শনাক্ত ২৮ শতাংশ ছাড়াল
jugantor
করোনা মহামারি
শনাক্ত ২৮ শতাংশ ছাড়াল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। যা গত বছরের ৪ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ৪০।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে গত বছরের জুলাই মাসে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ৩২-শে উঠেছিল। তবে ডিসেম্বরে তা ২ শতাংশের নিচে নেমে আসে। কিন্তু জানুয়ারির শুরু থেকে সংক্রমণের হার হু-হু করে বাড়তে শুরু করে। মহামারির মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮২। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৯।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সোয়া ৪০ হাজারের বেশি পরীক্ষা করে ১১ হাজার ৪৩৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই সময়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য বলছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আর শনাক্তের হারে বাংলাদেশ ফিরে গেল ২৫ সপ্তাহ আগের পর্যায়ে। একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ গত বছরের ৯ আগস্ট। সেদিন ১১ হাজার ৪৬৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

বৃহস্পতিবার ১০ হাজার ৮৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে হিসাবে গত একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৪৫ জন বা ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

চলতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিনও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারশর নিচে। ৬ জানুয়ারি তা হাজার ছাড়ায়। ১৬ জানুয়ারি পেরিয়ে যায় ৫ হাজারের ঘর। এর মাত্র চার দিন পর ২০ জানুয়ারি তা দ্বিগুণ হয়। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৭৫২ জন।

তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন সুস্থ হলেন। এই হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৬ জন। অর্থাৎ এই সংখ্যক রোগী নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ১৫৭ জন। ১৫ জানুয়ারি ছিল ৩১ হাজার ৭৫৩ জন হয়। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে সক্রিয় রোগী বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

গত একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৬১ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৯ শতাংশের বেশি। এ বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৭২৯৬ জন, গাজীপুরে ১১৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৮৩ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১০১৭ জন, কক্সবাজারে ১২০ জন, কুমিল্লায় ১০৪ জন, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় ১৬০ জন, বগুড়ায় ১১১ জন, খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় ১২৬ জন, যাশোরে ১২৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সিলেট জেলায় ২৯৯ জন এবং ময়মনসিংহে ১৬১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে গত এক দিনে।

অন্যদিকে যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে-তাদের সাতজন পুরুষ, পাঁচজন নারী। এর মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। গত একদিনে মারা যাওয়াদের মধ্যে সাতজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তিনজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এ বছর ১২ জানুয়ারি তা ১৬ লাখ পেরিয়ে যায়। তার আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বছর ৫ ডিসেম্বর কোভিডে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার আগে ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

করোনা মহামারি

শনাক্ত ২৮ শতাংশ ছাড়াল

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছে। যা গত বছরের ৪ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ৪০।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে গত বছরের জুলাই মাসে দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ৩২-শে উঠেছিল। তবে ডিসেম্বরে তা ২ শতাংশের নিচে নেমে আসে। কিন্তু জানুয়ারির শুরু থেকে সংক্রমণের হার হু-হু করে বাড়তে শুরু করে। মহামারির মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮২। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৯।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সোয়া ৪০ হাজারের বেশি পরীক্ষা করে ১১ হাজার ৪৩৪ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এই সময়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য বলছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আর শনাক্তের হারে বাংলাদেশ ফিরে গেল ২৫ সপ্তাহ আগের পর্যায়ে। একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ গত বছরের ৯ আগস্ট। সেদিন ১১ হাজার ৪৬৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

বৃহস্পতিবার ১০ হাজার ৮৮৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে হিসাবে গত একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৪৫ জন বা ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ।

চলতি বছর জানুয়ারির প্রথম দিনও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারশর নিচে। ৬ জানুয়ারি তা হাজার ছাড়ায়। ১৬ জানুয়ারি পেরিয়ে যায় ৫ হাজারের ঘর। এর মাত্র চার দিন পর ২০ জানুয়ারি তা দ্বিগুণ হয়। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৭৫২ জন।

তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন সুস্থ হলেন। এই হিসাবে দেশে এখন সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৬ জন। অর্থাৎ এই সংখ্যক রোগী নিশ্চিতভাবে সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার ১৫৭ জন। ১৫ জানুয়ারি ছিল ৩১ হাজার ৭৫৩ জন হয়। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে সক্রিয় রোগী বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

গত একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৬১ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৯ শতাংশের বেশি। এ বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৭২৯৬ জন, গাজীপুরে ১১৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৮৩ জনের কোভিড শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১০১৭ জন, কক্সবাজারে ১২০ জন, কুমিল্লায় ১০৪ জন, রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় ১৬০ জন, বগুড়ায় ১১১ জন, খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় ১২৬ জন, যাশোরে ১২৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। সিলেট জেলায় ২৯৯ জন এবং ময়মনসিংহে ১৬১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে গত এক দিনে।

অন্যদিকে যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে-তাদের সাতজন পুরুষ, পাঁচজন নারী। এর মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের। দুজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। গত একদিনে মারা যাওয়াদের মধ্যে সাতজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তিনজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। এ বছর ১২ জানুয়ারি তা ১৬ লাখ পেরিয়ে যায়। তার আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত বছরের ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বছর ৫ ডিসেম্বর কোভিডে মোট মৃত্যু ২৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তার আগে ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে এক দিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন