ঢাকা দখলের লড়াই শুরু
jugantor
ঢাকা দখলের লড়াই শুরু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাঙালি বুঝে নেয় তাদের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন আর বেশি দূরে নয়। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাদের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকে শত্রুমুক্ত করার খবর।

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী বীরদর্পে দেশের নানা জায়গায় বিজয় কেতন উড়িয়ে ঢাকা দখলের জন্য এগিয়ে আসছে। পাকিস্তানি সেনারা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ। এদিকে শেষ কূটচাল চালান হেনরি কিসিঞ্জার। সপ্তম নৌবহর যাত্রার নির্দেশ দেন। কিন্তু লাভ হলো না, মুক্তিবাহিনী আরও বিপুল উৎসাহে জয়ের নেশায় মেতে উঠল।

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর দিনটিও ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন মিত্রবাহিনী দ্রুত ঢাকা পৌঁছার জন্য চারদিক থেকে অগ্রসর হয়। আগে একটি বাহিনী যায় আশুগঞ্জ, দাউদকান্দি ও চাঁদপুর। পশ্চিমে আরেকটি বাহিনী পৌঁছে মধুমতি নদীর তীরে। আরেকটি বাহিনী কুষ্টিয়া মুক্ত করে যায় গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে। হালুয়াঘাট থেকে এগিয়ে আসা বাহিনীও পৌঁছে যায় ময়মনসিংহের কাছাকাছি।

এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. হেনরি কিসিঞ্জার তাকে পরামর্শ দেন বঙ্গোপসাগরের দিকে সপ্তম নৌবহরকে যাত্রা শুরুর নির্দেশ দিতে। ইয়াহিয়া খান ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা ভেবেছিল সপ্তম নৌবহর আসার কথা শুনে যৌথবাহিনীর মনোবল ভেঙে যাবে। কিন্তু ঘটে উলটোটা।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এই কথা জেনে মুক্তিযোদ্ধারা আরও বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের আরেক পরীক্ষিত মিত্র, তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়। ফলে সপ্তম নৌবহরের যাত্রা শুরু হওয়ার পরই থেমে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের এদিনে মুক্ত হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি। একইদিনে পতাকা ওড়ে গাইবান্ধা, গাজীপুরের শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নেত্রকোনায়। এদিকে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এখন বড় ধরনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এইদিন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেসের সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারত ও ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের পর উপদেষ্টা পরিষদের এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মুক্ত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিকালে ভারতীয় বিমানবাহিনী জামালপুরে হানাদার ঘাঁটির ওপর এক ঘণ্টা ধরে কয়েক হাজার পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে। এর ফলে পাকসেনারা পালাতে শুরু করে। জামালপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারত-বাংলা যৌথ বাহিনীর কাছে ৬০০ হানাদার সেনা ধরা পড়ে।

ঢাকা দখলের লড়াই শুরু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাঙালি বুঝে নেয় তাদের হাজার বছরের লালিত স্বপ্ন আর বেশি দূরে নয়। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ হাতছানি দিয়ে ডাকছে তাদের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকে শত্রুমুক্ত করার খবর।

মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী বীরদর্পে দেশের নানা জায়গায় বিজয় কেতন উড়িয়ে ঢাকা দখলের জন্য এগিয়ে আসছে। পাকিস্তানি সেনারা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ। এদিকে শেষ কূটচাল চালান হেনরি কিসিঞ্জার। সপ্তম নৌবহর যাত্রার নির্দেশ দেন। কিন্তু লাভ হলো না, মুক্তিবাহিনী আরও বিপুল উৎসাহে জয়ের নেশায় মেতে উঠল।

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর দিনটিও ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন মিত্রবাহিনী দ্রুত ঢাকা পৌঁছার জন্য চারদিক থেকে অগ্রসর হয়। আগে একটি বাহিনী যায় আশুগঞ্জ, দাউদকান্দি ও চাঁদপুর। পশ্চিমে আরেকটি বাহিনী পৌঁছে মধুমতি নদীর তীরে। আরেকটি বাহিনী কুষ্টিয়া মুক্ত করে যায় গোয়ালন্দ ঘাটের দিকে। হালুয়াঘাট থেকে এগিয়ে আসা বাহিনীও পৌঁছে যায় ময়মনসিংহের কাছাকাছি।

এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. হেনরি কিসিঞ্জার তাকে পরামর্শ দেন বঙ্গোপসাগরের দিকে সপ্তম নৌবহরকে যাত্রা শুরুর নির্দেশ দিতে। ইয়াহিয়া খান ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা ভেবেছিল সপ্তম নৌবহর আসার কথা শুনে যৌথবাহিনীর মনোবল ভেঙে যাবে। কিন্তু ঘটে উলটোটা।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে এই কথা জেনে মুক্তিযোদ্ধারা আরও বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের আরেক পরীক্ষিত মিত্র, তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়। ফলে সপ্তম নৌবহরের যাত্রা শুরু হওয়ার পরই থেমে যায়।

মুক্তিযুদ্ধের এদিনে মুক্ত হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি। একইদিনে পতাকা ওড়ে গাইবান্ধা, গাজীপুরের শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও নেত্রকোনায়। এদিকে মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এখন বড় ধরনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এইদিন বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেসের সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারত ও ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের পর উপদেষ্টা পরিষদের এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মুক্ত এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিকালে ভারতীয় বিমানবাহিনী জামালপুরে হানাদার ঘাঁটির ওপর এক ঘণ্টা ধরে কয়েক হাজার পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে। এর ফলে পাকসেনারা পালাতে শুরু করে। জামালপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারত-বাংলা যৌথ বাহিনীর কাছে ৬০০ হানাদার সেনা ধরা পড়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : বিজয়ের ৫০ বছর

১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
১৬ ডিসেম্বর, ২০২১