ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী

ডিসেম্বরের পর থাকতে পারবে না অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স

১০ জুনের মধ্যে বেতন ও ১৪ জুনের মধ্যে ভাতা দিতে হবে

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহিত

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের পর তৈরি পোশাক খাতের সংস্কার তদারকিতে আসা ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না।

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর এই দুই বিদেশি ক্রেতাজোট বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। তিনি বলেছেন, সরকার বিশেষ বিবেচনায় তাদের কার্যক্রম শেষ করতে নির্ধারিত মেয়াদের পর আরও ৬ মাস বৃদ্ধি করেছে। সে হিসাবে আগামী জানুয়ারির আগেই তারা বাংলাদেশের কার্যক্রম গুটাবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার মানোন্নয়নে কাজ করছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের দুই সংগঠন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ৩১ মে (গতকাল) অ্যাকর্ডের মেয়াদ শেষ হল ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন।

তবে সংস্থা দুটিকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার জন্য ৬ মাস সময় দেয়া হবে। এরপর আর এ দুই সংগঠনের বাংলাদেশে দরকার হবে না। পৃথিবীর কোনো দেশে এ ধরনের সংস্থার কার্যক্রম নেই। বাংলাদেশ নিজেই এখন তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও কর্মবান্ধব পরিবেশ তদারকির সক্ষমতা অর্জন করেছে।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এ খাতে আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। কারখানাগুলো এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো এখন বিশ্বমানের। তাই অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্সের মেয়াদ বাড়ানোর দরকার নেই।

বৈঠকে মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঈদ সামনে রেখে প্রতিটি কারখানার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। শ্রম অসন্তোষ তৈরি হওয়ার মতো যে কোনো ঘটনা মালিকদের সতর্কভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।

ঈদের আগে দেশের কোনো পোশাক কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা চলবে না। ঈদের আগে নগদ লেনদেনে ব্যবসায়ীরা পুলিশের সহায়তা চাইলে তা দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ১০ জুনের মধ্যে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মে মাসের পুরো বেতন ও ১৪ জুনের মধ্যে ঈদের বোনাস বা উৎসব-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকেও এই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর পরিচালক বিএম শোয়েবসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগামী ১০ জুনের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ১৪ জুনের মধ্যেই সব কারখানায় বোনাস দেয়া হবে।