বাজেট ২০১৮-১৯

বিনিয়োগ বাড়াতে নানা করছাড় আসছে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান ২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

চলতি মেয়াদে সরকারের শেষ বাজেটে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে কর্পোরেট কর হারে ছাড়, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির দ্বৈত কর পরিহার করা হবে। এছাড়া আর কোনো খাতে নতুন করারোপ করা হবে না। ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমাও এবার বাড়ানো হতে পারে।

এ ছাড়া রাজস্বের বিশাল লক্ষ্য অর্জনে ভ্যাটে অনলাইন ব্যবস্থা কার্যকরসহ বেশকিছু পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি শুল্ক খাতে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখাসহ অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসজাত পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক বাড়ানো হবে। তবে শিল্পের কাঁচামালের শুল্ক অপরিবর্তিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য আকার হবে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

এ বিশাল লক্ষ্য অর্জনে অন্যবারের মতো এবারও ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন করকে গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। মূলত ভ্যাট সিস্টেমকে অনলাইননির্ভর করে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে এত বিশাল লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় এনবিআর ভ্যাট খাত থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, আয়কর খাতে ৯৭ হাজার কোটি এবং শুল্ক খাতে ৮৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সূত্রমতে, নির্বাচনী বছর হওয়ায় এ বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে নতুন বাজেটে খুব বেশি পদক্ষেপ থাকছে না। অর্থাৎ নতুন করারোপ করা হবে না। উল্টো আয়করে কর্পোরেট কর হার হ্রাস, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির দ্বৈত করারোপের মতো বিতর্কিত কর ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। এসব কর ব্যবস্থাকে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অন্তরায় হিসেবে বলে আসছেন।

কর্পোরেট কর হার হ্রাসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া একাধিকবার বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২৫ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হার ৩৫ শতাংশ বলবৎ আছে।

সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। এত ছাড়ের বিপরীতে আয়করের বিশাল লক্ষ্য আদায়ের কর জাল বৃদ্ধি ও উৎস কর আদায় কার্যক্রমকে জোরদার করতে চাইছে এনবিআর। এজন্য উৎসে কর আদায়ের হারে পরিবর্তন আসতে পারে। বাজেটে এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিবেন।

জানা গেছে, ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আদায়ে ভ্যাট ব্যবস্থাকে অনলাইননির্ভর করে গড়ে তুলতে পুরনো ভ্যাট আইনের বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এজন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালু করা হবে। পাশাপাশি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও রিটার্ন জমার বিধান থাকবে। স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু আরোপিত পণ্যের ভ্যালু যৌক্তিক করা হবে। এটি করা হলে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট আদায়ের সম্ভাবনা আছে।

বর্তমানে শতাধিক পণ্যের ওপর ট্যারিফ ভ্যালু আরোপিত আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, গুড়া দুধ, হলুদ, মরিচ, ধনিয়াসহ সব গুঁড়া মশলা, আচার, চাটনি, টমেটো সস, ফলের জুস, এলপি গ্যাস, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন, বাল্ব ইত্যাদি। এছাড়া সংকুচিত ভিত্তিমূল্য পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। বর্তমানে ২২টি সেবা ও পণ্যের ওপর ১০টি স্তরে দেড় থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর আছে। এসব সেবা ও পণ্যের ভ্যাট যৌক্তিক করা হবে।

রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু করতে ইসিআর বিধিমালা সংশোধন করা হবে। পাশাপাশি ভ্যাট আদায়ের বড় খাত বিড়ি-সিগারেটের দিকেও নজর দেয়া হবে। সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক হার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিড়ির ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বাতিল করে সিগারেটের মতো সম্পূরক শুল্ক আদায় আরোপ করা হতে পারে।

অন্যদিকে শুল্ক খাতে খুব পরিবর্তন আসবে না। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা হবে। বিলাসজাত ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হবে। যে সব শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামালে বেশি শুল্ক আছে বিনিয়োগের স্বার্থে সেগুলো সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ট্যারিফ ভ্যালু ও ন্যূনতম মূল্য সংশোধনের মাধ্যমে আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধের প্রচেষ্টা চালানো হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি বিনিয়োগকে চাঙ্গা করতে এবারের বাজেটে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ছাড় দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছেন। এজন্য বাজেটে খুব বেশি নতুন করারোপ করা হবে না। এর বিপরীতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর জাল বৃদ্ধি ও মনিটরিংকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter