মাদকবিরোধী অভিযান

‘বন্দুকযুদ্ধ’ অব্যাহত, নিহত আরও ১৩

১২ দিনে মারা গেছেন ৮১ জন

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দুকযুদ্ধ,

সারা দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধ’র ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এসব ঘটনায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১১ জেলায় আরও ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কুমিল্লা ও দিনাজপুরে দু’জন করে এবং কুড়িগ্রাম, পাবনা, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, ফেনী, কক্সবাজার ও বরগুনায় একজন করে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহতদের সবাই মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ফেনী, বরগুনা ও দিনাজপুরে একজন করে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে মারা গেছেন। এ নিয়ে ১২ দিন ধরে চলা মাদকবিরধেী অভিযানে ৮০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে নেত্রকোনায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুমিল্লা ও বুড়িচং : শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগরা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৬) নামে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত বাবুল একই উপজেলার আশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মাদক মামলা রয়েছে এবং আলমাস উপজেলার দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ৮টি মাদক মামলা রয়েছে। থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবির জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় এএসপি (দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া) সার্কেল শেখ মো. সেলিম, ওসি শাহজাহান কবির ও এসআই তিথংকর দাসসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ : র‌্যাব জানায়, শুক্রবার রাত ২টার দিকে বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ-কবিরাজহাট সড়কের দক্ষিণ পাশে বাসুদেবপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি লেনদেন চলছিল। র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালাতে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালালে নিহত হন সাবদারুল (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২ পোটলা গাঁজা ও ৯৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪০টি মামলা রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।

এদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার রামসাগর এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলিতে আবদুস সালাম (৩৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত আবদুস সালাম দিনাজপুর সদর উপজেলার মহরমপুর গ্রামের আবদুস সামাদের ছেলে।

কচুয়া (চাঁদপুর) : জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবলু (৪০) নামে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার ১১নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের বলরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। তার বাড়ি থেকে পুলিশ ১২০ পিস ইয়াবা, ৭টি ককটেল ও ২টি রাম দা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় কচুয়া থানা পুলিশের দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তারা হলেন- এসআই মো. মোবারক হোসেন ও এএসআই মো. আক্তার হোসেন।

পাবনা : শুক্রবার রাত ২ টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবদুর রহমান ওরফে আবদুল্লাহ (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত আবদুল্লাহ পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় ককটেল হামলায় আহত হয়েছে তিন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- এসআই মেহেদী হাসান সুমন, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি শাটার গান, তিনটি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, চারটি কার্তুজ এবং ২শ’ পিস ইয়াবা, ৫শ’ গ্রাম গাঁজাসহ ১টি টর্চলাইট উদ্ধার করেছে।

বরগুনা : শনিবার রাতে বরগুনা সদর ৪নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতক এলাকা থেকে এক মাদক ব্যাবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম ছগির খান। তিনি বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের মৃত সোরাব খানের ছেলে। পুলিশ জানায়, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় ৮টি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১টি পাইপগান, ৫ রাউন্ড গুলি ও একশ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) : পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আহত এক মাদক ব্যবসায়ী কুড়িগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শনিবার ভোরে ভারতের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে আহত হন তিনি। নিহত ব্যক্তির নাম ইব্রাহীম আলী (৩৪)। তিনি দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামের মৃত ইনসাফ আলীর ছেলে। ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, তার বিরুদ্ধে ভুরুঙ্গামারী থানায় ৫টি মাদক মামলাসহ জেলার অন্যান্য থানায়ও মামলা রয়েছে।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) : শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচবিবি উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা ভীমপুরে র‌্যাবের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত ও দু’জন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, গুলি ও ১ বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও : শনিবার রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত মোবারক সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও রোড ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে। এ সময় পুলিশ ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বলে দাবি সদর থানার ওসি আবদুল লতিফ মিয়ার।

ফেনী : ফেনীর রুহিতিয়া এলাকা থেকে কবির হোসেন ওরফে কবির ডাকাত (৫০) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কবির পরশুরাম উপজেলার ধনিকুণ্ডা গ্রমের আবুল খালেক বেতুর ছেলে। পুলিশের দাবি, রুহিতিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির সময় তিনি নিহত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ ও ঈশ্বরগঞ্জ : ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়িতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহজাহান নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। শুক্রবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ও হেরোইন উদ্ধার করে। নিহত শাহজাহান আঠারবাড়ি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

নেত্রকোনা : সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মনাং নামক স্থানে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের হৃীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসাইন মেম্বারের ছেলে ওসমান গনি (৩৫) ও একই গ্রামের মৃত মৌলভী দীল মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩২)। শনিবার দুপুরে তাদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

টেকনাফ (কক্সবাজার) : টেকনাফ থানার নোয়াখালী পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শনিবার রাতে র‌্যাব-৭ এর একটি দলের গুলি বিনিময় হয়। ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার, টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. একরামুল হক কমিশনারের (৪৬) গুলিবিদ্ধ লাশ ও ১০ হাজার ইয়াবা, ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটার, ৬ রাউন্ড গুলি ও ৫টি গুলির খোসা উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব মিডিয়া উইয়িংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।

jugantor-event-মাদকবিরোধী-অভিযান-২০১৮-53086--1

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter