হে আল্লাহ তাকওয়া অর্জনের তওফিক দিন

  ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ ০১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাহে রমজান
ছবি: সংগৃহিত

বহুল পরিচিত একটি শব্দ তাকওয়া। এর অর্থ, বেঁচে থাকা (কোনো কিছু থেকে দূরে থাকা)। যখন বলা হয়, ‘আল্লাহকে ভয় কর’ তখন অর্থ হবে, আল্লাহর অসন্তুষ্টি, আল্লাহর গজব, ক্রোধ বা শাস্তি থেকে বেঁচে থাক এবং বাঁচার উপায় অবলম্বন কর। কোরআন ও হাদিসে এ অর্থেই ‘তাকওয়া’ শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়।

সিয়ামের সঙ্গে তাকওয়ার সম্পর্ক এমন যেমন দেহের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের সম্পর্ক। প্রাণের স্পন্দনের সম্পর্ক। অর্থাৎ যে দেহে প্রাণের কোনো স্পন্দন নেই সে দেহ মৃত, লাশ, মূল্যহীন। তাকওয়াবিহীন সিয়াম বা রোজা তেমনি। নির্দিষ্ট সময় পানাহার ও দৈহিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকলে আভিধানিক অর্থে রোজা পালন হয় কিন্তু তাকওয়া অর্জন হয় না। তাহলে এ সিয়াম হবে প্রাণহীন, মূল্যহীন এক লাশের মতো।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মাসব্যাপী এ সিয়াম সাধনার আয়োজন তাকওয়া অর্জনের জন্য। সিয়াম পালনে তাকওয়া অর্জনই মূল লক্ষ্য। এতদিনে আমরা কী অর্জন করেছি?

আমরা কৃষিকাজে দেখি কৃষক ভাইয়েরা জমি প্রস্তুত করছেন ফসল উৎপাদনের জন্য। জমিতে পানি সিঞ্চন করছেন। ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চষছেন। জঙ্গল সাফ করছেন, আগাছা-পরগাছা পরিষ্কার করছেন।

পোকামাকড় যেন ফসলে আক্রমণ করতে না পারে এজন্য ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ফসলকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে যে ব্যবস্থাদি গ্রহণ করা হয় মূলত এটাকেই তাকওয়ার সঙ্গে তুলনা করা চলে। এভাবে প্রায় প্রতিটি কাজেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে যা তাকওয়ার পরিচায়ক। চালক তার গাড়ি চালনায় তাকওয়ার পরিচয় দেন যেন বাহন কোনো দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। এক কথায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ তাকওয়ারই পরিচায়ক।

তাকওয়া প্রসঙ্গে হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘তাকওয়া হল জালীলকে (আল্লাহ) ভয় করা, কোরআন অনুযায়ী আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং সফরের (মৃত্যু) দিনের জন্য প্রস্তুত থাকা’। আমাদের আল্লাহকে ভয় করতে হবে সর্বক্ষেত্রে।

তিনি যদি পাকড়াও করেন তাহলে সমগ্র সৃষ্টিকুলের ক্ষমতা নেই আমাকে-আপনাকে তার শাস্তি থেকে বাঁচাতে। তার শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে কোরআনে দেয়া তার বিধান মানতে হবে।

সব সময় তার প্রতি তুষ্ট থাকতে হবে। ছোটখাটো সফরে আমাদের কত্ত প্রস্তুতি। তাহলে পরকালীন সফরে আমাদের কেমন প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত- রোজাদারদের ভাবতে হবে।

আহ! কখন যে মালাকুল মাউত এসে পড়বেন, সাড়া না দিয়ে কি উপায় আছে তার ডাকে? তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে সর্বদা প্রস্তুত থাকা যেন ডাক আসা মাত্রই লাব্বাইক বলা যায়।

কোরআনে কারিমের একটি আয়াত- (অর্থানুবাদ) ‘আল্লাহকে যথাযথ ভয় কর’ (সুরা আল ইমরান : ১০২)। এর তাফসিরে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বলেন, অর্থাৎ ‘আল্লাহর বিধান মানা, তার নাফরমানি না করা, তাকে স্মরণ রাখা, তাকে ভুলে না যাওয়া, তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া, অকৃতজ্ঞ না হওয়া।’

কৃতজ্ঞ হওয়ার মাঝেই রয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত যাবতীয় বিধান মানার নিশ্চয়তা। আচ্ছা বলুন তো, তার এত এত নেয়ামত ভোগ করব অথচ তার হুকুম মানব না, রোজা রাখব এটা হয় নাকি। ভেবে দেখেছি কি, এ জীবনটা কার? আমার দেহের এত সুন্দর আকৃতি কে দিয়েছেন? এত এত নেয়ামত কার অবদান?

এরপরও আমরা তার নাফরমান হব কেন? তাকে না ভুলে সার্বক্ষণিক স্মরণে রাখার মাঝেই রয়েছে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাকওয়া অর্জন করা। হে আল্লাহ! আমাদের মুত্তাকি হওয়ার তাওফিক দিন। এ রমজান থেকেই তাকওয়া সম্পন্ন বান্দা হিসেবে কবুল করুন।

লেখক: অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter