‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ জেলায় নিহত ১১

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে কুমিল্লায় ২, চট্টগ্রামে ১, নীলফামারীতে ২, নারায়ণগঞ্জে ১, দিনাজপুরে ১, চুয়াডঙ্গায় ১, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় ১, ফেনীতে ১ এবং নেত্রকোনায় ১ জন নিহত হয়। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব নিহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ী বা পাচারকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ করেছে। আত্মরক্ষার্থে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তারা নিহত হয়। উল্লেখ্য, এ নিয়ে ৮ দিনে বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩৮ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হল। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন ডেবারপাড় জামতলা বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি ওয়ান শুটারগান, ৩ রাউন্ড গুলি এবং ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে। নিহত শুক্কুর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানা এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। থাকত নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার আলী নামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী অরন্যপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ সেলিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে এবং শরীফ সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ ১৩টি ও শরীফের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।

একই রাতে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাদ্দাম হোসেন (২৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আহত হয়। এ সময় পুলিশ আহত সাদ্দাম এবং মোখলেছ (২৮) ও জয়নাল আবেদীন ফারুকসহ (৩০) ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।

সৈয়দপুর : নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের ককটেলের আঘাতে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হল- সৈয়দপুর পৌর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার আবদুল হান্নানের ছেলে মো. জনি হোসেন (২৭) ও নিচু কলোনি মহল্লার ইউসুফ হোসেনের ছেলে শাহিন আহমেদ (৩০)। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় আটটি করে মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। ককটেলের আঘাতে আহত চার পুলিশ সদস্যকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ : জেলার আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় র‌্যাব অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়ি উদ্ধার করে। নিহত বাচ্চু খান রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে।

বিরামপুর (দিনাজপুর) : বিরামপুরে মাদকবিরোধী অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী প্রবাল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছে। সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার মনিরামপুর পাকা রাস্তার পাশে বাঁশঝাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রবাল দক্ষিণ দামোদরপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলিসহ ১টি পিস্তল, ৫টি ককটেল, একটি সামুরাই ও ৯২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। প্রবালের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা : জেলার চিহ্নিত মাদককারবারি কামরুজ্জামান সাধু ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। সোমবার রাতে আলমডাঙ্গা স্টেশনের অদূরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। সাধু আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হল। রোববার রাতে জীবননগর উপজেলার উথলীতে মাদক ব্যবসায়ী জোনাব আলী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. ধন মিয়া ওরফে সবুজ (২৯) নিহত হয়েছে। সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সবুজ উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের মো. হোসেন মিয়ার ছেলে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ১১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, ৭.৬৫ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল এবং ধন মিয়ার ব্যবহার করা একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২০-৭১০৬) উদ্ধার করেছে।

ফেনী : ফেনীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মঞ্জুরুল আলম (৪৯) নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। সে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার হাজী আবদুল করিমের ছেলে। সোমবার রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আমজাদ হোসেন (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি আমজাদ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি সে ছাত্রদল করত। বন্দুকযুদ্ধের সময় মডেল থানার ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল জানান, আমজাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, খুনসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু জানিয়েছেন, আমজাদ পৌর ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী। মামলা-হামলা করে কণ্ঠ রোধ করতে না পেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.