বরফ গলছে

হাসিনা-মোদির বৈঠকে থাকছেন মমতা

  কৃষ্ণকুমার দাস, কলকাতা থেকে ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসিনা-মোদির বৈঠকে থাকছেন মমতা

শান্তিনিকেতনে নরেন্দ্র মোদি-শেখ হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটা শেষ পর্যন্ত মমতার উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক হতে যাচ্ছে। কারণ, দিন দশেক আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অফিস সূত্রে জানানো হয়েছিল শান্তিনিকেতনের কর্মসূচিতে তিনি হাজির থাকবেন না।

মঙ্গলবারই সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করতে বেঙ্গালুরু যাওয়ার আগে কলকাতায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজেই জানিয়েছেন, হাসিনা আসার আগের দিন ২৪ মে বৃহস্পতিবার রাতেই শান্তিনিকেতনে যাবেন তিনি। পরদিন সকালে বোলপুরে হেলিপ্যাডে বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে তিনি অভ্যর্থনা জানাবেন। সমাবর্তন উৎসবের আগে কথাও হবে মমতা ও হাসিনার।

মন্ত্রীদের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘মূলত বঙ্গবন্ধু-কন্যার তরফে বিশেষ আমন্ত্রণ আসায় দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানেই শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনে হাজির থাকব। প্রটোকল মেনে মমতা মোদিকেও অভ্যর্থনা জানাবেন। কলকাতা বিমানবন্দরে হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাবেন মমতা ঘনিষ্ঠমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

চূড়ান্ত হয়েও সাত বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি আটকে আছে স্রেফ মমতার আপত্তিতে। তাই এবার হাতের কাছে মমতা থাকায় হাসিনা ও মোদি দু’জনেই যে বিষয়টির নিষ্পত্তির করতে চাইবেন তা বলা বাহুল্য। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে ধাক্কা দিতে তিস্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুটি নিয়ে এবার হেস্তনেস্ত করতে চান বঙ্গবন্ধু-কন্যা।

অবশ্য মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোদি-হাসিনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে মমতাকে ডেকে নেয়ার সূচি সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়নি। মমতা শেষপর্যন্ত শেখ হাসিনার আমন্ত্রণ রক্ষা করতে মোদির সঙ্গেই শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের অনুষ্ঠানে হাজির থাকছেন খবর শুনেই উল্লসিত বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কারণ, ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র দফতরের নির্দেশে গত সাতদিন ধরে মমতার অফিস ও নানা মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে যে কোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে শান্তিনিকেতনে মোদি-হাসিনার সামনে হাজির করানোর চেষ্টা চলছিল।

বিশ্বভারতীর সমাবর্তন ও বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনকে মর্যাদা দিলেও প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বস্তুত এ কারণে পাঁচ বছর বাদে ভিসি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আম্রকুঞ্জের সমাবর্তন অনুষ্ঠান কাটছাঁট করে হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠকের সময় বাড়িয়েছেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অনুরোধেই ঐতিহ্যমণ্ডিত বিশ্বভারতীর সমাবর্তন থেকে এ বছরের মতো বাদ হয়ে গেল দেশিকোত্তম, অবনগগণ ও রথীন্দ্র পুরস্কার বিতরণ কর্মসূচি।

কারণ, দুই অনুষ্ঠান শেষে রথীন্দ্র সভাগৃহে একান্তে বঙ্গবন্ধু-কন্যার সঙ্গে দুই দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দেশের সংসদ নির্বাচনের আগে শেষবার ভারত সফরে একান্ত বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ও জঙ্গি দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মোদির পূর্ণ সমর্থন চাইতে পারেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।

উল্টো দিকে চীনের দিকে ‘ঝুঁকে’ যাওয়া বাংলাদেশকে পুরোপুরি নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসতে এই বৈঠকটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বাঙালির দুই প্রিয় কবির নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দুটি বড় অনুষ্ঠান এবং নিজের উদ্যোগে তৈরি শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন শেখ হাসিনা। যাবেন কলকাতার নেতাজি ভবন এবং জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেও। ২৫ মে শুক্রবার সকাল ১০টায় শান্তিনিকেতন রবীন্দ্র ভবনে আসবেন মোদি ও হাসিনা। ইন্দিরা-রাজীব গান্ধী যে ঘরে বিশ্রাম নিতেন সেই উদয়নেই উঠবেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। ১০টা ৩০ মিনিটে আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হবে, শেষ ১১টা ৩০ মিনিটে। বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হবে ১টা ৩০ মিনিটে। পরদিন আসানসোলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট প্রদান অনুষ্ঠানে মমতা ছাড়াও হাজির থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.