কোরআনের সুপারিশ নসিব হোক আমাদের

  হাফেজ মুফতি আহসান শরিফ ২৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোরআন

হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ মাস পবিত্র রমজানুল মোবারক। রমজান শ্রেষ্ঠ মাস আমলের দিক থেকে। শ্রেষ্ঠ মাস সওয়াবের দিক থেকে, নেকি অর্জনের দিক থেকে। রমজান শ্রেষ্ঠ ইবাদতের দিক থেকেও।

শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হচ্ছে- এ মাসে কোরআনুল কারিম নাজিল হয়েছে। কোরআনুল কারিম এ মাসেই তেলাওয়াত হয় বেশি। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ২৩ বছরে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হলেও লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে রমজানের কদরের রাতে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাস, যাতে অবতীর্ণ হয়েছে কোরআন- মানুষের পথপ্রদর্শক, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী হিসেবে।...’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)।

যুগে যুগে মানুষের হেদায়েতের জন্য, সৎপথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালা এক লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর প্রেরণ করেছেন। মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বানের জন্য, শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও জান্নাতের পথ সুগম করা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য পয়গম্বরদের দিয়েছেন মোট ১০৪টি কিতাব। এর মধ্যে তাওরাত, জাবুর, ইঞ্জিল ও কোরআন- এ চারটি প্রসিদ্ধ।

তাওরাত হজরত মুসা আলাইহিস সালামের ওপর, জাবুর হজরত দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর, ইঞ্জিল হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর এবং কোরআনুল কারিম সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাজিল হয়েছে।

বাকি একশটি কিতাবের নাম সহিফা। এর দশটি আদম আলাইহিস সালামের ওপর, পঞ্চাশটি শিশ আলাইহিস সালামের ওপর, ত্রিশটি ইদ্রিস আলাইহিস সালামের ওপর এবং দশটি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ওপর নাজিল হয়। (মিরকাত, খণ্ড : ০১, পৃষ্ঠা : ৫৭)।

কোরআনুল কারিম ছাড়া ১০৩টি কিতাবের কোনোটির ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এ ঘোষণা দেননি যে, আমি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, এর হেফাজত আমিই করব। পবিত্র কোরআনের সুরা হিজরের ৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই কোরআন অবতীর্ণ করেছি আমি, এর রক্ষণাবেক্ষণ আমিই করব।

কোরআনুল কারিমের মর্যাদা অন্য সব ধর্মগ্রন্থ থেকে বেশি। কোরআনুল কারিম কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। কোরআনুল কারিম অপরিবর্তনশীল। কেবল কোরআন মাজিদের হেফাজতের দায়িত্বই নিয়েছেন আল্লাহ। এজন্যই তো চৌদ্দশ বছর পরও পবিত্র কোরআন অবিকৃত। কেয়ামত পর্যন্ত এভাবেই থাকবে এটি।

কোনো জালেমের কলম কোরআনের একটি হরফও হেরফের করতে পারেনি। পারবেও না। একবার তো কোরআন শরিফের ত্রিশ হাজার কপি একসঙ্গে জ্বালিয়ে দিয়ে শয়তানরা চেয়েছিল আল্লাহর দ্বীন মুছে দিতে, কিন্তু পারেনি। পারবেও না। কাগজের কোরআন মুছতে পারলেও লক্ষ-কোটি হাফেজে কোরআনের হৃদয় থেকে তো আর কোরআন মুছা যাবে না! এটাই আল্লাহর ক্যারিশমা।

প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) তেলাওয়াত শুরু করেছেন কদর রাতে। তিনি প্রতি রমজানে জিবরাঈলের সঙ্গে এক খতম দাওর করতেন। জিবরাঈল শোনাতেন তাঁকে, তিনি শোনাতেন জিবরাঈলকে।

নবীজির এ আমল উম্মতের কাছে সমাদৃত হয়। সারা বছর মুমিন তেলাওয়াত করতে না পারলেও রমজানে অবশ্যই একবার করবে। তেলাওয়াত না জানলে হাফেজদের পেছনে দাঁড়িয়ে একাগ্রচিত্তে তেলাওয়াত শুনবে এবং দ্রুত শেখার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিষয়টি এমন নয় যে, পারলে পড়ব, না পারলে নয়। তেলাওয়াত অবশ্যই শিখতে হবে। সব মুমিনের ওপর ফরজ দায়িত্ব- কোরআন তেলাওয়াত শেখা, এর অর্থ জানা, তেলাওয়াত করা এবং এর ওপর আমল করা।

আল্লাহ আমাদের রমজান মাসে বেশি বেশি তেলাওয়াতের তৌফিক দান করুন আমরা যেন আখেরাতে কোরআনের সুপারিশ হাসিল করতে পারি।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল বালাগ, ঢাকা

ই-মেইল : [email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter