কঠোর অবস্থানে আ.লীগ বিতর্কিতদের প্রশ্রয় নয়
jugantor
কঠোর অবস্থানে আ.লীগ বিতর্কিতদের প্রশ্রয় নয়
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা

  হাসিবুল হাসান  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্যসহ বিতর্কিত কাজে জড়িতদের কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে দলের প্রভাবশালী নেতা-এমপি-মন্ত্রী বা মেয়র যেই হোক, সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা। এভাবে দলের মধ্যেই সাজা দেওয়ার উদাহরণ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি এবং দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আরও ভালোভাবে চলার কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই সামাজিক ও ধর্মীয় শিষ্টাচার থাকতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত এবং আমাদের সবার জন্য সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলতে বা কাজ করতে পারেন না। তাই এই বিষয়গুলোয় আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে নিজ দলের ভেতরেই শাস্তির ‘উদাহরণ’ সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ। কোনো ঘটনাতেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দায় নেয়নি দলটি। বরং সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অন্যদের সতর্ক করা হয়েছে। এই কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকেই হারিয়েছেন মন্ত্রি-এমপি, মেয়রসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ। যার সর্বশেষ উদাহরণ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

এছাড়া সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব এবং কুয়েটের ছাত্রলীগের ৭ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, জিকে শামীম, যুব মহিলা লীগের পাপিয়া, রিজেন্টের সাহেদ, ইরফান সেলিমসহ আরও বেশকিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। পরে তাকে মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এর আগে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য রাখার দায়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। সেসময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর পদ এবং সংসদ-সদস্য পদও হারাতে হয়েছিল তাকে।

এদিকে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে মন্তব্যের জেরে মামলা হওয়ার পর রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে ১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদের পাশাপাশি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়াকে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পরে দলকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর পরে সম্রাট-পাপিয়া-জিকে শামীমসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে দেখা যায় দলটিকে। তখন শুদ্ধি অভিযান শুরু হলেও করোনার কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে করোনার মধ্যে পাপিয়া-সাহেদ এবং সিলেট-নোয়াখালীর ঘটনাসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দলীয় এমপি হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এ ঘটনার পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার শ্বশুর নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য একরামুল করীম চৌধুরী।

এর আগে পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পৌর মেয়র আবদুল বাতেনকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সরকার। আবদুল বাতেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য শামসুল হকের ভাই। টানা ২১ বছর বেড়া পৌরসভার মেয়র পদে ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েক মাস আগে জেলা আ.লীগ তাকে দলীয় পদ থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে। ছোট-বড় এরকম আরও বেশকিছু ঘটনা আছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দুভাবেই বার্তা পাঠাচ্ছেন। দলীয়ভাবে কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন চিঠি দিয়ে। কাউকে কাউকে মৌখিক ও বার্তাবাহকের মাধ্যমে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দলীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না; সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেখানে দুর্নীতি-অনিয়ম পাচ্ছি, সে আমার দলের যত বড় নেতা হোক, কর্মী হোক, যেই হোক, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, বিতর্কিতদের ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা খুবই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার নির্দেশনা হচ্ছে অপরাধী বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জড়িতরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাস্তবে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের কমিটিতেও যেন বিতর্কিতরা জায়গা না পায়, এ বিষয়েও নেত্রীর (শেখ হাসিনার) নির্দেশনা আছে। এ বিষয়ে একাধিকবার তৃণমূলে চিঠি দিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন এবং তাদের যেসব প্রভাবশালী আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কঠোর অবস্থানে আ.লীগ বিতর্কিতদের প্রশ্রয় নয়

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা
 হাসিবুল হাসান 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। দল ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না ক্ষমতাসীনরা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্যসহ বিতর্কিত কাজে জড়িতদের কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে দলের প্রভাবশালী নেতা-এমপি-মন্ত্রী বা মেয়র যেই হোক, সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা। এভাবে দলের মধ্যেই সাজা দেওয়ার উদাহরণ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি এবং দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আরও ভালোভাবে চলার কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই সামাজিক ও ধর্মীয় শিষ্টাচার থাকতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত এবং আমাদের সবার জন্য সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলতে বা কাজ করতে পারেন না। তাই এই বিষয়গুলোয় আমাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে নিজ দলের ভেতরেই শাস্তির ‘উদাহরণ’ সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ। কোনো ঘটনাতেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দায় নেয়নি দলটি। বরং সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অন্যদের সতর্ক করা হয়েছে। এই কঠোর অবস্থানের কারণে অনেকেই হারিয়েছেন মন্ত্রি-এমপি, মেয়রসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ। যার সর্বশেষ উদাহরণ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

এছাড়া সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী, সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব এবং কুয়েটের ছাত্রলীগের ৭ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যুবলীগের ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, জিকে শামীম, যুব মহিলা লীগের পাপিয়া, রিজেন্টের সাহেদ, ইরফান সেলিমসহ আরও বেশকিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

বঙ্গবন্ধু ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। পরে তাকে মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এর আগে পবিত্র হজ, তাবলিগ জামাত নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য রাখার দায়ে মন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। সেসময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর পদ এবং সংসদ-সদস্য পদও হারাতে হয়েছিল তাকে।

এদিকে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে মন্তব্যের জেরে মামলা হওয়ার পর রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে ১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদের পাশাপাশি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা বগুড়ার শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়াকে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের পরে দলকে তৃণমূল পর্যন্ত ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর পরে সম্রাট-পাপিয়া-জিকে শামীমসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে দেখা যায় দলটিকে। তখন শুদ্ধি অভিযান শুরু হলেও করোনার কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে করোনার মধ্যে পাপিয়া-সাহেদ এবং সিলেট-নোয়াখালীর ঘটনাসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দলীয় এমপি হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এ ঘটনার পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তার শ্বশুর নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ-সদস্য একরামুল করীম চৌধুরী।

এর আগে পাবনার বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পৌর মেয়র আবদুল বাতেনকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সরকার। আবদুল বাতেন বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য শামসুল হকের ভাই। টানা ২১ বছর বেড়া পৌরসভার মেয়র পদে ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েক মাস আগে জেলা আ.লীগ তাকে দলীয় পদ থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে। ছোট-বড় এরকম আরও বেশকিছু ঘটনা আছে।

দলীয় সূত্র জানায়, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দুভাবেই বার্তা পাঠাচ্ছেন। দলীয়ভাবে কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন চিঠি দিয়ে। কাউকে কাউকে মৌখিক ও বার্তাবাহকের মাধ্যমে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দলীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না; সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যেখানে দুর্নীতি-অনিয়ম পাচ্ছি, সে আমার দলের যত বড় নেতা হোক, কর্মী হোক, যেই হোক, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, বিতর্কিতদের ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা খুবই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার নির্দেশনা হচ্ছে অপরাধী বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জড়িতরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাস্তবে একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের কমিটিতেও যেন বিতর্কিতরা জায়গা না পায়, এ বিষয়েও নেত্রীর (শেখ হাসিনার) নির্দেশনা আছে। এ বিষয়ে একাধিকবার তৃণমূলে চিঠি দিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন এবং তাদের যেসব প্রভাবশালী আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন