প্যানডোরা পেপারসে আরও তিন বাংলাদেশি
jugantor
প্যানডোরা পেপারসে আরও তিন বাংলাদেশি
সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্যানডোরা পেপারস

বিদেশে গোপন বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা প্যানডোরা পেপারসে আরও তিন বাংলাদেশির নাম এসেছে। তারা হলেন-রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের নর্দান রোডের বাসিন্দা এস হেদায়েত উল্লাহ ও এস রুমি সফিউল্লাহ এবং সিলেটের শাহজালাল উপশহরের শাহিদা বেগম শান্তি। এর মধ্যে হেদায়েত ও সফিউল্লাহ একই পরিবারের সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগেও ৮ বাংলাদেশির নাম প্রকাশিত করেছিল সংস্থাটি। এছাড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এই সংগঠনটির প্রকাশিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে ৮২ বাংলাদেশির নাম এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসা এই ৩ বাংলাদেশির বিষয়েও আমরা অনুসন্ধান করব। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আইসিআইজের তথ্য অনুসারে, হেদায়েত উল্লাহ ও রুমি সাইফুল্লাহ বিনিয়োগ করেছেন হংকংয়ের ট্রান্সগ্লোবাল কনসাল্টিং (এইচকে) লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে। জাস লিমিটেড নামে একটি অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে শাহিদা বেগম শান্তির। এর মধ্যে রুমি সাইফুল্লাহ ভিনসেন্ট নামের একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি তরুণ পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশের (জেসিআই বাংলাদেশ) সাবেক সভাপতি। এছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এমজিআই মিডিয়া এজির আঞ্চলিক পরামর্শক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট কনসার্নের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

গত বছরের ৩ অক্টোবর প্যানডোরা পেপারসের প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ হয় দ্বিতীয় ধাপের তালিকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় আট বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আট ব্যক্তির নাম এসেছিল। তারা হলেন-ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, সাইদুল হুদা চৌধুরী, ইসলাম মঞ্জুরুল, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সাকিনা মিরালী, অনিতা রানী ভৌমিক, ওয়াল্টার পোলাক ও ডেনিয়েল আর্নেস্তো আইউবাত্তি।

এদের মধ্যে ব্যারিস্টার নিহাদ কবির মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি, সাকিনা মিরালী শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমবি ফার্মার পরিচালক, আজিজ মোহাম্মদ ভাই তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও মঞ্জুরুল ইসলাম ইস্টার্ন হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান। অন্য দুই বাংলাদেশির একজন মুন্সীগঞ্জের বিএনপি নেতা ও মাসাফি গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিলের ভাই প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম নামক একটি অনলাইন পোর্টালের প্রধান সম্পাদক সাইদুল হুদা চৌধুরী। অন্যজন অনিতা রানী ভৌমিক অ্যানটেরিস হোল্ডিংস নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের একজন।

এর আগে ৩ অক্টোবর প্রথম ধাপের তালিকায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ জন বর্তমান ও সাবেক নেতার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তাসহ তিন শতাধিক কোটিপতির অর্থ পাচারের তথ্য ফাঁস হয় প্যানডোরা পেপারসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্যান্ডোরা পেপারসে নাম এলেই কেউ বেআইনি কাজে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ভিনদেশে অর্থ ও সম্পদ রাখতে চাওয়ার পেছনে কিছু বৈধ কারণও রয়েছে। এর মধ্যে আছে অপরাধীদের আক্রমণ বা অস্থিতিশীল সরকার থেকে সুরক্ষা। তবে অফশোর কোম্পানির মালিকানা থাকা অবৈধ কিছু না হলেও অর্থ ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার কাজে এ ধরনের গোপন কোম্পানির ব্যবহার ভালো কিছু নয়; বরং তা অপরাধের প্রক্রিয়া গোপন রাখার একটি উপায়।

প্যানডোরা পেপারসে আরও তিন বাংলাদেশি

সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্যানডোরা পেপারস
প্রতীকি ছবি

বিদেশে গোপন বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা প্যানডোরা পেপারসে আরও তিন বাংলাদেশির নাম এসেছে। তারা হলেন-রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের নর্দান রোডের বাসিন্দা এস হেদায়েত উল্লাহ ও এস রুমি সফিউল্লাহ এবং সিলেটের শাহজালাল উপশহরের শাহিদা বেগম শান্তি। এর মধ্যে হেদায়েত ও সফিউল্লাহ একই পরিবারের সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করে। এর আগেও ৮ বাংলাদেশির নাম প্রকাশিত করেছিল সংস্থাটি। এছাড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এই সংগঠনটির প্রকাশিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে ৮২ বাংলাদেশির নাম এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্যান্ডোরা পেপারসে নাম আসা এই ৩ বাংলাদেশির বিষয়েও আমরা অনুসন্ধান করব। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আইসিআইজের তথ্য অনুসারে, হেদায়েত উল্লাহ ও রুমি সাইফুল্লাহ বিনিয়োগ করেছেন হংকংয়ের ট্রান্সগ্লোবাল কনসাল্টিং (এইচকে) লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে। জাস লিমিটেড নামে একটি অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে শাহিদা বেগম শান্তির। এর মধ্যে রুমি সাইফুল্লাহ ভিনসেন্ট নামের একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি তরুণ পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন জুনিয়র চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশের (জেসিআই বাংলাদেশ) সাবেক সভাপতি। এছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এমজিআই মিডিয়া এজির আঞ্চলিক পরামর্শক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট কনসার্নের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

গত বছরের ৩ অক্টোবর প্যানডোরা পেপারসের প্রথম ধাপের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রকাশ হয় দ্বিতীয় ধাপের তালিকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের তালিকায় আট বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আট ব্যক্তির নাম এসেছিল। তারা হলেন-ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, সাইদুল হুদা চৌধুরী, ইসলাম মঞ্জুরুল, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সাকিনা মিরালী, অনিতা রানী ভৌমিক, ওয়াল্টার পোলাক ও ডেনিয়েল আর্নেস্তো আইউবাত্তি।

এদের মধ্যে ব্যারিস্টার নিহাদ কবির মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি, সাকিনা মিরালী শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি এমবি ফার্মার পরিচালক, আজিজ মোহাম্মদ ভাই তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও মঞ্জুরুল ইসলাম ইস্টার্ন হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান। অন্য দুই বাংলাদেশির একজন মুন্সীগঞ্জের বিএনপি নেতা ও মাসাফি গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিলের ভাই প্রাইম নিউজ বিডি ডটকম নামক একটি অনলাইন পোর্টালের প্রধান সম্পাদক সাইদুল হুদা চৌধুরী। অন্যজন অনিতা রানী ভৌমিক অ্যানটেরিস হোল্ডিংস নামক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের একজন।

এর আগে ৩ অক্টোবর প্রথম ধাপের তালিকায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ জন বর্তমান ও সাবেক নেতার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তাসহ তিন শতাধিক কোটিপতির অর্থ পাচারের তথ্য ফাঁস হয় প্যানডোরা পেপারসে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্যান্ডোরা পেপারসে নাম এলেই কেউ বেআইনি কাজে জড়িত বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ভিনদেশে অর্থ ও সম্পদ রাখতে চাওয়ার পেছনে কিছু বৈধ কারণও রয়েছে। এর মধ্যে আছে অপরাধীদের আক্রমণ বা অস্থিতিশীল সরকার থেকে সুরক্ষা। তবে অফশোর কোম্পানির মালিকানা থাকা অবৈধ কিছু না হলেও অর্থ ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার কাজে এ ধরনের গোপন কোম্পানির ব্যবহার ভালো কিছু নয়; বরং তা অপরাধের প্রক্রিয়া গোপন রাখার একটি উপায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন