সেদিন যা ঘটেছিল
jugantor
সেদিন যা ঘটেছিল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুসারে পরদিন সারা রাত আবরারকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে আবরারকে নির্মমভাবে মারধরের ভয়াবহ চিত্র।

চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকি ১৪ জনকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

চার্জশিটে আসামি অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, মুজাহিদুর রহমান, এএসএম নাজমুস সাদাত, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা একই উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবরারকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথি মেরে, কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে, ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আসামি এসএম মাহমুদ সেতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আবরারকে মারার জন্য হুকুম দেয়।

আসামি মেহেদী হাসান রাসেল, মিজানুর রহমান মিজান, মুহতাসিম ফুয়াদ, আকাশ হোসেন, মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অর্মত্য ইসলাম, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, মুজতবা রাফিদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামছুল আরেফিন রাফাত এবং মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান ওরফে জিসানকে বিভিন্নভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপর আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মিটিং করে, মেসেঞ্জারে মেসেজের মাধ্যমে কথা আদান-প্রদান করে। আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে ঘটনাস্থল ২০১১নং রুমে নিয়ে তার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন চেক করে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দেয়। এরপর স্টাম্প এনে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে আবরারকে নির্মমভাবে মারধর ও পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার কাজ করে তারা।

আবরার শিবির করেন-এমন মিথ্যা তথ্য দেয় আবরারের রুমমেট আসামি মিজানুর রহমান। তার তথ্যের ভিত্তিতে আসামি মেহেদী হাসান রবিন বুয়েট শেরেবাংলা আবাসিক হলের ছাত্রলীগ সদস্যদের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সব আসামিকে মেসেজ দিয়ে আবরারকে মারধর করে হত্যার সমর্থন আদায় করে।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন এ সমর্থন আদায় করা হয়। ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর হলের ক্যান্টিন, গেস্ট রুমে আসামি মেহেদী হাসান, মনিরুজ্জামান, মুজতবা রাফিদ, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, ইফতি মোশাররফ, এহতেশামুল রাব্বি, ইশতিয়াক মুন্না, মুজাহিদুর রহমান, অমিত সাহা, মিজানুর রহমানসহ দফায় দফায় মিটিং করে।

মেহেদী হাসান, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল জিয়নসহ কয়েক আসামি আবরারকে ধরে আনতে বলে সংশ্লিষ্টদের। সেই মোতাবেক ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর আসামি এহতেশামুল রাব্বি, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাতসহ কয়েকজন আসামি আবরারের ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইলসহ ২০১১ নম্বর রুমে আনে।

আসামিরা আবরারকে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নানা তথ্যউপাত্ত বিষয়ে নানা প্রশ্ন করে। সে সময় উত্তেজিত হয়ে আবরারকে ক্রমাগত চড়-থাপ্পড়, লাথি, কিল-ঘুষি মারে। কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

সেদিন যা ঘটেছিল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুসারে পরদিন সারা রাত আবরারকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে আবরারকে নির্মমভাবে মারধরের ভয়াবহ চিত্র।

চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকি ১৪ জনকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

চার্জশিটে আসামি অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, মুজাহিদুর রহমান, এএসএম নাজমুস সাদাত, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা একই উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবরারকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথি মেরে, কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে, ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আসামি এসএম মাহমুদ সেতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আবরারকে মারার জন্য হুকুম দেয়।

আসামি মেহেদী হাসান রাসেল, মিজানুর রহমান মিজান, মুহতাসিম ফুয়াদ, আকাশ হোসেন, মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অর্মত্য ইসলাম, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, মুজতবা রাফিদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামছুল আরেফিন রাফাত এবং মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান ওরফে জিসানকে বিভিন্নভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপর আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মিটিং করে, মেসেঞ্জারে মেসেজের মাধ্যমে কথা আদান-প্রদান করে। আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে ঘটনাস্থল ২০১১নং রুমে নিয়ে তার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন চেক করে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দেয়। এরপর স্টাম্প এনে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে আবরারকে নির্মমভাবে মারধর ও পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার কাজ করে তারা।

আবরার শিবির করেন-এমন মিথ্যা তথ্য দেয় আবরারের রুমমেট আসামি মিজানুর রহমান। তার তথ্যের ভিত্তিতে আসামি মেহেদী হাসান রবিন বুয়েট শেরেবাংলা আবাসিক হলের ছাত্রলীগ সদস্যদের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সব আসামিকে মেসেজ দিয়ে আবরারকে মারধর করে হত্যার সমর্থন আদায় করে।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন এ সমর্থন আদায় করা হয়। ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর হলের ক্যান্টিন, গেস্ট রুমে আসামি মেহেদী হাসান, মনিরুজ্জামান, মুজতবা রাফিদ, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, ইফতি মোশাররফ, এহতেশামুল রাব্বি, ইশতিয়াক মুন্না, মুজাহিদুর রহমান, অমিত সাহা, মিজানুর রহমানসহ দফায় দফায় মিটিং করে।

মেহেদী হাসান, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল জিয়নসহ কয়েক আসামি আবরারকে ধরে আনতে বলে সংশ্লিষ্টদের। সেই মোতাবেক ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর আসামি এহতেশামুল রাব্বি, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাতসহ কয়েকজন আসামি আবরারের ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইলসহ ২০১১ নম্বর রুমে আনে।

আসামিরা আবরারকে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নানা তথ্যউপাত্ত বিষয়ে নানা প্রশ্ন করে। সে সময় উত্তেজিত হয়ে আবরারকে ক্রমাগত চড়-থাপ্পড়, লাথি, কিল-ঘুষি মারে। কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন