আল্লাহর কাছে মন ভরে চেয়ে নিই আজ

  হাফেজ মুফতি আহসান শরিফ ২৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান

আল্লাহ সৃষ্টি জীবের সবাইকে একরকম মর্যাদা দেননি। কাউকে কারও ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি ক্ষমতা ও মর্যাদার মালিক। রহমত ও বরকতকে তিনিই বিভাজিত করেছেন। তার রহমতের তাওয়াজ্জুহ যে ব্যক্তির ওপর পড়ে, তিনি সম্মানিত হয়ে যান। তার অসন্তুষ্টির দৃষ্টি যার ওপর পড়ে, তার ধ্বংস অনিবার্য।

আল্লাহ আরবের জনমানবহীন অনাবাদি মরুভূমিকে বেছে নিয়েছেন, যা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শহরে পরিণত হয়ে গেছে। তিনি মূর্তিপূজকের বংশের দিকে রহমতের দৃষ্টি দিয়েছেন, সেখান থেকে নবী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর জন্ম হয়েছে। তিনি জিবরাঈল, ইসরাফিল, মিকাইল ও আজরাঈল ফেরেশতাকে অন্যসব ফেরেশতা থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। নবী ইবরাহিম (আ.), মুসা (আ.), ঈসা (আ.) এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্যান্য নবী থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। রজব, শাবান, মহররম এবং রমজানকে অন্যসব মাস থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। আবু বকর (রা.), ওমর (রা.), ওসমান (রা.) এবং আলী (রা.)কে অন্যসব সাহাবি থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালিক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)কে অন্যসব মানুষ থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। এমনিভাবে কদরের রজনী, বরাতের রজনী, দুই ঈদের রজনী এবং জুমার রজনীকে তিনি অন্যসব রজনী থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

ফেরেশতা জগতে আবার জিবরাঈল (আ.)কে অন্যসব ফেরেশতার ওপর মর্যাদা দিয়েছেন। নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্যসব নবী থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। কোরআনুল কারিমকে অন্যসব কিতাব থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। এভাবে জুমার দিনকেও সপ্তাহের অন্যসব দিন থেকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ঈমানদাররা, জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হলে দ্রুত আল্লাহর স্মরণে ছুটে যেও এবং বেচাকেনা বন্ধ করে দিও। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। (সুরা জুমা, আয়াত : ০৯)। অর্থাৎ বেচাকেনায় প্রকাশ্য লাভ থাকলেও নামাজে রয়েছে এরচেয়ে বেশি লাভ।

হাদিসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর সর্বশ্রেষ্ঠ হল জুমার দিন। কেননা এ দিনে আদম আলাইহিসসালামের সৃষ্টির পূর্ণতা লাভ হয়েছে, তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কোনো এক জুমার দিনেই কেয়ামত হবে।

রমজানে জুমার বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে পবিত্র হাদিসে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা রমজানের প্রতিদিন ইফতারের সময় এমন ১০ লাখ পাপীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন যাদের পাপের কারণে জাহান্নাম অনিবার্য হয়ে গেছে। একইভাবে পবিত্র রমজানের জুমার রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে এবং জুমার দিনের মাগরিবের আগ পর্যন্ত জাহান্নাম অনিবার্য ও শাস্তির উপযোগী বলে সাব্যস্ত এমন ১০ লাখ পাপীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। (কান্জুল উম্মাল)।

বহু হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। রমজানের জুমার দিনকে রোজাদার মুমিন বান্দা বড় নেয়ামত মনে করে আমলে জুড়ে থাকবে দিনভর। দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। নফল ইবাদত বেশি বেশি করবে। কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হবে। কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির নিয়ে গবেষণা করবে। কোরআনের হাফেজ-আলেমদের খেদমতের চেষ্টা করবে। নবীজি ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনী থেকে মণিমুক্তা আহরণের চেষ্টা করবে। বুজুর্গদের জীবনী পড়ে আমলের রশদ সংগ্রহ করবে। দিনভর দোয়া ও আমলে ডুবে থাকবে। এ দিনের বিশেষ একটি মুহূর্তে দোয়া কবুল হয়। তা যে কোনো সময়ে হতে পারে। রমজানে তো এমনিতেই সারা দিন দোয়া কবুল হয়। এজন্য নিজের, বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও আপন-পর সবার জন্য দোয়া করা চাই। নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। রমজানের জুমা মুমিনের জন্য পরম প্রাপ্তি, পরম নেয়ামত। আমরা যেন আজ কুড়িয়ে নিতে পারি রাশি রাশি সওয়াব। আল্লাহর কাছে চেয়ে নিই যা আছে প্রয়োজন।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল বালাগ, ঢাকা

ইমেইল : [email protected]

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter