শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে খুলল আলোচনার পথ
jugantor
শাবিতে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন
শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে খুলল আলোচনার পথ
১২ জন হাসপাতালে, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন ৪ জন * হাসপাতালে গিয়েও অনশন ভাঙছেন না শিক্ষার্থীরা * উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনড় তারা

  সিলেট ব্যুরো ও শাবি প্রতিনিধি  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আলোচনায় রাজি হয়েছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে ফোনালাপের পর তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হন। তবে আলোচনা ঢাকায় নয় ভার্চুয়ালি করতে চান তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোচনার পাশাপাশি এক দফা দাবিতে আমাদের অনশন কর্মসূচি চলবে। এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের একজন হাসপাতাল থেকে আবার অনশনস্থলে ফিরে এসেছেন।

এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আন্দোলন নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল হয়। মিছিল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে একজন কিছুটা সুস্থ হলে আবার অনশনস্থলে ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে ১১ জন অনশনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নেব্যুলাইজেশন করা হয়।

আন্দোলনরতদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. নাজমুল হাসান জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা গুরুতর। দ্রুত তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ৫১ ঘণ্টা ধরে কিছু না খাওয়ায় পানিশূন্যতার কারণে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাদের স্যালাইন ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অনশনরতদের মধ্যে আগে থেকেই যারা অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আশরাফুল জানান, হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও অনশন ভাঙানো যাচ্ছে না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, আমাদের একটাই দাবি-উপাচার্যের পদত্যাগ। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। প্রয়োজনে মারা যাব।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আশফাক, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের বাসবভনে তার সঙ্গে আলাপের জন্য যান।

এ সময় শফিউল আলম নাদেল সাংবাদিকদের বলেন, এভাবে অচলাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। আমাদের সন্তানদের এ কষ্ট আমরা মেনে নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা নিয়ে এখানে এসেছি। দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করব। উপাচার্যও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা উপাচার্যের বাসভবন থেকে ফিরে আবার অনশনস্থলে আসেন। বেলা ৩টায় শফিউল আলম চৌধুরীর মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন। তাদের কথোপকথন মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে গণমাধ্যমকর্মীদের শোনানো হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা ভালো থাকবে। তাদের যেন কষ্ট না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও ঠিক থাকবে। আপনারাও ওখানে কষ্ট করছেন এটা দেখছি, অন্যান্য সমস্যা হচ্ছে, সেটাও দেখছি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপার আছে। আমরা তাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আর শিক্ষার্থীরাও কষ্ট পাবেন তাও চাই না। সব সমস্যারই একটা সমাধান আছে। নিশ্চই এ সমস্যারও সমাধান আছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ৪-৫ জন যদি আসেন, শিক্ষক সমিতির নেতারা যদি আসেন তবে আমরা আলাপ করে একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে আসবেন, পরে নিজেদের মধ্যে যেন ঝামেলা না হয়।’

পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া আফরিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। সন্ধ্যার (শুক্রবার) আগেই আমাদের ৭ প্রতিনিধি আলোচনার জন্য নির্বাচন করা হবে। আশা করছি, মন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হলেও আমাদের অনশন যথারীতি চলবে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গণমাধ্যমে কথা বলেন সাদিয়া আফরিন।

তিনি বলেন, ‘অনশনে গুরুতর অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের এভাবে রেখে ঢাকায় যেতে পারি না। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। হতে পারে সেটা ভার্চুয়ালি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই- তিনি সিলেটে এসে এখানকার বর্তমান চিত্র দেখবেন এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর প্রেরিত দূত শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ভার্চুয়ালি আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাই আবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। সরাসরি কথা বলে তাদের ঢাকায় নেওয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করব।’

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংহতি : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শুক্রবার সিলেটে সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। সমাবেশে ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ওপর বুলেট ছোড়েন তার উপাচার্য পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি দীপংকর সরকারের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, রেহনুমা রোবাইয়াত প্রমুখ। তারা শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান। এর আগে কেন্দ্রীয় নেতারা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে দেখতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান।

শাবিতে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন

শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে খুলল আলোচনার পথ

১২ জন হাসপাতালে, শ্বাসকষ্টে ভুগছেন ৪ জন * হাসপাতালে গিয়েও অনশন ভাঙছেন না শিক্ষার্থীরা * উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে অনড় তারা
 সিলেট ব্যুরো ও শাবি প্রতিনিধি 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আলোচনায় রাজি হয়েছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে ফোনালাপের পর তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হন। তবে আলোচনা ঢাকায় নয় ভার্চুয়ালি করতে চান তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আলোচনার পাশাপাশি এক দফা দাবিতে আমাদের অনশন কর্মসূচি চলবে। এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের একজন হাসপাতাল থেকে আবার অনশনস্থলে ফিরে এসেছেন।

এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আন্দোলন নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল হয়। মিছিল থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে একজন কিছুটা সুস্থ হলে আবার অনশনস্থলে ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের সামনে ১১ জন অনশনে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নেব্যুলাইজেশন করা হয়।

আন্দোলনরতদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. নাজমুল হাসান জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থা গুরুতর। দ্রুত তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ৫১ ঘণ্টা ধরে কিছু না খাওয়ায় পানিশূন্যতার কারণে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যাদের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাদের স্যালাইন ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অবস্থা গুরুতর হলে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অনশনরতদের মধ্যে আগে থেকেই যারা অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন তাদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আশরাফুল জানান, হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও অনশন ভাঙানো যাচ্ছে না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার বলেন, আমাদের একটাই দাবি-উপাচার্যের পদত্যাগ। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরছি না। প্রয়োজনে মারা যাব।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আশফাক, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতারা উপাচার্য ফরিদ উদ্দিনের বাসবভনে তার সঙ্গে আলাপের জন্য যান।

এ সময় শফিউল আলম নাদেল সাংবাদিকদের বলেন, এভাবে অচলাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। আমাদের সন্তানদের এ কষ্ট আমরা মেনে নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা নিয়ে এখানে এসেছি। দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করব। উপাচার্যও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা উপাচার্যের বাসভবন থেকে ফিরে আবার অনশনস্থলে আসেন। বেলা ৩টায় শফিউল আলম চৌধুরীর মুঠোফোনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া একজন। তাদের কথোপকথন মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে গণমাধ্যমকর্মীদের শোনানো হয়।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা ভালো থাকবে। তাদের যেন কষ্ট না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও ঠিক থাকবে। আপনারাও ওখানে কষ্ট করছেন এটা দেখছি, অন্যান্য সমস্যা হচ্ছে, সেটাও দেখছি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপার আছে। আমরা তাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে চাই না। আর শিক্ষার্থীরাও কষ্ট পাবেন তাও চাই না। সব সমস্যারই একটা সমাধান আছে। নিশ্চই এ সমস্যারও সমাধান আছে। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ৪-৫ জন যদি আসেন, শিক্ষক সমিতির নেতারা যদি আসেন তবে আমরা আলাপ করে একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে আসবেন, পরে নিজেদের মধ্যে যেন ঝামেলা না হয়।’

পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে সাদিয়া আফরিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। সন্ধ্যার (শুক্রবার) আগেই আমাদের ৭ প্রতিনিধি আলোচনার জন্য নির্বাচন করা হবে। আশা করছি, মন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হলেও আমাদের অনশন যথারীতি চলবে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও গণমাধ্যমে কথা বলেন সাদিয়া আফরিন।

তিনি বলেন, ‘অনশনে গুরুতর অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীদের এভাবে রেখে ঢাকায় যেতে পারি না। তবে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। হতে পারে সেটা ভার্চুয়ালি। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই- তিনি সিলেটে এসে এখানকার বর্তমান চিত্র দেখবেন এবং আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর প্রেরিত দূত শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ভার্চুয়ালি আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাই আবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। সরাসরি কথা বলে তাদের ঢাকায় নেওয়া যায় কিনা সে চেষ্টা করব।’

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংহতি : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শুক্রবার সিলেটে সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। সমাবেশে ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ওপর বুলেট ছোড়েন তার উপাচার্য পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি দীপংকর সরকারের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নগর সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ শাহরিয়ার, রেহনুমা রোবাইয়াত প্রমুখ। তারা শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান। এর আগে কেন্দ্রীয় নেতারা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে দেখতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন