সারা দেশে মাদকবিরোধী ক্রাশ প্রোগ্রাম

টার্গেট টপ টেন

জেলাওয়ারি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা এখন অপারেশন টিমের হাতে, আছে বহুল আলোচিত বদির নামও

  তোহুর আহমদ ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টার্গেট টপ টেন
র‌্যাব

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে এবার যুক্ত হচ্ছে ‘টপ টেন লিস্ট’। জেলাভিত্তিক শীর্ষ গডফাদারদের এ তালিকা ধরে এরই মধ্যে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স ক্রাশপ্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে। যেখানে দেশজুড়ে ৬৫০ বিগ শটের নাম উঠে এসেছে। গ্রেফতার অভিযানে এরই মধ্যে কয়েকজন ক্রসফায়ারে মারাও গেছে।

বলা হচ্ছে, এরা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, এদের অনেকের কাছে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অস্ত্রও আছে, যার প্রমাণ মিলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময়। গ্রেফতার অভিযানের সময় এরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রীতিমতো বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এবারের উচ্চমাত্রার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে কারও কোনো রাজনৈতিক বিশেষ পরিচিতিও বিবেচনায় নেয়া হবে না।

সূত্র জানায়, মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক থেকে ক্রাশপ্রোগ্রাম নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয়, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে যে মাত্রার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, এক্ষেত্রেও সেটিই করা হবে। কেননা জঙ্গিবাদ আর মাদক সমাজে একইভাবে ক্ষতি করছে। এজন্য র‌্যাবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়।

টপ টেন লিস্ট : জেলাওয়ারি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নাম-ঠিকানা সংবলিত ৭১ পৃষ্ঠার গোপনীয় তালিকার পূর্ণাঙ্গ একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। তালিকায় স্থান পেয়েছে প্রতিটি জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর নাম।

এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকার মতো বড় এলাকাকে শহর ও জেলা- এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এরপর শহর (মেট্রো) থেকে ১০ জন এবং জেলা থেকে ১০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা, মামলার সংখ্যা, ব্যবসার ধরন এবং কারও কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুঠোফোনসহ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার প্রথমেই যার নাম আছে, তিনি হলেন আলোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ইয়াবা ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায় সরাসরি জড়িত হন না তিনি। তবে তার ইচ্ছার বাইরে বা অজান্তে এ ব্যবসা প্রায় অসম্ভব।

তালিকার ২ নম্বরে আছেন কক্সবাজারের শিল্পপতি হিসেবে পরিচিত হাজী সাইফুল করিমের নাম। তার স্থায়ী ঠিকানা শীলবুনিয়াপাড়া, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। তবে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করেন। চট্টগ্রামেই তার গার্মেন্ট, আমদানি-রফতানি, কার্গো ও জাহাজের ব্যবসা রয়েছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে তালিকাভুক্ত ১০ জনের মধ্যে এক ও দুই নম্বরে আছেন যথাক্রমে মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জু সওদাগর ওরফে কানা মঞ্জু ও রেজাউল করিম ওরফে ডাইল করিমের নাম।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম শহরের একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান ইয়াবা চোরাকারবারি। তার বাবার নাম হাজী আবদুল করিম। গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া থানার রূপকানিয়ায়। চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দীন বাজারে ফলের গলিতে তার ইয়াবার পাইকারি মোকাম রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, ব্যক্তিগত পাজেরো গাড়িতে পাচারের সময় প্রায় ৮ লাখ ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে মঞ্জু বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি। চট্টগ্রাম শহরেই তার অন্তত ৫টি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, মার্কেট ও ৩টি বাড়ি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার সংখ্যা প্রায় ১৫টি। তালিকার ২ নম্বরে থাকা রেজাউল করিমও ইয়াবার বড় মাপের পাইকারি বিক্রেতা ও গডফাদার। তার বাবার নাম মৃত জানে আলম। হালিশহরের ছোট পুল দফাদার বাড়ি এলাকায় তিনি বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। রেজাউল কমির চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রাম জেলার শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে এক নম্বরে থাকা মমতাজ ওরফে ফারুক এরই মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে মারা পড়েছেন। তিনি বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট বলে পরিচিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, ফারুক ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পরদিনই বরিশাল কলোনির আরেক গডফাদার ইউসুফ ভারতে পালিয়ে যান। তবে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি গত মাসে কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন সেখানকার কারাগারে বন্দি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক নম্বরে আছেন রতন মিয়া। বাবার নাম মৃত বাদল মিয়া। আশুগঞ্জ থানার শরীয়তনগর চারতলা এলাকায় বসবাস করেন তিনি। জেলার অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত রতন মিয়াকে স্থানীয়রা একজন হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী হিসেবেই চেনেন। রেলগেট এলাকায় তার ধানসিঁড়ি নামের একটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রধান মাদকপ্রবণ এলাকা কুমিল্লার এক নম্বর মাদক ব্যবসায়ী হলেন গঙ্গানগর মহল্লার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে আবুল হোসেন। তিনি মূলত গাঁজা ব্যবসায়ী। তার নামে ৪টি মাদক মামলা আছে। সালদানদী রেলস্টেশনের পাশে তার বাড়ি। রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেন। তিনি থাকেন কুমিল্লার ভারতীয় সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি। গ্রেফতার করতে গেলেই তিনি ভারতে চলে যান।

তালিকার দু’নম্বরে আছে হূমায়ন মেম্বারের নাম। তার বাবা মৃত শরাফত আলী। বুড়িচং থানার চড়ানল এলাকায় তার বাড়ি। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। নিজস্ব বেতনভুক্ত কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জায়গায় হোম সার্ভিসে মাদক ব্যবসা করেন।

লক্ষ্মীপুরের শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে প্রথমে আছেন রিপন হোসেন ওরফে রিংকু। বাবা বাদশা মিয়া। গ্রাম- টুমচর, সদর থানা। দ্বিতীয় নামটি হল স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার ইব্রাহিম মজুমদারের। তার বাবা মৃত মিছির আলী। রামগঞ্জ থানার সোনাপুর বাঘরদিয়া হবিসভা এলাকায় তার বাড়ি।

নোয়াখালীর এক নম্বর মাদক ব্যবসায়ীর নাম রফিকুল হাসান ওরফে রুশো। তার বাবা নুর মোহাম্মদ। সদর থানার হরিনারায়ণপুর (জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজ) গ্রামে তার বাড়ি। পরের অবস্থানে আছে সোনাইমুড়ি উপজেলার ভানুয়াই এলাকার হাসানের নাম।

শেরপুর জেলার মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় এক নম্বরে থাকা মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, ষড়যন্ত্র করে তার নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি একসময় নেশার জগতে জড়িয়ে গিয়েছিলাম। এখন ভালো হয়ে গেছি। তারপরও আমাকে বারবার জেলে পাঠানো হয়। এখন পর্যন্ত কতবার জেলে গেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বেশি না ১০/১৫ বার।’

গোপালগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী টুটুল হোসেন খানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ভালো হয়ে গেছি। ব্যবসা করতে গিয়ে একটা মার্ডার কেসও খাইলাম। পাঁচবার জেল খেটে জীবনটাই শেষ।’

ফেনীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত সরোয়ার হোসেন মুঠোফোনে যুগান্তরকে জানান, তিনি ফেনী পৌর যুবলীগের ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক গ্র“পিংয়ের কারণে তাকে মাদক ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে।’ অতীতে কখনও মাদক ব্যবসা করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা অনেক আগের কথা। এখন সব ছেড়ে দিয়েছি।’

চাঁদপুরের দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হলেন যথাক্রমে বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডের নবী হোসেন মিজির ছেলে সবুজ মিজি ও পশ্চিম মদনা এলাকার আবু জমাদারের ছেলে কবির জমাদার।

ফেনী শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে এক নম্বরে আছেন মির্জাবাড়ি, ধলিয়া এলাকার রসুল আহমদ বলী। তার বাবার নাম আবুল হোসেন। আলিয়া এলাকায় তিনি ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার আস্তানা গড়ে তুলেছেন। তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে আছেন বিরিঞ্চি এলাকার সৈয়দ ড্রাইভারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে সবুজ। তিনি ফেনী সদরের লেমুয়া এলাকায় মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তিনি হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে সূত্র।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান মাদক বিপণন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্পের মাদক গডফাদার ইসতিয়াক ওরফে কামরুল হাসান আছেন শীর্ষ ১০ তালিকার এক নম্বরে। অনুসন্ধানে তার তিনটি ঠিকানা পাওয়া যায়। প্রথম ঠিকানাটি জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ১৬২ নম্বর বাসা। দ্বিতীয় ঠিকানা সভারের মাদ্রাসা রোডের জাদুরচর ঈশিকা ভবন। তার তৃতীয় ঠিকানা হচ্ছে আশুলিয়া ব্যারন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ১০/এ নম্বর প্লটের ৬ তলা বাড়ি।

সূত্র জানায়, ইসতিয়াক দেশে থাকেন কম। বছরের বেশিরভাগ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে তিনি সেকেন্ড হোম করেছেন। মালয়েশিয়ায় তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ইসতিয়াক পরিচিত। তালিকার ২ নম্বরে আছেন মোস্ট ওয়ানটেড মাদক ব্যবসায়ী নাদিম ওরফে পশ্চিম। তিনিও মূলত জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত আনোয়ার হোসেন। জেনেভা ক্যাম্পের বি-ব্লকের ১৬৯ নম্বর বাসায় থাকেন তিনি। মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু ৩ মাসের বেশি তাকে জেলখানায় আটকে রাখা যায়নি।

ঢাকা জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকার এক নম্বরে আছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিম আগানগর এলাকার মৃত রমজান মিয়ার ছেলে মামুন। তিনি মূলত ইয়াবা ও ফেনসিডিলের পাইকারি বিক্রেতা। পুরো কেরানীগঞ্জেই তার নেটওয়ার্ক রয়েছে। তালিকার দুই নম্বরে আছেন ধামরাই বাউখণ্ড এলাকার আবদুল বাসেতের ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আজিজ মিয়া। তিনি ইয়াবার সঙ্গে হেরোইনের পাইকারি ডিলার।

গাজীপুরের শীর্ষ দু’জন মাদক ব্যবসায়ী হলেন যথাক্রমে বাচ্চু, বাবা আশ্রাফ আলী। অপরজন হলেন আব্বাস উদ্দীনের ছেলে স্বপন। দু’জনেই থাকেন টঙ্গী থানার হাজীর মাজার বস্তি এলাকায়। তারা দু’জন মাদক বিক্রির পাশাপাশি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করেন।

কিশোরগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত ১০ জনের মধ্যে প্রথমে আছে খায়রুনন্নেসা ওরফে খায়রুনী নামের এক নারীর নাম। তার স্বামীর নাম মানিক মিয়া। কিশোরগঞ্জ সদরের যশোদল ও কলাপাড়ায় তিনি ব্যবসা করেন। এ নারী মূলত কিশোরগঞ্জের শীর্ষ ইয়াবা সম্রাঙ্গী হিসেবে পরিচিত। তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে মাদক গডফাদার হিসেবে ভৈরব কালিকা প্রসাদ গ্রামের হাছেন আলী মৃধার ছেলে মামুনের নাম আছে।

মাদারীপুরে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন সদর থানার পানিছত্রা গ্রামের মৃত খোকা ফকিরের ছেলে সায়মন ফকির। তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া আমিরাবাদ গ্রামের মৃত কালা চাঁদ দাসের ছেলে রজত দাসও ইয়াবা পাইকারি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। গোপালগঞ্জের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে এক নম্বরে আছেন টুটুল হোসেন খান। তার বাবার নাম আবদুল মালেক খান। ঠিকানা লায়েকের মোড় মিয়াপাড়ার ২৫২ নম্বর হোল্ডিং। দু’নম্বরে আছেন লাকি বেগম। তার স্বামীর নাম সিরাজুল ইসলাম। পূর্ব মিয়ারপাড়ার ২৬১ নম্বর হোল্ডিংয়ে তিনি থাকেন। তারা দু’জনেই ইয়াবার পাইকারি বিক্রেতা।

শরীয়তপুরের শীর্ষ দুই মাদক ব্যবসায়ী হলেন নড়িয়া থানার আনাখন্ড গ্রামের ইসমাইল কাজীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন কাজী ও ডামুড্যা থানার কুতুবপুর গ্রামের সজীব পেদা। তাদের মধ্যে গিয়াস উদ্দীনের ব্যবসা ইয়াবা এবং সজীব পেদা গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

নরসিংদীর সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ীর নাম ইলিয়াস মিয়া ওরফে ডাকু ইলিয়াস। তার বাবার নাম হাজী ফজলুর রহমান। বাড়ি দাসপাড়া এলাকায়। তালিকায় এর পরের অবস্থানে মাধবদী খালপাড়ের বাসিন্দা কুখ্যাত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী নাসিরের নাম। তার বাবা মৃত নওয়াব আলী।

নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় থাকেন। তার বাড়ি রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায়। বন্দর থানার মদনপুর গোকুল দাসেরবাগ এলাকার কবীর মোবাইল ফোনে ইয়াবার কারবার চালাচ্ছেন দীর্ঘদিন।

ফরিদপুরের শীর্ষ ইয়াবা ও ফেনসিডিলের কারবারির নাম ফাইসুর ওরফে পাভেল। কমলাপুর কলেজ গেট কুঠিবাড়ি এলাকায় থাকেন তিনি। তার বাবার নাম মৃত এমদাদ হোসেন। সদর থানার গুহলক্ষ্মীপুর বস্তির সামর্থ্য বেগমের নাম রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে।

রাজবাড়ি জেলার এক নম্বর মাদক ব্যবসায়ী হলেন আনিচুর রহমান সেলিম ওরফে চাচা সেলিম। তার বাবার নাম নরুল হোসেন খান। সদর থানার পূর্ব সজ্জনকান্দা (সেগুনবাগান) এলাকায় বাস করেন তিনি।

এছাড়া নবগ্রামের (পিচরিয়া) মৃত রিফাত আলী মণ্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর মণ্ডল আছেন তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে। টাঙ্গাইলের ইয়াবা ডন হিসেবে পরিচিত মোস্তফা কামাল জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের পাইকারি ইয়াবা ব্যবসায়ী আরিফ আছেন তালিকার এক নম্বরে। দ্বিতীয় নম্বরে আছেন মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মোফাজ্জল হোসেন।

মানিকগঞ্জের শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে এক নম্বরে আছে সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামের মৃত সাইজুদ্দিনের ছেলে তালুক মিয়া। তার পরেই আছে সুইচগেট বান্দটিয়া গ্রামের বাবুল ব্যাপারির ছেলে সোহেল। ময়মনসিংহ জেলায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় এক নম্বরে নাম আছে পুরাতন রেলকলোনি কেওয়াটখালী এলাকার সৈয়দ আলী। তার পরেই আছে আদর্শ কলোনি বাগানবাড়ির রুনু বেগম। এর মধ্যে সৈয়দ আলীর গাঁজা ব্যবসা দীর্ঘদিনের।

পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতেও ইয়াবার ভয়ংকর আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে। রাঙ্গামাটির শীর্ষ ১০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকার এক নম্বরে আছেন মঞ্জুয়ারা বেগম। তার স্বামী আবদুল আজিজ। কোতোয়ালি থানার কামিলাছড়ি ফরেস্ট কলোনিতে তিনি বসবাস করেন। খাগড়াছড়ির এক নম্বর মাদক ব্যবসায়ী সাজু মিয়া। ইয়াবা ও হেরোইনের পাইকারি ডিলার তিনি। সদর থানার মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় থাকেন তিনি।

SELECT id,hl2,parent_cat_id,entry_time,tmp_photo FROM news WHERE ((spc_tags REGEXP '.*"event";s:[0-9]+:"মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮".*')) AND id<>51680 ORDER BY id DESC

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.