বন্যার পানিতে সিলেটে দুর্বিষহ জীবন
jugantor
বন্যার পানিতে সিলেটে দুর্বিষহ জীবন
বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও খাবারের সংকট * আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ-গরু একসঙ্গে বসবাস

  যুগান্তর ডেস্ক   

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যার পানিতে সিলেটে দুর্বিষহ জীবন

বন্যার পানিতে সিলেটে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও খাবারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ ও গরু একসঙ্গে বসবাস করছে।

সিলেটের নদ-নদীর পানি বুধবার আরও বেড়েছে। পানি বাড়ছে নগরীতেও। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ভোগও।

বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর কোথাও কোথাও পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও কোনো কোনো উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুল হককে সঙ্গে নিয়ে সিলেট নগরীর বন্যাদুর্গত এলাকায় ঝটিকা সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত কম থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।

সিলেট অঞ্চলে চলমান বন্যা এক সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে দেশের ভেতরে ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে।

এটি আশার আলো জাগাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এ তথ্য জানিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে রয়েছে। উজানের ঢলে হুহু করে কুশিয়ারা-সুরমা নদীর পানি বাড়ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, বন্যার কারণে মহানগরীসহ সিলেট জেলার সাড়ে ৫শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারিভাবে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা বন্ধের কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি।

এদিকে সিলেট জেলায় ১৯৯টি ও নগরে ১৭টি বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের উপদ্রবও দেখা গেছে। গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে আছেন কৃষক।

কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক জায়গায় নদী ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এফএফডবিব্লউসি জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চল আপার মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি সমতলে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী তথা সুরমা, কুশিয়ারা, ভোগাই-কংস, ধনু-বাউলাই, মনু, খোয়াই ও মুহুরীর পানি সমতলে কয়েকটি পয়েন্টে সময়বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

বর্তমানে সুরমা তিনটি আর কুশিয়ারা দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপৎসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার, সিলেটে ৪২ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আর কুশিয়ারার পানি অমলশীদে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার ও শেওলা স্টেশনে ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে দেশের ভেতরে ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে।

এফএফডব্লিউসি বলছে, ভারতের উল্লিখিত রাজ্যগুলোতে বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আরও ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন বলেন, সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারা খনন জরুরি। দুটি নদীরই তলদেশ ভরাট হয়েছে। আমরা নদী খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে। আগে নদীর পানি আটকে থাকত না। এখন সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করেছি। হাওড়গুলো ভরাট করে করেছি হাউজিং তাই এই দুর্যোগ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক বলেন, সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। ত্রাণের কোনো অভাব নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। মন্ত্রীরা বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. কামরুল হাসান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান প্রমুখ। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সুরমা তীরবর্তী সিলেটের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র কালিঘাট, শাহচট রোডের চালের আড়ত। শত শত দোকান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা হয়েছে। সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন বলেন, কালিঘাটের ৩-৪শ দোকান ও গোডাউন পানিতে ডুবে গেছে এবং কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জিয়া উদ্দিন বলেন, শত শত দোকান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অপরদিকে সিলেট জেলা বিএনপি কানাইঘাট খেয়াঘাটে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

জকিগঞ্জ (সিলেট) : জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছেন প্রায় সব ইউপির মানুষ। মঙ্গলবার রাতে নতুন করে ভেঙে গেছে জকিগঞ্জ সদর ইউপির কুশিয়ারা নদীর ডাইক, বিরশ্রী ইউপির সুপ্রাকান্দী গ্রামের ডাইক। পুরো উপজেলায় প্রায় অর্ধলাখের বেশি মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ : জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানিতে জেলার ছাতক ও তাহিরপুর উপজেলার সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে এ দুটি উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর তীর উপচে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যবাজার, তেঘরিয়া, উকিলপাড়া, সাহেববাড়ি, নবীনগর, বড়পাড়া, জলিলপুর, মল্লিকপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করলেও রাতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব এলাকায় পানি কিছুটা কমেছে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) : গ্রামীণ সড়ক বন্যা প্লাবিত হওয়ায় ১৮টি সড়ক ও উপজেলা সদরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ছাতক-সিলেট সড়ক । ছাতকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি বন্যাদুর্গতদের মাঝে চিঁড়া, মুড়ি, গুড়সহ শুকনো খাবার সামগ্রী বিতরণ করেছেন এমপি মানিক।

বন্যার পানিতে সিলেটে দুর্বিষহ জীবন

বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও খাবারের সংকট * আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ-গরু একসঙ্গে বসবাস
 যুগান্তর ডেস্ক  
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বন্যার পানিতে সিলেটে দুর্বিষহ জীবন
পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদী উপচে তলিয়ে গেছে সিলেটের রাস্তাঘাট। উপশহর আবাসিক এলাকার সড়কে চলছে ভেলা। বুধবার তোলা -যুগান্তর

বন্যার পানিতে সিলেটে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও খাবারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ ও গরু একসঙ্গে বসবাস করছে।

সিলেটের নদ-নদীর পানি বুধবার আরও বেড়েছে। পানি বাড়ছে নগরীতেও। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ভোগও।

বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর কোথাও কোথাও পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও কোনো কোনো উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুল হককে সঙ্গে নিয়ে সিলেট নগরীর বন্যাদুর্গত এলাকায় ঝটিকা সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত কম থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হচ্ছে।

সিলেট অঞ্চলে চলমান বন্যা এক সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তবে দেশের ভেতরে ও ভারতের পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে।

এটি আশার আলো জাগাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এ তথ্য জানিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে রয়েছে। উজানের ঢলে হুহু করে কুশিয়ারা-সুরমা নদীর পানি বাড়ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, বন্যার কারণে মহানগরীসহ সিলেট জেলার সাড়ে ৫শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে সরকারিভাবে স্কুল-কলেজ-মাদরাসা বন্ধের কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি।

এদিকে সিলেট জেলায় ১৯৯টি ও নগরে ১৭টি বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের উপদ্রবও দেখা গেছে। গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে আছেন কৃষক।

কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক জায়গায় নদী ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এফএফডবিব্লউসি জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চল আপার মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি সমতলে বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী তথা সুরমা, কুশিয়ারা, ভোগাই-কংস, ধনু-বাউলাই, মনু, খোয়াই ও মুহুরীর পানি সমতলে কয়েকটি পয়েন্টে সময়বিশেষে দ্রুত বাড়তে পারে।

বর্তমানে সুরমা তিনটি আর কুশিয়ারা দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপৎসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার, সিলেটে ৪২ সেন্টিমিটার ও সুনামগঞ্জে ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আর কুশিয়ারার পানি অমলশীদে বিপৎসীমার ১৫৮ সেন্টিমিটার ও শেওলা স্টেশনে ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে দেশের ভেতরে ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমেছে।

এফএফডব্লিউসি বলছে, ভারতের উল্লিখিত রাজ্যগুলোতে বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আরও ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। 

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিলেট : বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে আব্দুল মোমেন বলেন, সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারা খনন জরুরি। দুটি নদীরই তলদেশ ভরাট হয়েছে। আমরা নদী খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। আগামী বর্ষার আগেই নদীগুলো খনন করতে হবে। আগে নদীর পানি আটকে থাকত না। এখন সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং করেছি। হাওড়গুলো ভরাট করে করেছি হাউজিং তাই এই দুর্যোগ। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুল হক বলেন, সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। ত্রাণের কোনো অভাব নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে। মন্ত্রীরা বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. কামরুল হাসান, সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান প্রমুখ। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সুরমা তীরবর্তী সিলেটের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র কালিঘাট, শাহচট রোডের চালের আড়ত। শত শত দোকান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা হয়েছে। সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন বলেন, কালিঘাটের ৩-৪শ দোকান ও গোডাউন পানিতে ডুবে গেছে এবং কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জিয়া উদ্দিন বলেন, শত শত দোকান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অপরদিকে সিলেট জেলা বিএনপি কানাইঘাট খেয়াঘাটে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। 

জকিগঞ্জ (সিলেট) : জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছেন প্রায় সব ইউপির মানুষ। মঙ্গলবার রাতে নতুন করে ভেঙে গেছে জকিগঞ্জ সদর ইউপির কুশিয়ারা নদীর ডাইক, বিরশ্রী ইউপির সুপ্রাকান্দী গ্রামের ডাইক। পুরো উপজেলায় প্রায় অর্ধলাখের বেশি মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। 

সুনামগঞ্জ : জেলায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যার পানিতে জেলার ছাতক ও তাহিরপুর উপজেলার সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে এ দুটি উপজেলার সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে। ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে সুরমা নদীর তীর উপচে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহরের মধ্যবাজার, তেঘরিয়া, উকিলপাড়া, সাহেববাড়ি, নবীনগর, বড়পাড়া, জলিলপুর, মল্লিকপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করলেও রাতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এসব এলাকায় পানি কিছুটা কমেছে।

ছাতক (সুনামগঞ্জ) : গ্রামীণ সড়ক বন্যা প্লাবিত হওয়ায় ১৮টি সড়ক ও উপজেলা সদরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ছাতক-সিলেট সড়ক । ছাতকে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি দেখার পাশাপাশি বন্যাদুর্গতদের মাঝে চিঁড়া, মুড়ি, গুড়সহ শুকনো খাবার সামগ্রী বিতরণ করেছেন এমপি মানিক।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন