এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে রঙিন একদিন
jugantor
এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে রঙিন একদিন
তৃতীয়দিন শেষে বাংলাদেশ ৩১৮/৩ শ্রীলংকা ৩৯৭

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সেঞ্চুরি

তামিম ইকবালের অস্বস্তি প্রথম সেশনেই চোখে পড়ছিল। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় তিনি অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান (১৩৩*)। বিরতির পর আর মাঠে নামেননি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তখন ব্যাটিংয়ে নামছেন লিটন দাস। ভয়, আশঙ্কা সবার চোখে-মুখে। বাংলাদেশের সাজানো ইনিংসটা এবার ছন্দ পতন না হয়। কী হলো তামিমের? কিছুক্ষণের মধ্যেই বিসিবি থেকে জানানো হলো, পায়ের পেশিতে টান লাগার কারণে তামিম নামতে পারেননি। এবার কি পথ হারায় বাংলাদেশ? এমন কিছু হয়নি। বরং আরও সমৃদ্ধ হলো শেষ সেশন। ছন্দ হারানোর পরিবর্তে তখন নতুনরূপে নিজেকে খুঁজে পেলেন মুশফিক। ধারাবাহিক লিটনও দাঁড়িয়ে গেলেন। এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে তৃতীয়দিনটা হলো রঙিন। চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনের খেলা শেষে নিশ্চিত এগিয়ে স্বাগতিকরা। মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন। দলীয় রান তিন উইকেটে ৩১৮। সাত উইকেট হাতে রেখে শ্রীলংকার প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ৭৯ রান পিছিয়ে মুমিনুল হকরা।

তামিমের ইকবালের হঠাৎ ব্যাটিংয়ে না নামা যতটা বিস্ময়কর ছিল, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ব ফার্নান্ডোর কনকাশন নিয়ে। আগেরদিন ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে বলের আঘাত পাওয়া শ্রীলংকার বা-হাতি পেসার বিশ্ব কাল হঠাৎ করেই মাঠ থেকে ছিটকে যান।

ধারাভাষ্যকাররাও তাতে অবাক। তার কনকাশন সাব হিসাবে একাদশে নেওয়া হয় আরেক পেসার কাসুন রাজিথাকে। বিশ্ব আঘাত পান আগেরদিন। এরপর মাঠে নেমে ব্যাটিং-বোলিংও করেছেন। কালও বোলিং করেছেন চার ওভার। এরমধ্যে মাঠে কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই কনকাশন। বিশ্বর তুলনায় রাজিথা জোরে বল করতে পারেন। ফ্লাট উইকেটে তিনি বেশি কার্যকর। তাহলে কী ইনজুরির আড়ালে কৌশল কাজে লাগাল শ্রীলংকা? এ প্রসঙ্গে দিনের খেলা শেষে শ্রীলংকার প্রধান কোচ ক্রিস সিলভারউড জানালেন, এটা মেডিকেল বিভাগের বিষয়। অথচ সারাদিনে শ্রীলংকা যে তিন উইকেট নিতে পেরেছে তার দুটিই নিয়েছেন কাসুন রাজিথা। প্রশ্নটা তো বড় হবেই। আগেরদিন বাংলাদেশ যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকেই হলো শুরু। তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান উইকেটের সুবিধা দারুণ কাজে লাগিয়েছেন। টেস্টে পাঁচ বছর ও ৬১ ইনিংস পর শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেল বাংলাদেশ। এরআগে সবশেষ ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলংকার বিপক্ষেই গলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার। কাল তামিম ও মাহমুদুল উপহার দিলেন ১৬২ রানের জুটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টানা দুই ইনিংসে শূন্যতে আউট হয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। চট্টগ্রামে ফিরে পেলেন ফিফটি। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এরপরই জীবন পান। লং অফে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি আসিথা ফার্নান্ডো।

প্রথম সেশন কোনো উইকেট না হারিয়েই শেষ করেন তামিম-মাহমুদুল। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন আসিথাই। তিনিই ফেরান মাহমুদুলকে (৫৮)। তার বিদায়ের পরপরই পেসার আসিথাকে পুল করে চার মেরে তামিম ইকবাল পৌঁছে গেলেন ৯৯ রানে। পরের বল লেগ সাইডে ঠেলে তিনি পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়, সেঞ্চুরি। ১৬২ বলে বাঁ-হাতি ওপেনার পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। এরআগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি পান তিনি (১২৬)। তার চেয়ে সেঞ্চুরিতে এগিয়ে শুধু অধিনায়ক মুমিনুল হক (১১টি)। ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে এটি তার দ্বিতীয় শতক। তামিমের সেঞ্চুরির পরপরই বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১)। টানা ব্যর্থতায় আবারও ফর্ম নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুললেন অধিনায়ক মুমিনুল (২)। দুজনেই রাজিথার গতিতে পরাস্থ হন। সেঞ্চুরির পর একবার আউট হয়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তামিম, এরপর স্লিপে তার কঠিন ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। দ্বিতীয় সেশনে ৬৩ রানে বাংলাদেশ হারায় তিন উইকেট। প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৮১ রান তোলে স্বাগতিকরা। এরপরই শেষ সেশনে মুশফিক ও লিটন দেখিয়েছেন বীরত্ব। রানের খোঁজে অবশেষে চট্টগ্রামেই নিজেকে ফিরে পেলেন মুশফিক। দুজনই শুরুতে ছিলেন বেশ সতর্ক, সময়ের সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়েছেন। সাকিব আল হাসানের সমান ২৬তম টেস্ট ফিফটির পর মুশফিক অপরাজিত ৫৩ রানে। ভাগ্যের ছোঁয়া কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন লিটন। ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট ফিফটিতে (৫৪*) দিন শেষ করেছেন। ৯৮ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকা দুজনের সামনেই এখন সেঞ্চুরির হাতছানি। বাংলাদেশের চোখ বড় লিডে। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে রঙিন একদিন

তৃতীয়দিন শেষে বাংলাদেশ ৩১৮/৩ শ্রীলংকা ৩৯৭
 জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সেঞ্চুরি
২৬ মাস পর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম ইকবাল। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিন -যুগান্তর

তামিম ইকবালের অস্বস্তি প্রথম সেশনেই চোখে পড়ছিল। চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় তিনি অপরাজিত সেঞ্চুরিয়ান (১৩৩*)। বিরতির পর আর মাঠে নামেননি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তখন ব্যাটিংয়ে নামছেন লিটন দাস। ভয়, আশঙ্কা সবার চোখে-মুখে। বাংলাদেশের সাজানো ইনিংসটা এবার ছন্দ পতন না হয়। কী হলো তামিমের? কিছুক্ষণের মধ্যেই বিসিবি থেকে জানানো হলো, পায়ের পেশিতে টান লাগার কারণে তামিম নামতে পারেননি। এবার কি পথ হারায় বাংলাদেশ? এমন কিছু হয়নি। বরং আরও সমৃদ্ধ হলো শেষ সেশন। ছন্দ হারানোর পরিবর্তে তখন নতুনরূপে নিজেকে খুঁজে পেলেন মুশফিক। ধারাবাহিক লিটনও দাঁড়িয়ে গেলেন। এক সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে তৃতীয়দিনটা হলো রঙিন। চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয়দিনের খেলা শেষে নিশ্চিত এগিয়ে স্বাগতিকরা। মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন। দলীয় রান তিন উইকেটে ৩১৮। সাত উইকেট হাতে রেখে শ্রীলংকার প্রথম ইনিংস থেকে মাত্র ৭৯ রান পিছিয়ে মুমিনুল হকরা।

তামিমের ইকবালের হঠাৎ ব্যাটিংয়ে না নামা যতটা বিস্ময়কর ছিল, তার চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ব ফার্নান্ডোর কনকাশন নিয়ে। আগেরদিন ব্যাটিংয়ের সময় হেলমেটে বলের আঘাত পাওয়া শ্রীলংকার বা-হাতি পেসার বিশ্ব কাল হঠাৎ করেই মাঠ থেকে ছিটকে যান।

ধারাভাষ্যকাররাও তাতে অবাক। তার কনকাশন সাব হিসাবে একাদশে নেওয়া হয় আরেক পেসার কাসুন রাজিথাকে। বিশ্ব আঘাত পান আগেরদিন। এরপর মাঠে নেমে ব্যাটিং-বোলিংও করেছেন। কালও বোলিং করেছেন চার ওভার। এরমধ্যে মাঠে কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছাড়াই কনকাশন। বিশ্বর তুলনায় রাজিথা জোরে বল করতে পারেন। ফ্লাট উইকেটে তিনি বেশি কার্যকর। তাহলে কী ইনজুরির আড়ালে কৌশল কাজে লাগাল শ্রীলংকা? এ প্রসঙ্গে দিনের খেলা শেষে শ্রীলংকার প্রধান কোচ ক্রিস সিলভারউড জানালেন, এটা মেডিকেল বিভাগের বিষয়। অথচ সারাদিনে শ্রীলংকা যে তিন উইকেট নিতে পেরেছে তার দুটিই নিয়েছেন কাসুন রাজিথা। প্রশ্নটা তো বড় হবেই। আগেরদিন বাংলাদেশ যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকেই হলো শুরু। তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান উইকেটের সুবিধা দারুণ কাজে লাগিয়েছেন। টেস্টে পাঁচ বছর ও ৬১ ইনিংস পর শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেল বাংলাদেশ। এরআগে সবশেষ ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলংকার বিপক্ষেই গলে ১১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার। কাল তামিম ও মাহমুদুল উপহার দিলেন ১৬২ রানের জুটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টানা দুই ইনিংসে শূন্যতে আউট হয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। চট্টগ্রামে ফিরে পেলেন ফিফটি। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এরপরই জীবন পান। লং অফে সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি আসিথা ফার্নান্ডো।

প্রথম সেশন কোনো উইকেট না হারিয়েই শেষ করেন তামিম-মাহমুদুল। মধ্যাহ্ন বিরতির পর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন আসিথাই। তিনিই ফেরান মাহমুদুলকে (৫৮)। তার বিদায়ের পরপরই পেসার আসিথাকে পুল করে চার মেরে তামিম ইকবাল পৌঁছে গেলেন ৯৯ রানে। পরের বল লেগ সাইডে ঠেলে তিনি পা রাখলেন কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়, সেঞ্চুরি। ১৬২ বলে বাঁ-হাতি ওপেনার পূর্ণ করলেন ক্যারিয়ারের দশম টেস্ট সেঞ্চুরি। এরআগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি পান তিনি (১২৬)। তার চেয়ে সেঞ্চুরিতে এগিয়ে শুধু অধিনায়ক মুমিনুল হক (১১টি)। ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে এটি তার দ্বিতীয় শতক। তামিমের সেঞ্চুরির পরপরই বিদায় নেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১)। টানা ব্যর্থতায় আবারও ফর্ম নিয়ে প্রশ্নবোধক চিহ্ন তুললেন অধিনায়ক মুমিনুল (২)। দুজনেই রাজিথার গতিতে পরাস্থ হন। সেঞ্চুরির পর একবার আউট হয়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তামিম, এরপর স্লিপে তার কঠিন ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। দ্বিতীয় সেশনে ৬৩ রানে বাংলাদেশ হারায় তিন উইকেট। প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৮১ রান তোলে স্বাগতিকরা। এরপরই শেষ সেশনে মুশফিক ও লিটন দেখিয়েছেন বীরত্ব। রানের খোঁজে অবশেষে চট্টগ্রামেই নিজেকে ফিরে পেলেন মুশফিক। দুজনই শুরুতে ছিলেন বেশ সতর্ক, সময়ের সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়েছেন। সাকিব আল হাসানের সমান ২৬তম টেস্ট ফিফটির পর মুশফিক অপরাজিত ৫৩ রানে। ভাগ্যের ছোঁয়া কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন লিটন। ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট ফিফটিতে (৫৪*) দিন শেষ করেছেন। ৯৮ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকা দুজনের সামনেই এখন সেঞ্চুরির হাতছানি। বাংলাদেশের চোখ বড় লিডে। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন