তালিকায় দেড় শতাধিক

মাদকের গডফাদারদের সম্পদের খোঁজে দুদক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তালিকা চেয়ে নতুন করে চিঠি দেয়া হচ্ছে

  মিজান মালিক ২৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুদক

মাদক বিক্রেতা, ডিলারসহ মাদকের গডফাদারদের অর্থ-বিত্তের খোঁজে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হবে তাদের নামে-বেনামে গড়া সম্পদ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের করা মাদক ব্যবসায়ীদের ১৪১ জনের একটি তালিকা জানুয়ারিতে দুদকে পাঠানো হলেও এতদিন তা হিমাগারে ছিল। তালিকার কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে দুদকও নড়েচড়ে বসেছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকের গডফাদারদের অবৈধ সম্পদের খোঁজে জোরেশোরে অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দুদকের দু’জন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের টিমকে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দুদক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে পাওয়া তালিকার বাইরে আরও কোনো তালিকা থাকলে তা দুদককে সরবরাহ করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের কাছে চিঠি দেবে। রাজধানীর শীর্ষ ৮২ মাদক ব্যবসায়ীর যে তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে দুদক সেই তালিকাটিও সংগ্রহ করে জড়িতদের সম্পদের তদন্ত করবে। সংস্থাটি নিজস্ব গোয়েন্দাদের দিয়েও গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সহায়তা করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর সত্যতা নিরূপণ করতে তাদের বিষয়েও তথ্য জোগাড় করবে দুদক।

এদিকে সরকারদলীয় একাধিক এমপির বিরদ্ধে মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদক সচিব ড. শামসুল আরেফিন যুগান্তরকে বলেন, মাদক ব্যবসা করে যারা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, যাদের কারণে সমাজে সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তফসিল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে দুদকের কাছে আসা মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু অভিযোগের বিষয়ে এরই মধ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনুসন্ধান চলছে খুলনা-২ আসনের সরকারদলীয় এমপি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। দুদকের কাছে থাকা তথ্য বলছে, এমপি মিজানুর রহমান মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অবৈধ সম্পদের অভিযোগ এনে ১৬ এপ্রিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করে দুদক। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে পাওয়া তালিকার ১৪১ জনের মধ্যে কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির নামও রয়েছে। তালিকায় আবদুর রহমান বদিকে মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি বলা হয়েছে।

তালিকার একটি প্যারায় বলা হয়েছে, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি দেশের ইয়াবা জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী। তার ইশারার বাইরে কিছুই হয় না। দেশের ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধের জন্য তার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।’ দুদকের তালিকায় বদি ছাড়াও তার পাঁচ ভাইয়ের নাম উঠে এসেছে।

তারা হলেন- মৌলভী মুজিবুর রহমান, আবদুস শুক্কুর, মো. সফিক, আবদুল আমিন ও মো. ফয়সাল। সরকারের প্রায় সব সংস্থার তালিকায় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ছাড়া তার ৫ ভাইয়ের নাম রয়েছে। তবে আপন ভাই ছাড়াও তালিকায় বদির পিএস মং মং সেন ও ভাগ্নে সাহেদুর রহমান নিপুসহ আরও বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠের নাম রয়েছে।

মং মং সেন ঢাকায় একাধিকবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন আগে তিনি একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পান। এছাড়া বদির ফুফাতো ভাই কামরুল হাসান রাসেলের নামও আছে তালিকায়।

ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন নেতার নামও ইয়াবা গডফাদারদের আশ্রয়দাতা হিসেবে তালিকায় রয়েছে। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাশেদ ও মাহবুব মোরশেদের নাম আছে মাদকদ্রব নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় সরকারদলীয় লোকজন ছাড়াও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে। তাদেরই একজন কক্সবাজারের সাইফুল করিম। তিনি একজন সিআইপি। ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। তালিকার ৮৪ নম্বরে আছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি রেহানা আক্তারের ভাতিজা ইসমাইল হোসেনের নাম। তার বাড়ি ফেনী সদরের কাজীরবাগ এলাকায়। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক গডফাদারদের মধ্যে আছে- বিহারি ক্যাম্পের ইশতিয়াক, রাজধানীর রামপুরা থানা যুবলীগ নেতা তানিম ও মেরুল বাড্ডার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জয়নালসহ ৩২ জন।

তালিকায় টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ ওরফে জাফর চেয়ারম্যানের নামও রয়েছে। ছেলে মোস্তাককে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকায় তাদের অবস্থান যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বরে। এতে বলা হয়েছে, ‘পিতা-পুত্র একত্রে রাজনীতি ও ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তৎপর।’ জাফর চেয়ারম্যান বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ৫-৬ বছর আগে তিনি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তালিকায় রাজশাহী বিভাগের ২১ জন হেরোইন গডফাদারের নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter