উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন
jugantor
আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত আলটিমেটাম শিক্ষার্থীদের
উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন
৩শ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা * যৌক্তিক দাবিতে আ.লীগের সমর্থন

  সিলেট ব্যুরো ও শাবি প্রতিনিধি  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মামলা

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা। আজ বেলা ১২টার মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টায় উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দিনভর এ দাবিতে উত্তাল ছিল শাবি ক্যাম্পাস। এদিকে রোববারের ঘটনায় ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় তাদের (শিক্ষার্থী) বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হামলায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

আইনগতভাবেই মামলা করতে হয়। তবে এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।’ রাতে পুলিশের মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, রোববার রাতে মূলত পুলিশ প্রশাসন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। যার একজন এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এমতাবস্থায় উলটো পুলিশ এখন মামলা করেছে। এটি প্রত্যাহার করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলন স্তিমিত করতেই মামলা করে ভয় দেখানো হচ্ছে।

তবে ভয় পেয়ে আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না তারা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির নেতারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্য পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার সকালে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের সামনে চিঠিটি পাঠ করে শোনান। পরে গোল চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

সেখানে ‘ক্যাম্পাসে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই; যেই ভিসি গ্রেনেড ছোড়ে সেই ভিসির পদত্যাগ চাই; যেই ভিসি ছাত্র মারে সেই ভিসি চাই না; যেই ভিসি গুলি ছোড়ে সেই ভিসির পদত্যাগ চাই- ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা দাবি-উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। যেই উপাচার্য আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে তাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না। আমাদের দাবি মানতে হবে। যতক্ষণ উপাচার্য পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

পুলিশের মামলা : এদিকে রোববার সন্ধ্যার ঘটনায় বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত ২শ-৩শ অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ওই ভবনে ঢুকে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান।

তিনি ভিসিকে ভবন থেকে বের করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা কারও কথা না শুনে স্লোগান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত ২-৩শ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হন।

তারা সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ধরে টানাটানি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন। এছাড়াও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা সেদিন বেলা সোয়া ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা অবধি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থেম থেমে পুলিশের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জানমাল, আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভিসিকে উদ্ধার করা হয়।

আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা সিলেট আওয়ামী লীগের : দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

তারা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সমস্যা সমাধানে সরকার ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে সুরাহার পথ বের করতে বলা হয়েছে।’

বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বলতে আসেন শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর এসব শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তাই শিক্ষকরা সেখানে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। সেখানে সিনিয়র শিক্ষকরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যান।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ : উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। সোমবার রাত পৌনে ১২টায় শিক্ষার্থীদের তিন প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েলের মাধ্যমে ফোনে কথা বলেন।

পরে প্রতিনিধিরা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। তার কাছে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছি। বর্তমান উপাচার্যের অধীনে আমরা একদিনও পড়াশোনা করতে চাই না তাও উল্লেখ করেছি। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওযার কথা জানিয়েছি। দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে সমাবেশ : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল-সমাবেশ করেন। সমাবেশে কলেজের শিক্ষার্থী নাসিম চৌধুরী, আবু সালেহ, দিপাল ভট্টাচার্য, নাঈম আহমেদ শিশির, ইকবাল হোসেন, তাজকিরা হক তাজিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

হবিগঞ্জে সমাবেশ : হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজের বটতলা প্রাঙ্গণে সমাবেশ হয়।

হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মশাল মিছিল : রাবি প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ মার্কেট থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জোহা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাকিলা খাতুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত আলটিমেটাম শিক্ষার্থীদের

উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন

৩শ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা * যৌক্তিক দাবিতে আ.লীগের সমর্থন
 সিলেট ব্যুরো ও শাবি প্রতিনিধি 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মামলা
শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান -যুগান্তর

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা। আজ বেলা ১২টার মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টায় উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দিনভর এ দাবিতে উত্তাল ছিল শাবি ক্যাম্পাস। এদিকে রোববারের ঘটনায় ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় তাদের (শিক্ষার্থী) বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হামলায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।

আইনগতভাবেই মামলা করতে হয়। তবে এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।’ রাতে পুলিশের মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, রোববার রাতে মূলত পুলিশ প্রশাসন দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। যার একজন এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এমতাবস্থায় উলটো পুলিশ এখন মামলা করেছে। এটি প্রত্যাহার করতে হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, আন্দোলন স্তিমিত করতেই মামলা করে ভয় দেখানো হচ্ছে।

তবে ভয় পেয়ে আন্দোলন থেকে সরে যাবেন না তারা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির নেতারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। 

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্য পদত্যাগ দাবিতে মঙ্গলবার সকালে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কাছে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের সামনে চিঠিটি পাঠ করে শোনান। পরে গোল চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

সেখানে ‘ক্যাম্পাসে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই; যেই ভিসি গ্রেনেড ছোড়ে সেই ভিসির পদত্যাগ চাই; যেই ভিসি ছাত্র মারে সেই ভিসি চাই না; যেই ভিসি গুলি ছোড়ে সেই ভিসির পদত্যাগ চাই- ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এক দফা দাবি-উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। যেই উপাচার্য আমাদের ওপর হামলা চালাতে পারে তাকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না। আমাদের দাবি মানতে হবে। যতক্ষণ উপাচার্য পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

পুলিশের মামলা : এদিকে রোববার সন্ধ্যার ঘটনায় বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত ২শ-৩শ অজ্ঞাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ওই ভবনে ঢুকে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান।

তিনি ভিসিকে ভবন থেকে বের করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা কারও কথা না শুনে স্লোগান অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত ২-৩শ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হন।

তারা সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ধরে টানাটানি করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন। এছাড়াও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা সেদিন বেলা সোয়া ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা অবধি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থেম থেমে পুলিশের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জানমাল, আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভিসিকে উদ্ধার করা হয়। 

আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা সিলেট আওয়ামী লীগের : দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।

তারা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। সমস্যা সমাধানে সরকার ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে সুরাহার পথ বের করতে বলা হয়েছে।’

বিকাল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বলতে আসেন শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর এসব শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তাই শিক্ষকরা সেখানে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগের দাবির প্রতি একাত্মতা পোষণের জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। সেখানে সিনিয়র শিক্ষকরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যান। 

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ : উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। সোমবার রাত পৌনে ১২টায় শিক্ষার্থীদের তিন প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েলের মাধ্যমে ফোনে কথা বলেন। 

পরে প্রতিনিধিরা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। তার কাছে আমরা উপাচার্যের পদত্যাগের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছি। বর্তমান উপাচার্যের অধীনে আমরা একদিনও পড়াশোনা করতে চাই না তাও উল্লেখ করেছি। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওযার কথা জানিয়েছি। দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।

হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে সমাবেশ : সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল-সমাবেশ করেন। সমাবেশে কলেজের শিক্ষার্থী নাসিম চৌধুরী, আবু সালেহ, দিপাল ভট্টাচার্য, নাঈম আহমেদ শিশির, ইকবাল হোসেন, তাজকিরা হক তাজিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

হবিগঞ্জে সমাবেশ : হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজের বটতলা প্রাঙ্গণে সমাবেশ হয়। 

হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মশাল মিছিল : রাবি প্রতিনিধি জানান, শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণ মার্কেট থেকে মিছিল শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জোহা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্টের রাবি শাখার আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সাকিলা খাতুন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন