একদিনে শনাক্ত ১৫ হাজারের বেশি ১৫ মৃত্যু
jugantor
করোনা সংক্রমণ
একদিনে শনাক্ত ১৫ হাজারের বেশি ১৫ মৃত্যু

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখীর ধারায় গত তিন দিন ১৫ হাজার করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮০৭ জন। এদিন মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এর আগে মঙ্গলবার ১৬ হাজার ৬৬ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল, যা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর বুধবার ১৫ হাজার ৫২৭ জন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বছরের শেষের দিকে ডেল্টার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। ডিসেম্বরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছিল ২০০ থেকে ৩০০-এর ঘরে। শনাক্তের হার নেমে এসেছিল ২ শতাংশের নিচে। কিন্তু বিশ্বে করোনার অতি সংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার শুরুর পর জানুয়ারির শুরু থেকে বাংলাদেশেরও আবার দ্রুত উঠতে থাকে সংক্রমণের চিত্র। জানুয়ারির প্রথম দিনও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারশর নিচে। এখন তা ১৫ হাজারের বেশি থাকছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারও থাকছে ৩০ শতাংশের ওপরে।

বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। মহামারির মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছরের ২৪ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর ২০২০ সালের ১২ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯ হাজার ৭৬৯ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের ৬১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আগের দিনও এ বিভাগে ৯ হাজার ৪৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ছিল দিনের মোট শনাক্তের ৬০ শতাংশের বেশি। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৮ হাজার ৪৯৩ জন, গাজীপুরে ২৪২ জন, কিশোরগঞ্জে ১১৯ জন, নারায়ণগঞ্জে ২২১ জন এবং নরসিংদীতে ১৫২ জন এবং টাঙ্গাইলে ১৩৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১১২৭ জন, কক্সবাজারে ২৬৫ জন, নোয়াখালীতে ১০৯, চাঁদপুরে ১২৩ জন এবং কুমিল্লায় ২৪১ জন; রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় ৩১০ জন, পাবনায় ১৮৯ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩৫ জন, বগুড়ায় ২১০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত এক দিনে খুলনা বিভাগে খুলনা জেলায় ২৮০ জন, যশোরে ২০৪ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় ৫২০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪২ জন; বরিশাল জেলায় ১৩৪ জন, রংপুর জেলায় ১০১ জন এবং ময়মনসিংহে ২৬১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

আর যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১০ জন নারী। তাদের মধ্যে আটজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের দুজন জন, বরিশাল বিভাগে একজন এবং রংপুর বিভাগের একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, চারজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

করোনা সংক্রমণ

একদিনে শনাক্ত ১৫ হাজারের বেশি ১৫ মৃত্যু

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শনাক্ত
ঢাকার মাতুয়াইল হাসপাতালে বৃহস্পতিবার করোনা টিকা গ্রহণের জন্য পরিবহণ শ্রমিকদের দীর্ঘ সারি -যুগান্তর

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখীর ধারায় গত তিন দিন ১৫ হাজার করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৮০৭ জন। এদিন মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এর আগে মঙ্গলবার ১৬ হাজার ৬৬ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল, যা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর বুধবার ১৫ হাজার ৫২৭ জন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত বছরের শেষের দিকে ডেল্টার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। ডিসেম্বরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছিল ২০০ থেকে ৩০০-এর ঘরে। শনাক্তের হার নেমে এসেছিল ২ শতাংশের নিচে। কিন্তু বিশ্বে করোনার অতি সংক্রামক নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার শুরুর পর জানুয়ারির শুরু থেকে বাংলাদেশেরও আবার দ্রুত উঠতে থাকে সংক্রমণের চিত্র। জানুয়ারির প্রথম দিনও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল চারশর নিচে। এখন তা ১৫ হাজারের বেশি থাকছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হারও থাকছে ৩০ শতাংশের ওপরে।

বৃহস্পতিবার শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। মহামারির মধ্যে সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছরের ২৪ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর ২০২০ সালের ১২ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, গত এক দিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯ হাজার ৭৬৯ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। যা মোট আক্রান্তের ৬১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আগের দিনও এ বিভাগে ৯ হাজার ৪৫৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা ছিল দিনের মোট শনাক্তের ৬০ শতাংশের বেশি। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ৮ হাজার ৪৯৩ জন, গাজীপুরে ২৪২ জন, কিশোরগঞ্জে ১১৯ জন, নারায়ণগঞ্জে ২২১ জন এবং নরসিংদীতে ১৫২ জন এবং টাঙ্গাইলে ১৩৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১১২৭ জন, কক্সবাজারে ২৬৫ জন, নোয়াখালীতে ১০৯, চাঁদপুরে ১২৩ জন এবং কুমিল্লায় ২৪১ জন; রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলায় ৩১০ জন, পাবনায় ১৮৯ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩৫ জন, বগুড়ায় ২১০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত এক দিনে খুলনা বিভাগে খুলনা জেলায় ২৮০ জন, যশোরে ২০৪ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় ৫২০ জন, মৌলভীবাজারে ১৪২ জন; বরিশাল জেলায় ১৩৪ জন, রংপুর জেলায় ১০১ জন এবং ময়মনসিংহে ২৬১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

আর যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১০ জন নারী। তাদের মধ্যে আটজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের দুজন জন, বরিশাল বিভাগে একজন এবং রংপুর বিভাগের একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, চারজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, দুজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন