ভোটে আসুন আওয়ামী লীগ ভোট কেড়ে নেবে না: প্রধানমন্ত্রী
jugantor
ভোটে আসুন আওয়ামী লীগ ভোট কেড়ে নেবে না: প্রধানমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোটে আসুন আওয়ামী লীগ ভোট কেড়ে নেবে না: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোটে পরাজিত হবে জেনেই তো তারা (বিএনপি) নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

কলুষিত করতে চায়। আর জ্ঞানী-গুণী আঁতেল, যারা উলটাপালটা কথা বলেন, তাদের বলব- দেশ চালানোর যদি ইচ্ছে থাকে, তাহলে মাঠে আসুন, ভোটে নামুন।

কেউ ভোট কেড়ে নেবে না। অন্তত আমরা ভোট কেড়ে নিতে জানি না। আমরা জনগণের ভোট পাই। আমরা ভোট পাব। কারণ আমরা জনগণের জন্য কাজ করি।

সেজন্যই জনগণ আমাদের ভোট দেবে। নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নতি পেয়েছে এবং মানুষ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দুস্থ নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন এতিমখানা ও অনাথ আশ্রমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির তো নেতৃত্বই নেই। সবই তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজাপ্রাপ্ত দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় না।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলের নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে, তাদের তো এ নিয়ে কথা বলার অধিকারই নেই। ঢাকা-১০ এ ফালু নির্বাচন করেছিল, সেই নির্বাচনের চিত্র নিশ্চয়ই সবার মনে আছে?

মাগুরার নির্বাচন! যে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে উৎখাত করা হয়। মিরপুরের নির্বাচন! তাদের সময় প্রত্যেকটা নির্বাচনের চিত্র আমরা দেখেছি। এছাড়া সাতাত্তরে হ্যাঁ, না।

আটাত্তরের রাষ্ট্রপতি, ঊনআশির সাধারণ নির্বাচন, একাশির নির্বাচন, প্রতিটি নির্বাচনই তো আমাদের দেখা। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি। সবই আমাদের সময়ে। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, আধুনিক প্রযুক্তি ইভিএম, নির্বাচনে মানুষ যাতে ভোট দেওয়ার অধিকার পায়, সেটাই তো সব থেকে বড়, সেটাই আমরা করতে চেয়েছি।

কাজেই এটা (নির্বাচন) নিয়ে তো তাদের প্রশ্ন তোলার অর্থই হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জেলজুলুম সহ্য করা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আন্দোলনের বিষয় তুলে ধরে বলেন, এরপর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।

সেদিন যদি দেশে ফিরে না আসতাম আর জেল না খাটতাম তাহলে হয়তো বাংলাদেশের জনগণের এত ভোট পেতাম না। এরপর আজ তিনবার পরপর সরকারে আছি।

তিনি বলেন, ইতিহাস তো মানুষ ভুলে যায়। আমিই তো অনেক কথা ভুলে যাচ্ছি। আজ ৪১ বছর। এই সময়ের চড়াই-উতরাই পার হয়েই কিন্তু এখানে আসতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে না পারলে দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয় না। কারণ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছিলাম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তার অধিকাংশই নষ্ট করে দেয়।

কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ! কেন? সেখানে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে, বিনা পয়সায় ওষুধ পাচ্ছে। এরা তো নৌকায় ভোট দেবে। ধানের শীষে দেবে না। এটা ছিল খালেদা জিয়ার যুক্তি। দিল বন্ধ করে।

একটি বাড়ি একটি খামার মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছিলাম, সেখানে কমিশন খেতে গিয়ে সেগুলো প্রায় বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার যখন আমরা ক্ষমতায় আসি সেই কাজগুলো শুরু করি।

যে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে তাকেই আমি করুণা ভিক্ষা দিয়েছি : সরকার গঠনের পরও কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) বারবার সরকার উৎখাতের উদ্যোগ নিয়েছে।

আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।

যা হোক কারাগার থেকে এখন বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি অসুস্থতার জন্য। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে বারবার তাকেই আমি এ করুণা ভিক্ষা দিয়েছি, সে এখন বাসায় থাকতে পারবে। এটা নির্বাহী আদেশেই দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। এর মধ্যে আমাদের কিছু নতুন আঁতেল জুটেছে।

একজন অর্থনীতিবিদ বলেই দিলেন-আমরা যে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি, সেটা নাকি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর! ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট শুরু করলাম অনেকে অনেক কথা বলেছে।

তিনি বলেন, তারা যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে এটা কিন্তু আমরাই দিচ্ছি। খালেদা জিয়ার সময়ে কথা বলার সুযোগও ছিল না, অধিকারও ছিল না।

বেসরকারি টেলিভিশন এত দিয়ে দিয়েছি, সারা দিনরাত টক শো করে। আমি মাঝে মধ্যে বলি- এত টক টক কথা না বলে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির এক নেতা তো মাইক মুখে লাগিয়েই আছে। সারাদিন কথা বলেই যাচ্ছে। কথা বলতে বলতে গলায় অসুখও হলো। চিকিৎসা করে সে আবার কথা বলছে।

কথা তো বন্ধ হচ্ছে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে অর্থনীতিবিদ হিসাব দেখালেন তাকে আমি বলব-তিনি কি এটা প্রকৃতপক্ষে জেনেই বলছেন, নাকি না জেনে বলছেন?

আমি তার জ্ঞান নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলব না। কারণ তারা অনেক ভালো খেলাপড়া জানে। বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাইরের লোকও দেখে কিন্তু তারা দেখে না। তিনি বলেন, আরেকটা হচ্ছে পদ্মা সেতু।

এর অর্থ বন্ধ করালেন ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে। যা আরও উচ্চ মানের।

কিন্তু সে এমডিই থাকবে। সেটা সে ছাড়বে না। কিন্তু বয়সে কুলায় না। ড. ইউনূস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। মামলায় সে হেরে যায়। কিন্তু এর প্রতিহিংসা নেয়।

আমরা যেটা শুনেছি, ড. ইউনূস, মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়, সেখানকার স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন একেবারে শেষ কর্মদিবসে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেন।

খালেদাকে পদ্মায় ফেলা আর ইউনূসকে চুবিয়ে তোলা উচিত : তাদের এই অপচেষ্টায় শাপে বর হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কারণ বাংলাদেশ যে নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেতুর কাজ তো হয়ে গেছে, এটা নিয়ে সমালোচনা করতে পারছে না। তাই তারা রেললাইন নিয়ে সমালোচনা করছে। আমার মনে হয় আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত।

রেললাইন যখন চালু হবে তখন উনাকে একদিন চড়ানো উচিত। আর খালেদা জিয়া বলেছিল-জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। ওখানে চললে নাকি ভেঙে পড়বে। তার সঙ্গে তার দোসররাও বলছে।

এখন তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করেছে, তাকেও পদ্মা সেতুতে দুটি চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত।

আবার মরে যেন না যায়। একটু পদ্মা নদীতে চুবানি দিয়ে আবার সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলেই যদি এদের শিক্ষা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রজেক্টগুলো করে নাকি খুব ভুল করছি। বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছি।

আমার তো আশঙ্কাই ছিল-২০২১ সাল পর্যন্ত। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। সেটা করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করি।

তারপরও যখন ক্ষমতায় আছি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আর যখন থাকব না তার পরিকল্পনাও আমি করে দিয়েছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে।

সেই আদর্শ নিয়েই আমাদের চলতে হবে। ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন পর মন খুলে কথা বললাম।’

এ সময় তিনি হেসে বলেন, ‘আসলে করোনাভাইরাস বন্দি করে রেখে দিয়েছে আমাকে।২০০৭ সালে ছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে বন্দি। এখন আমি নিজের হাতে নিজে বন্দি।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। অনুষ্ঠানে দুস্থ নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয় এবং এতিমখানা ও অনাথ আশ্রমগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক রিফুয়েলিং কেন্দ্র: বাসস জানায়, এর আগে প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

গণভবন থেকে ভার্যুয়ালি কক্সবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসাবে প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। এই বিমানবন্দর যখন সম্পন্ন হবে, তখন পশ্চিমা দেশগুলো থেকে প্রাচ্যে যাতায়াতকারী বিমানগুলো এখান থেকে রিফুয়েলিং করবে।

এর মাধ্যমে এটি একটি রিফুয়েলিং কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিফুয়েলিংয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে অগ্রাধিকার পায়।

একসময় হংকং ছিল, এরপর থাইল্যান্ড অথবা সিঙ্গাপুর, এখন দুবাই। কিন্তু এবার কক্সবাজারই হবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে রিফুয়েলিংয়ের একটা কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

সেজন্য আমি সবাইকে বিশেষ করে কক্সবাজারবাসীকে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি জানান, এখানে তার সরকার ক্রিকেট স্টেডিয়াম করেছে, ফুটবল স্টেডিয়ামও করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা আয়োজনের সব ধরনের ব্যবস্থা এখানে থাকবে।

মেরিন ড্রাইভ-যেটি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত করা হয়েছে, সেটা একেবারে চট্টগ্রাম পর্যন্ত করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বক্তৃতা করেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন। অতীতে জাতির পিতার সঙ্গে কক্সবাজার সফরকালে যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দোহাজারি থেকে গুনধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এবং চমৎকার একটি রেলস্টেশন নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের মতো কক্সবাজার পর্যন্ত হাইওয়ের কাজও চলছে। পাশাপাশি সিলেট থেকে কক্সবাজার সরাসরি বিমান চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমাদের অন্যান্য অঞ্চল যেমন বরিশাল, রাজশাহী, সৈয়দপুরসহ যত বিমানবন্দর রয়েছে, সেখান থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন স্থাপনসহ কক্সবাজার থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত স্থলসীমানা রক্ষায় বর্ডার গার্ডের জন্য নতুন নতুন ‘বিওপি’ প্রতিষ্ঠা এবং যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভোটে আসুন আওয়ামী লীগ ভোট কেড়ে নেবে না: প্রধানমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভোটে আসুন আওয়ামী লীগ ভোট কেড়ে নেবে না: প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -পিআইডি

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোটে পরাজিত হবে জেনেই তো তারা (বিএনপি) নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

কলুষিত করতে চায়। আর জ্ঞানী-গুণী আঁতেল, যারা উলটাপালটা কথা বলেন, তাদের বলব- দেশ চালানোর যদি ইচ্ছে থাকে, তাহলে মাঠে আসুন, ভোটে নামুন।

কেউ ভোট কেড়ে নেবে না। অন্তত আমরা ভোট কেড়ে নিতে জানি না। আমরা জনগণের ভোট পাই। আমরা ভোট পাব। কারণ আমরা জনগণের জন্য কাজ করি।

সেজন্যই জনগণ আমাদের ভোট দেবে। নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নতি পেয়েছে এবং মানুষ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। 

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ উপকমিটির পক্ষ থেকে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দুস্থ নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং বিভিন্ন এতিমখানা ও অনাথ আশ্রমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির তো নেতৃত্বই নেই। সবই তো সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সাজাপ্রাপ্ত দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় না।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলের নির্বাচনের ইতিহাস এতই কলুষিত যে, তাদের তো এ নিয়ে কথা বলার অধিকারই নেই। ঢাকা-১০ এ ফালু নির্বাচন করেছিল, সেই নির্বাচনের চিত্র নিশ্চয়ই সবার মনে আছে?

মাগুরার নির্বাচন! যে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে উৎখাত করা হয়। মিরপুরের নির্বাচন! তাদের সময় প্রত্যেকটা নির্বাচনের চিত্র আমরা দেখেছি। এছাড়া সাতাত্তরে হ্যাঁ, না।

আটাত্তরের রাষ্ট্রপতি, ঊনআশির সাধারণ নির্বাচন, একাশির নির্বাচন, প্রতিটি নির্বাচনই তো আমাদের দেখা। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। 

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যতটুকু উন্নতি আমরা করেছি। সবই আমাদের সময়ে। ছবিসহ ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, আধুনিক প্রযুক্তি ইভিএম, নির্বাচনে মানুষ যাতে ভোট দেওয়ার অধিকার পায়, সেটাই তো সব থেকে বড়, সেটাই আমরা করতে চেয়েছি।

কাজেই এটা (নির্বাচন) নিয়ে তো তাদের প্রশ্ন তোলার অর্থই হয় না। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে জেলজুলুম সহ্য করা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আন্দোলনের বিষয় তুলে ধরে বলেন, এরপর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে।

সেদিন যদি দেশে ফিরে না আসতাম আর জেল না খাটতাম তাহলে হয়তো বাংলাদেশের জনগণের এত ভোট পেতাম না। এরপর আজ তিনবার পরপর সরকারে আছি।

তিনি বলেন, ইতিহাস তো মানুষ ভুলে যায়। আমিই তো অনেক কথা ভুলে যাচ্ছি। আজ ৪১ বছর। এই সময়ের চড়াই-উতরাই পার হয়েই কিন্তু এখানে আসতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে না পারলে দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয় না। কারণ ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছিলাম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তার অধিকাংশই নষ্ট করে দেয়।

কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ! কেন? সেখানে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে, বিনা পয়সায় ওষুধ পাচ্ছে। এরা তো নৌকায় ভোট দেবে। ধানের শীষে দেবে না। এটা ছিল খালেদা জিয়ার যুক্তি। দিল বন্ধ করে।

একটি বাড়ি একটি খামার মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছিলাম, সেখানে কমিশন খেতে গিয়ে সেগুলো প্রায় বন্ধ করে দেয়। এরপর আবার যখন আমরা ক্ষমতায় আসি সেই কাজগুলো শুরু করি।

যে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে তাকেই আমি করুণা ভিক্ষা দিয়েছি : সরকার গঠনের পরও কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) বারবার সরকার উৎখাতের উদ্যোগ নিয়েছে।

আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাদের ডাকে জনগণ সাড়া দেয়নি। তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া।

যা হোক কারাগার থেকে এখন বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি অসুস্থতার জন্য। যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে বারবার তাকেই আমি এ করুণা ভিক্ষা দিয়েছি, সে এখন বাসায় থাকতে পারবে। এটা নির্বাহী আদেশেই দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। এর মধ্যে আমাদের কিছু নতুন আঁতেল জুটেছে।

একজন অর্থনীতিবিদ বলেই দিলেন-আমরা যে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছি, সেটা নাকি অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিকর! ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট শুরু করলাম অনেকে অনেক কথা বলেছে।

তিনি বলেন, তারা যে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে এটা কিন্তু আমরাই দিচ্ছি। খালেদা জিয়ার সময়ে কথা বলার সুযোগও ছিল না, অধিকারও ছিল না।

বেসরকারি টেলিভিশন এত দিয়ে দিয়েছি, সারা দিনরাত টক শো করে। আমি মাঝে মধ্যে বলি- এত টক টক কথা না বলে একটু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির এক নেতা তো মাইক মুখে লাগিয়েই আছে। সারাদিন কথা বলেই যাচ্ছে। কথা বলতে বলতে গলায় অসুখও হলো। চিকিৎসা করে সে আবার কথা বলছে।

কথা তো বন্ধ হচ্ছে না। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে যে অর্থনীতিবিদ হিসাব দেখালেন তাকে আমি বলব-তিনি কি এটা প্রকৃতপক্ষে জেনেই বলছেন, নাকি না জেনে বলছেন?

আমি তার জ্ঞান নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলব না। কারণ তারা অনেক ভালো খেলাপড়া জানে। বাংলাদেশের উন্নয়নটা বাইরের লোকও দেখে কিন্তু তারা দেখে না। তিনি বলেন, আরেকটা হচ্ছে পদ্মা সেতু।

এর অর্থ বন্ধ করালেন ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে। যা আরও উচ্চ মানের।

কিন্তু সে এমডিই থাকবে। সেটা সে ছাড়বে না। কিন্তু বয়সে কুলায় না। ড. ইউনূস কিন্তু আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। মামলায় সে হেরে যায়। কিন্তু এর প্রতিহিংসা নেয়।

আমরা যেটা শুনেছি, ড. ইউনূস, মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়, সেখানকার স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন একেবারে শেষ কর্মদিবসে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেন।

খালেদাকে পদ্মায় ফেলা আর ইউনূসকে চুবিয়ে তোলা উচিত : তাদের এই অপচেষ্টায় শাপে বর হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কারণ বাংলাদেশ যে নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেতুর কাজ তো হয়ে গেছে, এটা নিয়ে সমালোচনা করতে পারছে না। তাই তারা রেললাইন নিয়ে সমালোচনা করছে। আমার মনে হয় আমাদের সবার উনাকে চিনে রাখা উচিত।

রেললাইন যখন চালু হবে তখন উনাকে একদিন চড়ানো উচিত। আর খালেদা জিয়া বলেছিল-জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে। ওখানে চললে নাকি ভেঙে পড়বে। তার সঙ্গে তার দোসররাও বলছে।

এখন তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত। আর যিনি একটা এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করেছে, তাকেও পদ্মা সেতুতে দুটি চুবানি দিয়ে উঠিয়ে নেওয়া উচিত।

আবার মরে যেন না যায়। একটু পদ্মা নদীতে চুবানি দিয়ে আবার সেতুতে তুলে দেওয়া উচিত। তাহলেই যদি এদের শিক্ষা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেগা প্রজেক্টগুলো করে নাকি খুব ভুল করছি। বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করলেই তাদের গায়ে লাগে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যে স্তরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করেছি।

আমার তো আশঙ্কাই ছিল-২০২১ সাল পর্যন্ত। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। সেটা করতে পেরেছি। আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করি।

তারপরও যখন ক্ষমতায় আছি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আর যখন থাকব না তার পরিকল্পনাও আমি করে দিয়েছি। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে।

সেই আদর্শ নিয়েই আমাদের চলতে হবে। ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন পর মন খুলে কথা বললাম।’

এ সময় তিনি হেসে বলেন, ‘আসলে করোনাভাইরাস বন্দি করে রেখে দিয়েছে আমাকে। ২০০৭ সালে ছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে বন্দি। এখন আমি নিজের হাতে নিজে বন্দি।’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। অনুষ্ঠানে দুস্থ নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয় এবং এতিমখানা ও অনাথ আশ্রমগুলোর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক রিফুয়েলিং কেন্দ্র: বাসস জানায়, এর আগে প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

গণভবন থেকে ভার্যুয়ালি কক্সবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসাবে প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। এই বিমানবন্দর যখন সম্পন্ন হবে, তখন পশ্চিমা দেশগুলো থেকে প্রাচ্যে যাতায়াতকারী বিমানগুলো এখান থেকে রিফুয়েলিং করবে।

এর মাধ্যমে এটি একটি রিফুয়েলিং কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিফুয়েলিংয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময়ে অগ্রাধিকার পায়।

একসময় হংকং ছিল, এরপর থাইল্যান্ড অথবা সিঙ্গাপুর, এখন দুবাই। কিন্তু এবার কক্সবাজারই হবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে রিফুয়েলিংয়ের একটা কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

সেজন্য আমি সবাইকে বিশেষ করে কক্সবাজারবাসীকে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি জানান, এখানে তার সরকার ক্রিকেট স্টেডিয়াম করেছে, ফুটবল স্টেডিয়ামও করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা আয়োজনের সব ধরনের ব্যবস্থা এখানে থাকবে।

মেরিন ড্রাইভ-যেটি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত করা হয়েছে, সেটা একেবারে চট্টগ্রাম পর্যন্ত করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বক্তৃতা করেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ স্বাগত বক্তৃতা করেন। অতীতে জাতির পিতার সঙ্গে কক্সবাজার সফরকালে যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দোহাজারি থেকে গুনধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এবং চমৎকার একটি রেলস্টেশন নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের মতো কক্সবাজার পর্যন্ত হাইওয়ের কাজও চলছে। পাশাপাশি সিলেট থেকে কক্সবাজার সরাসরি বিমান চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমাদের অন্যান্য অঞ্চল যেমন বরিশাল, রাজশাহী, সৈয়দপুরসহ যত বিমানবন্দর রয়েছে, সেখান থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন স্থাপনসহ কক্সবাজার থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত স্থলসীমানা রক্ষায় বর্ডার গার্ডের জন্য নতুন নতুন ‘বিওপি’ প্রতিষ্ঠা এবং যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন