ইসি গঠনে খসড়া আইন ‘যেই লাউ সেই কদু’: নজরুল ইসলাম খান
jugantor
ইসি গঠনে খসড়া আইন ‘যেই লাউ সেই কদু’: নজরুল ইসলাম খান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে খসড়া আইনটি ‘যেই লাউ সেই কদু, বরং পচা কদু’। এ আইনে ইসিতে সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ থাকতে পারবেন না। দুনিয়ার কোথাও এমন নিয়ম নেই। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা জীবন সরকারি আদেশ মেনে চলা যাদের অভ্যাস, সেই কর্মকর্তাদের নিয়ে নতুন ইসি হবে। তিনি আরও বলেন, এ সরকার ও তাদের গঠিত কোনো কমিশনের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত জানাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন গঠনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটি মনে করে, ইসি নিয়োগে খসড়া আইনটি ‘পর্বতের মূষিক প্রসব’ বা একটি ‘পচা কদু’ হতে যাচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের নৈতিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য আছে শুধু নির্বাচিত সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে খসড়া আইনের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারের কাছে জনগণ এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করে না। রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সংলাপে গেছেন, তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। আবার রাষ্ট্রপতিরও কোনো ক্ষমতা নেই। এ সংলাপে কোনো অর্জন নেই। সংলাপের জায়গায় সংলাপ, সিদ্ধান্তের জায়গায় সিদ্ধান্ত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই এ নিয়ে তিনি কথাও বলতে চান না। নজরুল ইসলাম বলেন, গুম ও খুন হওয়া নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় সরকার দানবের পরিচয় দিয়েছে। নিজেদের দোষ ঢাকতে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম বিএনপি জনগণের সামনে তুলে ধরবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের দিন ২৫ জানুয়ারি এবার ‘বাকশাল দিবস’ হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ওইদিন দেশব্যাপী সব মহানগর ও জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে জবাই করে একদলীয় স্বৈরশাসন জারির দিনটিকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে। এছাড়া মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন কমিটি ওইদিন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত দলমতনির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিলের খসড়া’য় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিলটি পাশের জন্য সংসদে তোলা হবে এবং তা পাশ করে তার অধীনেই আসবে নতুন ইসি।

ইসি গঠনে খসড়া আইন ‘যেই লাউ সেই কদু’: নজরুল ইসলাম খান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে খসড়া আইনটি ‘যেই লাউ সেই কদু, বরং পচা কদু’। এ আইনে ইসিতে সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইন বিশেষজ্ঞ থাকতে পারবেন না। দুনিয়ার কোথাও এমন নিয়ম নেই। মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা জীবন সরকারি আদেশ মেনে চলা যাদের অভ্যাস, সেই কর্মকর্তাদের নিয়ে নতুন ইসি হবে। তিনি আরও বলেন, এ সরকার ও তাদের গঠিত কোনো কমিশনের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠকের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত জানাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশন গঠনে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটি মনে করে, ইসি নিয়োগে খসড়া আইনটি ‘পর্বতের মূষিক প্রসব’ বা একটি ‘পচা কদু’ হতে যাচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের নৈতিক যোগ্যতা ও সামর্থ্য আছে শুধু নির্বাচিত সরকারের।

সংবাদ সম্মেলনে খসড়া আইনের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারের কাছে জনগণ এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশা করে না। রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা সংলাপে গেছেন, তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। আবার রাষ্ট্রপতিরও কোনো ক্ষমতা নেই। এ সংলাপে কোনো অর্জন নেই। সংলাপের জায়গায় সংলাপ, সিদ্ধান্তের জায়গায় সিদ্ধান্ত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তাই এ নিয়ে তিনি কথাও বলতে চান না। নজরুল ইসলাম বলেন, গুম ও খুন হওয়া নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় সরকার দানবের পরিচয় দিয়েছে। নিজেদের দোষ ঢাকতে অনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে। দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম বিএনপি জনগণের সামনে তুলে ধরবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের দিন ২৫ জানুয়ারি এবার ‘বাকশাল দিবস’ হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ওইদিন দেশব্যাপী সব মহানগর ও জেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ ফসল গণতন্ত্রকে জবাই করে একদলীয় স্বৈরশাসন জারির দিনটিকে ‘বাকশাল দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে। এছাড়া মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন কমিটি ওইদিন সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত দলমতনির্বিশেষে গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

উল্লেখ্য, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিলের খসড়া’য় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে বিলটি পাশের জন্য সংসদে তোলা হবে এবং তা পাশ করে তার অধীনেই আসবে নতুন ইসি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন