দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান

২৩ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯১ গ্রেফতার ১২ হাজার

প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: যুগান্তর

দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান। রোববার রাজধানীর হাজারীবাগ ও তেজগাঁও এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল সঙ্খ্যক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানের ২৩ দিনে (রোববার পর্যন্ত) প্রায় ১২ হাজার মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৯১ জন। এছাড়া শনিবার ও রোববার রাজধানীতে মাদকপ্রবণ চার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের শুরু থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ১২ হাজার অপরাধী। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী অভিযানের শুরু থেকে শনিবার পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ হাজার ৯০০ জনকে। মামলা হয়েছে ৬ হাজার ২৭১টি।

এ সময়ে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। অপরদিকে ৪ মে থেকে রোববার পর্যন্ত র‌্যাব মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ১৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতারদের মধ্যে ৪৫৬ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ২ হাজার ৬৯১ জন মাদকসেবী।

রাজধানীর মাদক আস্তানায় অভিযান : রাজধানীতে গত দুই দিনে ৫টি মাদক আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। শনিবার মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্প, বনানীর কড়াইল বস্তি ও কমলাপুরে টিটিপাড়া বস্তিতে বড় আকারের সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ-র‌্যাব।

এছাড়া রোববার হাজারীবাগ গণকটুলি বস্তি ও কারওয়ানবাজার রেললাইন বস্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। শনিবারের অভিযানে তিনটি স্পট থেকে ২০০ জনকে গ্রেফতার করে।

জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫৩ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে ৭৭ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এদিকে জেনেভা ক্যাম্পে অন্য ৭৮ জনকে নিয়মিত মামলায় রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার হাজারীবাগ গণকটুলি বস্তি ও কারওয়ান বাজার রেললাইন বস্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রাজধানীর হাজারীবাগের সুইপার কলোনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ নারীসহ ৫০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রমনা থানার ডিসি মারুফ সরদারের নেতৃত্বে ৭০০ থেকে ৮০০ পুলিশ সদস্য এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে মহানগর পুলিশের ডিবি, সোয়াত, ডগ স্কয়াটসহ বিভিন্ন বিভাগের সদস্যরা ছিলেন। অভিযানে ৩৬৩ পিস ইয়াবা, ২৯ বোতল ফেনসিডিল, ১ কেজির বেশি গাঁজা ও ১৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক বিক্রির ১৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চোলাই মদ তৈরির একটি কারখানা।

এছাড়া রাজধানীর কারওয়ান বাজার রেললাইন বস্তিতে অভিযান চালিয়ে চার নারীসহ ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর ১টার দিকে তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশসহ ডিবি পুলিশের এক হাজার সদস্য অংশ নেন। তল্লাশির জন্য রাখা হয় ডিবি’র ডগ স্কোয়াট। তবে পুলিশের এ অভিযানের খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় পালিয়ে যায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের আটকের পাশাপাশি নিরীহ লোকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, কারওয়ান বাজার রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। প্রায় এক হাজার পুলিশ অংশ নেয়। অভিযানে বিভিন্ন প্রকার মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে কী পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানান ডিবির এই কর্মকর্তা। সরেজমিন দেখা যায়, বেলা ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে কারওয়ান বাজার বস্তিঘরে অবস্থান নিয়ে অভিযান শুরু করে। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান।

মানিক নামের এক ব্যক্তি যুগান্তরের কাছে অভিযোগ বরে বলেন, আমার ভাগ্নে মামুন কাঁচামাল ব্যবসায়ী। দুপুরের পর ঘরে শুয়ে ছিল। তাকে ডেকে ধরে নিয়ে যায়। মামুন সিগারেটও খায় না। যারা মাদক বেচে, তাদের কাউকে পায় না অথচ আমার নির্দোষ ভাগ্নেকে নিয়ে গেল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে চার নারীসহ ৫৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিমাণ জানতে সময় লাগবে। আর আটক হওয়া যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।