২৫ মে শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠক

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ফয়সালা শান্তিনিকেতনে

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে কী না তা রবিঠাকুরের কর্মভূমি শান্তিনিকেতনেই মোদি-হাসিনা একান্ত বৈঠকে চূড়ান্ত হবে। আগামী শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর দুই নেতার মধ্যে ২০ মিনিটের একান্ত বৈঠকে জঙ্গি নাশকতা নিয়ে ভারতীয় সাহায্যের পাশাপাশি তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও আলোচনা হবে।

২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মনমোহন সিংয়ের সফরে যে পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বেঁকে বসায় শেষমুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। তবে সোমবার পর্যন্ত কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় সূত্রে খবর, বিশ্বভারতী ও বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের তরফে আমন্ত্রণ জানালেও শান্তিনিকেতনে মমতা আসছেন না। তবে শেষ মুহূর্তে স্বয়ং শেখ হাসিনা যদি ফোন করে আসতে বলেন, তাহলে হয়তো আসতেও পারেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কর্মভূমি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে। আট বছর পর হবে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন। তাই যতই সময় এগিয়ে আসছে ততই উত্তেজনার পারদ বাড়ছে বাউলদের চারণভূমি শান্তিনিকেতনে।

বিশেষ করে বাঙালির গর্ব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যার বাঙালির শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথের কর্মক্ষেত্রে আসা নিয়ে উন্মাদনা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। কারণ বিশ্বভারতীতে স্বয়ং হাসিনার উদ্যোগেই ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ হয়েছে।

মূলত সেই ভবন উদ্বোধনেই ২৫ মে হাসিনা বিশ্বভারতীতে আসছেন। পরদিন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিলিট দেবে। বিশ্বভারতী ও আসানসোল, দুই অনুষ্ঠানেই মমতাকে উপস্থিত থাকতে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকেও বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

কারণ হাসিনার সঙ্গে মমতার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই নেত্রীর উদ্যোগে দুই বাংলা, দুই দেশ গত সাত বছর আরও কাছে এসেছে, যোগাযোগ আরও বেড়েছে। তাই এবার কলকাতা এসে ৪৮ ঘণ্টার সফরে আলাদা করে মমতার সঙ্গেও কথা বলতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা। আসানসোল থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্রের বাড়ি তথা মিউজিয়াম নেতাজি ভবন এবং জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ী যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দু’দুটি অনুষ্ঠানে থাকার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও বৈঠক হবে শেখ হাসিনার। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে আসছেন তিনি। আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর ছাড়াও হাসিনার দুই উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও গহর রিজভি।

এদিকে নানা কারণে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকার পাশাপাশি উদ্বিগ্ন দিল্লিও। ঢাকা থেকে আসা হাসিনার নিরাপত্তারক্ষীদের টিম ইতিমধ্যে শান্তিনিকেতন ও কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেল ঘুরে দেখেছে। পরিদর্শন করেছে সমাবর্তনস্থল আম্রকুঞ্জও। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন লাগোয়া যে রথীন্দ্র গৃহে ২০ মিনিটের একান্ত বৈঠকে মোদি-হাসিনা বসবেন সেটিও দেখেছেন।

শেষবার হাসিনা কলকাতায় এসেছিলেন ৮ বছর আগে। প্রয়াত জ্যোতি বসুর শেষকৃত্যে এসে ঘণ্টাদুয়েক ছিলেন। তার আগে ১৯৯৯ সালে কলকাতায় এসেছিলেন একদিন। কিন্তু এবার আসছেন দু’দিনের জন্য। এবার কলকাতায় হাসিনার সঙ্গে আসছেন বোন শেখ রেহানাও। প্রতিনিধি দলে থাকছেন সংসদ সদস্য শেখ হেলাল ছাড়াও ড. আনিসুজ্জামান, নজরুল গবেষক ড. রফিকুল ইসলাম এবং চিত্রশিল্পী হাসেম খান।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.