বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন উপকূলীয় বিষখালী নদীর পারের চাষিরা।

যশোর : যশোরে সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার যা দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এদিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ছিল ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারি অপু বলেন, বৃষ্টির পানি যাতে পৌর এলাকায় না জমে সেজন্য ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শীতকালীন সবজি, ধান, আলু নিয়ে চরম দুরবস্থায় মুখোমুখি কৃষকরা। রামপুর বাজারের কৃষক ইউনুস মিয়া বলেন, এখন আমন ফসল ঘরে তোলার সময়। এই সময়ে বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে থাকা ধান গাছ মাটিতে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে গাছ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। তাছাড়া নিচু জমিতে পানি জমায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার সঙ্গে বৃষ্টিতে ফরিদগঞ্জের নিুাঞ্চলের কৃষকরা বিপদে পড়েছে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ফুট বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃষ্টি-বাতাসে বেড়েছে শীতও। মেঘনা নদী উপকূলীয় রায়পুরে উত্তর চরবংশি, দক্ষিণ চরবংশি, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের সব আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা রয়েছে। সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য সতর্ক থাকতে প্রশাসনের বার্তা পৌঁছানো হয়।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট ও ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ রুটের ৬টি ফেরি বিকল হওয়ার কারণে নৌরুটের উভয় ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এ নৌবহরে ফেরির সংখ্যা ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি। এর মধ্যে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও কেরামত আলী ফেরি দুটো জরুরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় মাস ধরে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ভাষাসৈনিক শহিদ বরকত, শাহ আলী ও হামিদুর রহমান রয়েছে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে। রুটে চালু রয়েছে মাত্র ১৪টি ফেরি। এছাড়াও দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ঘাট পূর্বেই বন্ধ ছিল। নতুন করে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ৬ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ রয়েছে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) : চিতলমারীতে সবজি, চলতি বোরো ধানের বীজতলা, কলাইসহ সরিষা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব

দুপুরেই নেমে এলো ‘সন্ধ্যা’

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সন্ধ্যা
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বর্ষণে সোমবার তলিয়ে গেছে রাজধানীর সিদ্দিকবাজার -যুগান্তর

অঝোর ধারায় রোববার রাত থেকে বইছে বৃষ্টি। সামান্য বিরতি ছিল সোমবার বেলা ১১টায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বলতে গেলে অনেকটাই একটানা বৃষ্টি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের পরিবর্তিত রূপ ‘নিুচাপ’র কারণে এই অবস্থা হয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটাই শ্রাবণ মেঘের দিনের মতো ছিল। দুপুর বেলায় সন্ধ্যার গোধূলি নেমে আসে। ঢাকার রাজপথে জ্বলে উঠেছিল সড়কবাতি আর গাড়িগুলোর হেডলাইট ছড়িয়েছিল আলোর দ্যুতি। তবে বড় কষ্ট দিয়েছিল জলজট। এর মধ্যেই নাকাল নগরবাসীকে অফিসসহ কর্মস্থলে যেতে হয়েছে। আজও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমবেশি বর্ষণ থাকবে। আর এই বারিপাতের ধারাবাহিকতায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও লঘুচাপের পর্যায় পেরিয়ে ‘গুরুত্বহীন’ হয়ে যাবে জাওয়াদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেবল ঢাকায় ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা আর সিলেট বিভাগে হয়েছে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি। দেশের অন্য অঞ্চলও বৃষ্টির মুখ দেখেছে। এসবের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে ফরিদপুর; ১৮ ঘণ্টায় ১শ’ মিলিমিটার। অসময়ের এই বৃষ্টি আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আধা পাকা ধান ক্ষেতের মাটিতে শুইয়ে পড়েছে। এতে এবার ধানে চিটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়াবিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক যুগান্তরকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় না। গত ৪৮ বছরে এটি চতুর্থ। এবারের এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণ পূবালী বায়ু, যা প্রশান্ত মহাসাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে আসে। ওই পূবালী বাতাসের লঘুচাপের বর্ধিতাংশ যখন বঙ্গোপসাগরে আসে, তখন বায়ুতাড়িত সুপ্ত তাপের জোগান বেশি পায়। এ কারণে বঙ্গোপসাগরে আগে থেকে তৈরি পরিস্থিতি (পানির তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর বেশি থাকা) নতুন ‘সিস্টেম’ (পরিস্থিতি) তৈরি করে। এতে তা প্রথমে লঘুচাপ ও পরে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বাতাসের গতি যখন বাড়তে থাকে তা নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপরই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়। তবে ভাগ্য ভালো যে, এই সময়ে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যে কারণে অনেক সময়ে তা সাগরেই বিলীন হয়ে যায়। ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মাদির এই পরিণতি হয়েছিল। এবারে জাওয়াদেরও সেই পরিণত হয়। কিন্তু গভীর নিম্নচাপ উপকূলে পৌঁছায়। এতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের কয়েকটি রাজ্যে।

বিএমডি বলছে, নিম্নচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও দুর্বল ও গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। লঘুচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত আছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে সাগরে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপুকলীয় এলকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রলার বা নৌকাগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

বিএমডি সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি (২২-৪৩ মি.মি) থেকে ভারি (৪৪-৮৮ মি.মি.) বর্ষণ হতে পারে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়। পাশাপাশি এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়।

এর আগে জাওয়াদ ওড়িশার ভূবনেশ্বরে গভীর নিম্নচাপ আকারে পৌঁছায় রোববার বিকালে। যেহেতু ঘূর্ণিঝড় বা এ সংক্রান্ত সিস্টেম ঘড়ির উল্টোদিকের হিসাবে চলে। সেই হিসাবে এটি ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ধরে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বা এর শেষরূপ লঘুচাপের পরিণতি ‘গুরুত্বহীন’ পর্যায় যাওয়ার একটিই পথ-বর্ষণ। সেটিই ঘটছে এখন। তিনি আরও জানান, সোমবার (আজ) সকালের দিকে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর আকাশ পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। দুপুরের পর রাজধানীতে রোদ দেখা দিতে পারে। বৃষ্টিপাতের কারণে রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে, তবে কাল (আজ) দুপুরে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে পৌঁছার আগে দমকা বাতাসসহ ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে। হবে থেমে থেমে বৃষ্টি।

আর আবহাওয়াবিদ ড. কালাম মল্লিক বলেন, এই অবস্থার কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শীত দেখা দিতে পারে, যার তীব্রতা তূলনামূলক বেশি থাকবে। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বরিশাল : বরিশালে সকাল থেকে টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে থাকে। তবে রাতভর মুষল ধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, সকাল ছয়টা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত এবং স্থানীয় নদীবন্দরে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। অন্যদিকে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্ব স্ব জেলার প্রশাসকরা।

নোয়াখালী : সকাল ৬টা থেকে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌচলাচল বন্ধ থাকায় দেশের অন্য কোথাও থেকে লোকজন হাতিয়ায় আসতে পারছেন না। হাতিয়া থেকে কেউ দ্বীপের বাইরেও যেতে পারছেন না। নোয়াখালী জেলায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ভোলা ও মনপুরা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে বিশেষ করে সোমবারের বৃষ্টিতে আমন ধানসহ শীতের রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এবার জেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফসল কাটার মুখে এমন বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও বাতাসের বেগ কম থাকায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ও ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে তিনটি লঞ্চ ছেড়ে যায়। অপরদিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ১০ লঞ্চ ও ভোলা-বরিশাল রুটে ১৬টি লঞ্চ যাতায়াত করলেও যাত্রী সংখ্যা কম ছিল বলে জানান লঞ্চ স্টাফরা। মনপুরা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে হঠাৎ ভারী বর্ষণে বৃষ্টির পানি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত।

কাউখালী (পিরোজপুর) : কাউখালীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে ৩ দিন ধরে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জাওয়াদের প্রভাবে হালকা বাতাসে উপজেলার শত শত হেক্টর জমির আমন ধান এখন পানির নিচে।

রাঙ্গাবালী, দুমকি ও কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মুষল ধারে অতিবর্ষণ হয়েছে। এরই মাঝে দুপুরের জোয়ারে নদ-নদীর পানি বাড়ে দুই থেকে আড়াই ফুট। বৃষ্টি থামলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করলে কৃষকদের ক্ষতি কমবে। তবে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে। কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল রয়েছে। উপকূলে তিন দিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের, তবে বাতাসের চাপ নেই। রোববার সন্ধ্যা থেকে উপকূলীয় এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে শীত। বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় আমন ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে লেপ্টে গেছে। এতে ক্ষেতের পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিশস্যসহ তরমুজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষক।

বেতাগী ও দক্ষিণ (বরগুনা) : বরগুনার বেতাগীতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে জমির কচি ধানের শীষ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো জমির ধান গাছ একেবারে মাটিতে মিশে গেছে। পাশাপাশি রবিশস্য ও বীজতলা বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন উপকূলীয় বিষখালী নদীর পারের চাষিরা।

যশোর : যশোরে সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার যা দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এদিন জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ছিল ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারি অপু বলেন, বৃষ্টির পানি যাতে পৌর এলাকায় না জমে সেজন্য ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শীতকালীন সবজি, ধান, আলু নিয়ে চরম দুরবস্থায় মুখোমুখি কৃষকরা। রামপুর বাজারের কৃষক ইউনুস মিয়া বলেন, এখন আমন ফসল ঘরে তোলার সময়। এই সময়ে বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে থাকা ধান গাছ মাটিতে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে গাছ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। তাছাড়া নিচু জমিতে পানি জমায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন বলেন, জলাবদ্ধতার সঙ্গে বৃষ্টিতে ফরিদগঞ্জের নিুাঞ্চলের কৃষকরা বিপদে পড়েছে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই ফুট বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃষ্টি-বাতাসে বেড়েছে শীতও। মেঘনা নদী উপকূলীয় রায়পুরে উত্তর চরবংশি, দক্ষিণ চরবংশি, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়নের সব আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা রয়েছে। সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য সতর্ক থাকতে প্রশাসনের বার্তা পৌঁছানো হয়।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট ও ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ রুটের ৬টি ফেরি বিকল হওয়ার কারণে নৌরুটের উভয় ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এ নৌবহরে ফেরির সংখ্যা ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি। এর মধ্যে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও কেরামত আলী ফেরি দুটো জরুরি মেরামতের জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় রয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় মাস ধরে রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ভাষাসৈনিক শহিদ বরকত, শাহ আলী ও হামিদুর রহমান রয়েছে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে। রুটে চালু রয়েছে মাত্র ১৪টি ফেরি। এছাড়াও দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ঘাট পূর্বেই বন্ধ ছিল। নতুন করে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ৬ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ রয়েছে।

চিতলমারী (বাগেরহাট) : চিতলমারীতে সবজি, চলতি বোরো ধানের বীজতলা, কলাইসহ সরিষা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন