আনুগত্যশীল হয়ে ওঠেন সায়েম

  হাফেজ মুফতি আহসান শরিফ ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইবাদত হচ্ছে আনুগত্য এবং মান্য করার রেওয়াজ। সিয়াম আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আনুগত্যের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ পান। নির্ধারিত সময়ের পর ইচ্ছা হলেও আর খাবেন না তিনি। কেউ না দেখলেও খাবেন না। কেউ জোর করে খাইয়ে দিতে চাইলেও না। নিজ হাতে কামাই করা হালাল উপার্জনে কেনা খাবার সামনে পড়ে থাকবে, সায়েম চেয়েও দেখবেন না। কারণ, আল্লাহ নিষেধ করেছেন। সেই সঙ্গে আল্লাহ অন্য যেসব আদেশ দিয়েছেন তা প্রতিপালন করবেন। বৈধ কাজ করবেন, অবৈধ কাজ ছাড়বেন। মন যা চাইবে তা করলে আর যাই হোক সিয়াম ইবাদত হবে না।

আল্লাহ ইরশাদ করেন- রাসুল (সা.) তোমাদের যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। (সুরা হাশর : আয়াত :০৭)। নবীজি (সা.) ভোররাতে সেহরি খেতেন। সাহাবিদের সেহরি খেতে বলতেন। উম্মতের জন্য সেহরি খাওয়া নবীজির সুন্নত। সাহাবায়ে কেরামও গুরুত্বের সঙ্গে আমলটি করেছেন। আমরা সেহরি খাব। নবীজির আনুগত্যের জন্যই সেহরি খাব। ক্ষুধা না থাকলেও সুন্নতের নিয়তে সেহরি খাব। খাবার খেতে ইচ্ছা না হলে সুন্নত পালনের জন্য একটু পানি হলেও খেতে হবে। সেহরি না খেলে সারা দিন কষ্ট হবে- এজন্য নয়, বরং সেহরি খাওয়া নবীজির সুন্নত- এজন্যই খাব। কেননা হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও। সেহরিতে বরকত রয়েছে। (বোখারি, হাদিস নং : ১৮৮৪)।

এছাড়া সেহরি খেলে আল্লাহর রহমত এবং ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যায়। নবীজি (সা.) বলেন, যারা সেহরি খায়, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের রহমত দান করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য দিনভর রহমতের দোয়া করেন। (তিবরানি ও ইবনে হিব্বান)।

সেহরি খেলে আল্লাহর রহমত এবং ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যাবে, এ নিয়তে সেহরি খেতে হবে। সুন্নতের নিয়তে খেলেও কিন্তু পেট ভরবে। তবে পেট ভরার নিয়তে খেলে সুন্নত আদায় হবে না। রহমত, বরকত ও ফেরেশতাদের দোয়া পাওয়া যাবে না। এজন্য সুন্নতের নিয়তে খেলে সেহরির সুন্নতও আদায় হবে, বেঁচে থাকার প্রয়োজন মিটবে। শরীর-স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে। এমাসে আমরা সবকিছু ধর্মমতে করার চেষ্টা করব, তবেই আমাদের শুদ্ধ সিয়াম হবে।

সেহরি খাওয়া যাবে সেহরির সময় থাকা পর্যন্ত। রোজার নিয়ত হয়ে গেলেও সময় বাকি থাকলে আবার খাওয়া যাবে। নিয়ত করে ফেলেছি, এখন আর খাওয়া যাবে না- এ ধারণা ঠিক নয়। আগে সেহরি খাওয়া হয়ে গেলে শেষ সময়ে একটু পানি, দুধ বা অন্য কিছু খেয়ে হাদিসের ওপর আমল করার চেষ্টা করলেও সওয়াব মিলবে।

প্রিয় পাঠক, সেহরি খাওয়া সুন্নত, এজন্য তিনবেলার খাবার একবেলা খেয়ে ফেলতে হবে- এমন আদেশ বা পরামর্শ কিন্তু কেউ দেয়নি। রোজাদারের জন্য পেটপুরে খাওয়া জায়েজ। তাই বলে সব খাবার আপনি একাই খাবেন- এমনটি রোজার জন্য ক্ষতিকর? এখানেও গরিব, অসহায় মানুষের প্রতি খেয়াল রাখা সিয়ামের শিক্ষা। সামর্থ্যবানরা প্রতিদিন অন্তত একজন গরিব মানুষের জন্য সেহরি খাবারের ব্যবস্থা করলে এ দেশের অসহায় মানুষগুলো ভালো কিছু খেতে পাবে। সিয়ামের আলো পৌঁছে যাবে ঘরে ঘরে। রমজানের এ আমল চলতে থাকুক বারো মাস। তাহলেই সিয়াম সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের গরিবদের প্রতি খেয়াল করার তৌফিক দিন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল বালাগ ঢাকা

ই-মেইল : [email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×