ঝুলে থাকা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে ঢাকা-দিল্লি
jugantor
পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক
ঝুলে থাকা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে ঢাকা-দিল্লি

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈঠক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনেক। বিশেষ করে মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়। কিন্তু কোভিড মহামারির কারণে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাই ঝুলে থাকা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ঢাকা ও দিল্লি। মঙ্গলবার ঢাকায় দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ৫০ মিনিট স্থায়ী হয়। দুই পররাষ্ট্র সচিব একান্তেও কিছু কথা বলেছেন। বৈঠক শেষে উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিব রিপোর্টারদের বলেছেন, বিস্তৃত ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দুদিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। সচিব পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও প্রথম দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় সচিব। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বুধবার সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের তরফে জানানো হয় যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেবেন শ্রিংলা।

বর্তমানে দুদেশের মধ্যে কী কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে জানতে চাইলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রধানত পানিসম্পদ বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। বিশেষ করে তিস্তার বাইরে সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে একটি কাঠামোগত চুক্তি করার কথা রয়েছে। এটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এছাড়াও, বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন নতুন ইস্যু যুক্ত হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য ইস্যু একটি চলমান প্রক্রিয়া। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন ইস্যু উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও, সীমান্ত হত্যা বন্ধে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের তরফে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য, কানেকটিভিটির বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় তোলা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন।

ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির লক্ষ্যে দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের এবারের আগমন। তিন দিনের সফরে ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসছেন রামনাথ। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এর আগে মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বছরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের স্বর্ণযুগ চলছে। অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, দুদেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। তিনি ওই সময়ে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন উপলক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শ্রিংলা ইতঃপূর্বে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। তিনি শিল্পীদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন রিপোর্টারদের বলেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আমরা আলোচনা করেছি। সামনের দিনে সম্পর্ককে কীভাবে এগিয়ে নেব এটাও আমাদের আলোচনায় ছিল। নতুন ক্ষেত্রের মধ্যে সবুজ জ্বালানি, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখা, বাণিজ্য বাড়ানো, কোভিড সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রিপোর্টারদের বলেন, ‘বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে দুদেশের মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে। দুদেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ রেখে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। আমরা এ উদ্যাপনের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’ এ সময় শ্রিংলা উল্লেখ করেন যে, কোভিড শুরু হওয়ার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের বাংলাদেশের আসন্ন আগমন হবে বিদেশে প্রথম সফর। মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ দেশে এসেছিলেন। সেটাও ছিল কোভিডের মধ্যে প্রথম বিদেশ সফর। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আজ বাংলাদেশ একটি সফল দেশ। প্রতি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট ও সীমান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সুবর্ণ দিগন্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্তের রাখীবন্ধনের মধ্যে দিয়ে এই সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অটুট বুনন দীর্ঘ ৫০ বছরে সুবর্ণ দিগন্তে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি এ বছর আমরা কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরও পালন করছি।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিয়েছিলেন। এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার এই সফর উপলক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক

ঝুলে থাকা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে ঢাকা-দিল্লি

 কূটনৈতিক প্রতিবেদক 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বৈঠক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে -যুগান্তর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অনেক। বিশেষ করে মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়। কিন্তু কোভিড মহামারির কারণে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। তাই ঝুলে থাকা এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে ঢাকা ও দিল্লি। মঙ্গলবার ঢাকায় দুদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। 

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ৫০ মিনিট স্থায়ী হয়। দুই পররাষ্ট্র সচিব একান্তেও কিছু কথা বলেছেন। বৈঠক শেষে উভয় দেশের পররাষ্ট্র সচিব রিপোর্টারদের বলেছেন, বিস্তৃত ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দুদিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। সচিব পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও প্রথম দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় সচিব। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বুধবার সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ভারতের তরফে জানানো হয় যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেবেন শ্রিংলা।

বর্তমানে দুদেশের মধ্যে কী কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে জানতে চাইলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রধানত পানিসম্পদ বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে। বিশেষ করে তিস্তার বাইরে সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে একটি কাঠামোগত চুক্তি করার কথা রয়েছে। এটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এছাড়াও, বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন নতুন ইস্যু যুক্ত হচ্ছে। যদিও বাণিজ্য ইস্যু একটি চলমান প্রক্রিয়া। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন ইস্যু উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও, সীমান্ত হত্যা বন্ধে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের তরফে তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য, কানেকটিভিটির বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় তোলা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন। 

ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের আসন্ন বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতির লক্ষ্যে দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের এবারের আগমন। তিন দিনের সফরে ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসছেন রামনাথ। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এর আগে মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক বছরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের স্বর্ণযুগ চলছে। অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, দুদেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। তিনি ওই সময়ে বিশ্ব শান্তি সম্মেলন উপলক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শ্রিংলা ইতঃপূর্বে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। তিনি শিল্পীদের অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। 

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন রিপোর্টারদের বলেন, ‘বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অমীমাংসিত ইস্যুগুলো আমরা আলোচনা করেছি। সামনের দিনে সম্পর্ককে কীভাবে এগিয়ে নেব এটাও আমাদের আলোচনায় ছিল। নতুন ক্ষেত্রের মধ্যে সবুজ জ্বালানি, প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখা, বাণিজ্য বাড়ানো, কোভিড সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা রিপোর্টারদের বলেন, ‘বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে দুদেশের মানুষের আত্মত্যাগ রয়েছে। দুদেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ রেখে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। আমরা এ উদ্যাপনের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’ এ সময় শ্রিংলা উল্লেখ করেন যে, কোভিড শুরু হওয়ার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দের বাংলাদেশের আসন্ন আগমন হবে বিদেশে প্রথম সফর। মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ দেশে এসেছিলেন। সেটাও ছিল কোভিডের মধ্যে প্রথম বিদেশ সফর। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আজ বাংলাদেশ একটি সফল দেশ। প্রতি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে। 

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট ও সীমান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

সুবর্ণ দিগন্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্তের রাখীবন্ধনের মধ্যে দিয়ে এই সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অটুট বুনন দীর্ঘ ৫০ বছরে সুবর্ণ দিগন্তে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি এ বছর আমরা কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরও পালন করছি।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা মঙ্গলবার সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যোগ দিয়েছিলেন। এবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার এই সফর উপলক্ষ্যে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতীয় ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন